তীব্র তাপদাহ উপেক্ষা করে খুলনায় জমজমাট ঈদবাজার

0
435

এম জে ফরাজী : জ্যৈষ্ঠ মাস শেষ হতে চললেও খুলনায় দেখা মেলেনি কাঙ্খিত বৃষ্টির। শনিবার সন্ধ্যার পর মিনিট দশেক বৃষ্টি হলেও তা মানুষের মন ভরাতে পারেনি। আর বৃষ্টি না হওয়ায় তীব্র তাপদাহে পুড়ছে খুলনার মানুষ। বেশ কয়েকদিন ধরে তাপমাত্রা ৩৫-৩৮ ডিগ্রি চলছে। এর ফলে ওষ্ঠাগত হয়ে উঠছে প্রাত্যাহিক জীবন। কিন্তু এই তীব্র তাপদাহের মধ্যেই চলছে ঈদের কেনাকাটা। ফুটপাথ থেকে শুরু করে অভিজাত মার্কেটগুলোতে ক্রেতাদের উপচে পড়া ভীড় চোখে পড়ার মতো।
সরেজমিনে দেখা গেছে, নগরীর কেডিএ নিউমার্কেট, জলিল সুপার মার্কেট, খুলনা শপিং কমপ্লেক্স, রেলওয়ে মার্কেট, ডাকবাংলা মোড়, দরবেশ চেম্বার, এস এম রব সুপার মার্কেট, আক্তার চেম্বার, এশা চেম্বার, আড়ং, সেফ এন সেভ, চিত্রালী বাজার, দৌলতপুর বাজারের ফুটপাথ থেকে শুরু করে মূল দোকানের ভেতরে কোথাও যেন পা ফেলার জায়গা নেই। সব স্থানেই মানুষ আর মানুষ।
দোকানীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, এবার ঈদে খুলনার তরুণীদের সবচেয়ে বেশি পছন্দ ঢালি, দোপাট্টা, ফ্লোর টাচ, টু পিস ও থ্রি পিস, ভারতীয় লং থ্রি পিস জিনাম, গঙ্গা, বিনয় ফ্যাশন, ইস্তা, দিল্লি বুটিকস প্রভৃতি। আর তরুণ ও যুবকদের পছন্দের শীর্ষে বরাবরের মতো জিন্স প্যান্ট ও শার্টের সাথে এবারও রয়েছে সুতির পাঞ্জাবি। আর নারীদের পছন্দ চিরচেনা বাহারি রঙের শাড়ি।
সরেজমিনে একাধিক মার্কেট ঘুরে দেখা গেছে, বাহারি রঙের বৈচিত্র্যময় পোশাকে দোকানগুলো সাজিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। একেক পোশাকের একেক নাম দেওয়া হয়েছে। ক্রেতাদের বেশিরভাগই কিশোর-কিশোরী ও তরুণ-তরুণী। কেনাকাটা নির্বিঘœ করতে পুলিশের পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা। মার্কেটগুলোতে রয়েছে পুলিশি টহল। ঈদের কেনাকাটা করতে আসা মানুষদের কারণে মার্কেট এলাকাতে তীব্র যানজট লেগেই আছে।
প্রতি বছরের ঈদ মার্কেটে হিন্দি সিনেমা ও সিরিয়ালের নাম অনুসারে ভারতীয় পোশাকগুলো বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠলেও এবার তার কিছুটা ব্যতিক্রম হয়েছে। হিন্দি সিনেমার নাম অনুসারে ভারতীয় পোশাকগুলো নেই বললেই চলে। গরমে সুতি কাপড়ের পোশাক দেহে ও মনে স্বস্তি এনে দেয়। এ কারণে সুতি কাপড়ের চাহিদা অন্য কাপড়ের চেয়েও তুলনামূলক বেশি বলে জানান দোকানিরা।
নগরীর আযমখান সরকারি কমার্স কলেজের শিক্ষার্থী শারমিন শিকদার শান বলেন, ঈদকে কেন্দ্র করে মার্কেটগুলোতে দোকানীরা নিজেদের ইচ্ছেমতো দাম নিচ্ছেন। এ রকম পরিস্থিতিতে সবচেয়ে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে আমাদের মতো মধ্যবিত্তদের। ফলে বেশি দামেই পোষাক কিনতে হচ্ছে।
শিশু শিক্ষার্থী মাহিনুর ফরাজীর সাথে কথা হলে সে জানায়, ঈদে নতুন ফোরাক কিনে সে ব্যাপক খুশি। নিজের পছন্দ মতো পোষাক পেয়ে আনন্দিত ও উৎফুল্লিত।
এ বিষয়ে ব্যবসায়ীরা জানান, এতদিন যা বিক্রি কিছুটা কম হলেও এখন বেশ ভালো বিক্রি হচ্ছে। দোকানভাড়া ও আনুষঙ্গিক খরচ বেশি হওয়ায় পোশাকের দামও একটু বেশি ধরা হয়। আর বিভিন্ন মার্কেটের ধরণ অনুযায়ী একেক রকম দাম নেওয়া হচ্ছে।