তালার ইউপি সদস্য আসাদুলের বিরুদ্ধে সরকারি রাস্তার বৃক্ষ নিধনের অভিযোগ

0
388

সেলিম হায়দার : খুলনা-পাইকগাছা সড়কের তালার শাহাপুর ভায়ড়া এলাকা থেকে ইউপি সদস্যের মদদে সরকারি গাছ কেটে বিক্রি করে দিয়েছেন স্থানীয় হায়দার নামের এক ব্যক্তি। বিষয়টি জানাজানি হওয়ায় সামাল দিতে তারা বলছেন, গাছটি কেটে মসজিদে দেয়া হয়েছে। তবে সরকারি রাস্তার গাছ কেটে মসজিদে দেয়ার বৈধতা নিয়েও উঠেছে প্রশ্ন। সর্বশেষ এনিয়ে পত্রিকান্তে খবর প্রকাশে মেম্বর ও তহশীলদারের মধ্যে রফা হলেও বিষয়টির সূরাহা হয়নি। ঘটনায় এলাকাময় জনমনে ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।
অভিযোগে জানা গেছে, তালা সদর ইউনিয়নের ৬ নং ওয়ার্ডের স্থানীয় ইউপি সদস্য আসাদুল ইসলাম’র প্রত্যক্ষ মদদে তার সহযোগী মৃত বেলায়েত আলীর ছেলে হায়দার আলী পাইকগাছা-খুলনা প্রধান সড়কের শাহাপুর ভায়ড়া এলাকা থেকে ৪ হাজার টাকায় একটি বাবলা গাছ কেটে বিক্রি করে দেন। এনিয়ে এলাকায় প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হলে বিষয়টি সামাল দিতে তিনি গাছ বিক্রির টাকা থেকে ১৭ শ’ টাকা মসজিদে দান করেছেন বলে তারা জানান। এদিকে স্থানীয়রা উক্ত গাছ বিক্রির টাকা মসজিদে দান করার বিষয়টিকে ভিন্ন চোখে দেখছেন। তারা বলছেন,কেউ তাদের সরকারি গাছ কেটে তার অংশ বিশেষ মসজিদে দিতে বলেনি। এমনকি এর বৈধতা নিয়েও রীতিমত তারা প্রশ্ন তুলেছেন। এর আগে ৭ এপ্রিল ঐ ইউপি সদস্যের মদদে ভায়ড়া এলাকা থেকে স্থানীয় এলাকার আব্দুস সাত্তার গোলদার অনুরুপ মসজিদের কথা বলে সরকারি রাস্তার ৭টি মেহগনি গাছ কেটে বিক্রি করে দেন। যার আনুমানিক মূল্য প্রায় ৪০ হাজার টাকা। প্রসঙ্গত, সরকারি রাস্তার গাছ কাটার অপরাধে এর আগে উক্ত সাত্তারকে থানা পুলিশ গ্রেফতার করলেও সংশ্লিষ্ট মেম্বর মোটা অংকের টাকা রফার বিনিময়ে তাকে ছাড়িয়ে আনেন।
অন্যদিকে ইউপি সদস্য আসাদুল ইসলাম বিভিন্ন সময় বিভিন্ন মসজিদের কথা বলে সরকারি রাস্তার গাছ কেটে বিক্রি করার ঘটনায় স্থানীয় মুসল্লীদের মধ্যেও প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। তাদের দাবি একের পর এক ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের নামে গাছ কেটে তা হালাল করতে মসজিদের নাম প্রচার করায় চক্রটি প্রতিষ্ঠানগুলিকে রীতিমত বিতর্কিত করছেন। তারা সম্মিলিতভাবে এর প্রতিবাদ জানান।
সূত্র জানায়,আসাদুল ইসলাম ইউপি সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে এর আগেও তালা-আগড় ঝাড়া ভায়া জাতপুর সড়কের একাধিক বড় বড় গাছ কেটে নিজে আতœসাৎ করেছেন। এসংক্রান্ত ব্যাপারে বিভিন্ন সময় স্থানীয় তহশীলদার সহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে অভিযোগ হলেও এখন পর্যন্ত কেউ তার বিরুদ্ধে কোন প্রকার পদক্ষেপ নেয়নি। এলাকাবাসী জানান,তহশীলদার আব্দুল মজিদ প্রতিটি ঘটনায় অর্থের বিনিময়ে রফা করে নেন। এছাড়া তিনি যোগদানের পর থেকে তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন বিষয়ে দূর্নীতি,অনিয়মের অভিযোগ চলে আসছে।
সর্বশেষ সংশ্লিষ্ট ইউপি সদস্য আসাদুলের কাছে মুঠোফোনে এবিষয়ে জানতে চাইলে তিনি সাংবাদিকদের বলেন,বিষয়টি চেপে যান। গাছ কাটার বিষয়ে তালা সদর ইউনিয়ন অফিসের তহশীলদার আব্দুল মজিদ বলেন,তিনি কোন গাছ কাটার জন্য কাউকে অনুমতি দেননি বা দিতে পারেননা।