তাপপ্রবাহে জ্বলছে জনজীবন

0
413

কামরুল হোসেন মনি:
গত কয়েকদিনে তাপমাত্রা কেবলই ওপরের দিকে উঠছে। তাপমাত্রার পারদ যেন কোনভাবেই কমছে না। এ রকম পরিস্থিতিকে আবহাওয়াবিদের ভাষ্য মতে খুলনায় মৃদু তাপপ্রাবহ বইছে। এতে জ্বলছে এ অঞ্চলের জনজীবন। ঘর থেকে বাইরে পা দিলেই মনে হয়, আগুনের দমকা হাওয়া গায়ে এসে পড়ছে। রোজাদাররা হাসফাঁস করছেন, প্রয়োজন ছাড়া কেউ বের হতে চাচ্ছেন না। গত তিনদিনে ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেয়েছে।
খুলনা আবহাওয়া অফিস জানায়, শুক্রবার বেলা ৩টায় খুলনাতে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস আর সর্বনি¤œ ২৭ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এর আগের দিন ৭ জুন সর্বোচ্চ তাপমাত্রা একই ছিলো আর সর্বনি¤œ ছিলো ২৭ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। গত ৫ জুনের পর থেকে তাপমাত্রা বেড়েছে দুই ডিগ্রি সেলসিয়াস ওই দিন সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৩৪ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস আর সর্বোনি¤œ ছিলো ২৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস এর পরের দিন ৬ জুন থেকে তাপমাত্রা বেড়ে গিয়ে দাঁড়ায় ৩৫ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস আর সর্বনি¤œ ছিলো ২৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আগামী ২-১ দিনের মধ্যে বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে বলে আবহাওয়াবিদরা জানান।
আবহাওয়া অফিসের আবহাওয়াবিদ আমীরুল আজাদ বলেন, ৩৬ ডিগ্রি তাপমাত্রা অতিক্রম করে গেলে আমরা এটিকে মৃদু তাপপ্রবাহ বলে থাকি। এখন খুলনাঞ্চলে মৃদু তাপপ্রবাহ বইছে। অন্য কিছু অঞ্চলে বৃষ্টি হলেও এখানে না হওয়ায় তাপদাহের এ পরিস্থিতি। বৃষ্টি হলেই এই পরিস্থিতি আর থাকবে না উল্লেখ করে বলেন, আগামী ২-১ দিনের মধ্যে বৃষ্টির সম্ভাবনা দেখা দিচ্ছে।
খুলনাঞ্চলে এ মৃদু তাপপ্রবাহ চলমান থাকায় মানুষের পাশাপাশি পশু-পাখিও হাসফাঁস করছে। গরমের থেকে একটু পরিত্রাণ পেতে শিশু-কিশোররা পুকুর, নদী-নালাতে দাপাদাপি করছে। পথচারিরা কলের পানিতে মাথা মুখ ভিজিয়ে শীতল হওয়ার বৃথা চেষ্টা করছেন, কলেও গরম পানি বের হচ্ছে।
নগরীর সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সূত্রে জানা যায়, হঠাৎ এই তীব্র গরমে গত সপ্তাহের তুলনায় রোগীর চাপ বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে ডায়রিয়া, সর্দি, জ্বর কাশি ও পেটের পীড়ায় আক্রান্ত হওয়া রোগীরা বেশি আসছেন।
খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন ইউনিট-৩ এর রেজিস্ট্রার ডাঃ কাজী রফিকুল ইসলাম রফিক বলেন, তাপমাত্রা বৃদ্ধি থাকায় রোজাদার ব্যক্তিদের শরবত, স্যালাইন বা ডাব ও বিশুদ্ধ পানি বেশি বেশি করে খাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। এছাড়া ভাজাপোড়া যতদূর সম্ভব এড়িয়ে যাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন। তাপমাত্রা বাড়ায় ডায়রিয়া, জ্বর, সর্দি-কাশিসহ বিভিন্ন উপসর্গে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। এসবে বয়স্কদের পাশাপাশি শিশুরাই বেশি আক্রান্ত হচ্ছে।
শেখ আব্দুর রহমান জানান, বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে সেহরী খাওয়ার সময় তিনি দুধ-আম দিয়ে ভাত খাওয়ার কয়েক মিনিটের মধ্যে তার একাধিকবার পাতলা পায়খানা হয়, তেমনই পেটে প্রচ- ব্যথা। ওই দিন রাতেই তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরের দিন সকালে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এখন ডায়রিয়া কমলেও খাওয়ার কোন রুচি পাচ্ছেন না।