তালায় নিজের জমিতে ঘের তৈরীতে বাঁধা, থানায় অভিযোগ!

0
145

তালা প্রতিনিধি:
সাতক্ষীরার তালার কাজিগাঙ্গা গ্রামে নিজের জমিতে ঘেরের ভেড়ীবাঁধ তৈরী করতে পারছেন না সামাদ মুন্সী (৬৫)। তিনি ওই গ্রামের মৃত্য জবেদ মুন্সীর ছেলে। নিজের জমিতে বাঁধ দিতে গেলে ঘের ব্যবসায়ী জামায়াত ক্যাডার কেশবপুরের সাবেক চেয়ারম্যান মঞ্জুর ও তার পৌষ্য গু-াবহিনী বাঁধা দিচ্ছে এবং তালা থানায় জমির মলিকের বিরুদ্ধেই লিখিত অভিযোগ করেছেন বলে জানা গেছে।
সরেজমিন পরিদর্শনে গেলে দেখা যায়, সামাদ মুন্সী নিজের জমিতে ভেঁড়ী বাঁধ দেয়ার জন্য ২ টি স্কেভেটর ভাড়া করে জমিতে কাজ না করে বসিয়ে রেখেছেন। মাটি কাঁটার জন্য আসা কর্মচারীরা অলস সময় পার করছেন এসময়। এলাকার আমজাদ মুন্সী (৫৫), আলতাফ মুন্সী (৬৭), শাহাজান খান (৪৫), বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রশিদ মুন্সি (৭৮), মিজানুর রহমান খান (৪১) ও সাদেক আলী (৪৮) বলেন, তালার ইসলামকাটি ইউনিয়নের কাজীডাঙ্গা, ভবানীপুর, ঘোনা, নারায়নপুর, ঢ্যামশাখোলা ও গোনডাঙ্গা গ্রামের মধ্য চল্লিশার বিলে দীর্ঘদিন যাবৎ ঘের করে মাছ চাষ করেন কেশবপুরের কালাগাছির সাবেক চেয়ারম্যান মঞ্জুর। এই ঘেরের চারিপাশে সরকারী কাঁচাপাঁকা রাস্তা থাকলেও সরকারী বিধিমালার তোয়াক্কা না করে সম্পূর্ণ অবৈধভাবে কোনো রিং ভেড়ী না দিয়েই গায়ের জোরে এলাকার দালাল চক্র ও গু-াবাহিনীকে কাজে লাগিয়ে মাছ চাষ করছেন তিনি। তারা বলেন, বৃহস্পতিবার (১০ জুন) বিকালে সামাদ মুন্সী তার পৈত্রিক জমিতে ঘেরের ভেঁড়ী বাঁধ দেয়ার জন্য ২ টি স্কেভেটর ভাড়া মাটি কাঁটা শুরু করেন।

এসময় কোনো কারণ ছাড়ায় মঞ্জু চেয়ারম্যান’র চেলা গু-া বাহিনীর প্রধান কেশবপুরের ভেরচী গ্রামের সন্ত্রাসী জাহিদ তালা থানায় লিখিত মিথ্যা অভিযোগ করলে পুলিশ মাটি কাঁটা বন্ধ করে দিয়ে পরের দিন সকাল ১০ টায় থানায় আলোচনার সময় দেন।

সে অনুযায়ী শুক্রবার (১১ জুন) সকালে থানায় ওসি (তদন্ত) আবুল কালাম আজাদ’র কক্ষে তিনি ও অফিসার ইনচার্জ মেহেদী রাসেল’র উপস্থিতিতে সিদ্ধান্ত হয় উভয় পক্ষ শান্তি শৃঙ্খলা বাজায় রাখবে এবং কেউ কোনো কাজ করতে পারবে না। শনিবার (১২ জুন) সকালে থানা পুলিশ তদন্ত করে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। কিন্তু সাবেক জামায়াত ক্যাডার মজ্ঞু সে সিদ্ধান্ত কে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে সম্পূর্ণ গাঁয়ের জোরে গু-া বাহিনীর মাধ্যমে ওই দিনই ৪ টি স্যালো মেশিন দিয়ে ঘেরে পানি উঠাচ্ছেন (ভিডিও সংরক্ষিত)।

ভূক্তভোগী সামাদ মুন্সী বলেন, কেশবপুরের সাবেক চেয়ারম্যান মজ্ঞু দীর্ঘদিন যাবৎ এই বিলে ঘের করলেও কোনো ভেড়ী বাঁধ দেয় না। ফলে বর্ষা মৌশুমে এই এলাকার বাড়িঘর সহ আমার বাড়িঘরে ও আমাদের কবর স্থানে পানি উঠে যায়। গত বর্ষা মৌশুমে ছোট ভাই মারা গেলে উঠানে কবর দিতে হয়েছে। ডিটের মেয়াদ শেষ হওয়ায় আমি এবছর নিজেই ঘের করার চেষ্টা করছি। তিনি বলেন, আমার পৈত্রিক জমিতে ঘের করতে গেলে মঞ্জু পুলিশ দিয়ে হয়রানি করছে। নিজের জমিতে ঘের করতে দিচ্ছে না তারা।

তালা থানা ওসি (তদন্ত) আবুল কালাম আজাদ বলেন, থানায় উভয় পক্ষের সাথে আলোচানা শেষে সিদ্ধান্ত হয়েছিল যে যে অবস্থায় আছে সে অবস্থায় থাকবে। আগামীকাল সরেজমিনে দেখে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। আপনার সাথে কথা হওয়ার পরেও তারা পানি উঠানো বন্ধ না করার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা সগ্ধ্যা খা বাবলী বলেন, কোনো ঘেরের পাশে যদি সরকারী রাস্তা বা কোনো স্থাপনা থাকে তাহলে অবশ্যই রিং বাঁধ দিতে হবে। না হলে তিনি ঘের করতে পারবেন না। চল্লিশা বিলে বাঁধ না দিয়ে ঘের করা হচ্ছে বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এমন কোনো বিষয় আমার জানা নেই। যদি কোনো অভিযোগ আসে উর্দ্ধতন কর্মকর্তার সাথে আলোচনা করে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

খুলনা টাইমস/এমআইআর