তত্ত্বাবধায়ক শিশু বিভাগ’র সমস্যা সমাধানে সকলের সহযোগিতা চাইলেন

0
602

ফুলবাড়ীগেট (খুলনা) প্রতিনিধিঃ
দক্ষিন পশ্চিমাঞ্চলের হাজার হাজার  মানুষের চিকিৎসার একমাত্র  নির্ভরযোগ্য প্রতিষ্ঠান, খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু বিভাগে বেড সংকট চরমে এবং নিওনেটাল  ওয়ার্ডের অবস্থা ভয়াবহ। চিকিৎসা সেবা ব্যাহত সংবাদ প্রকাশের পর মঙ্গলবার হাসপাতালের শিশু বিভাগ পরিদর্শন করেন হাসপাতালের তত্ত¡াবধায়ক ডাঃ এটি এম এম মোর্শেদ।
বর্তমানে আবহওয়া পরিবর্তন এবং শীত শুরু হওয়ায় শিশুদের ঠান্ডা জনিত রোগ বৃদ্ধি পাওয়ায় প্রতিদিন নতুন নতুন রোগি ভর্তি হওয়ায় ওয়ার্ডের বেড ছাড়িয়ে ফ্লোরে চিকিৎসা নিচ্ছে বহু শিশু । গত দুই দিনে ওয়ার্ডের মাত্র ৪৮টি বেডে ভর্তি হয়েছে প্রায় ৮০/৯০ জন রোগি এর মধ্যে নিউমনিয়ায় আক্রান্ত রোগি ৩০টি মতো। আবহওয়া পরিবর্তন হয়ে শীত আসায় প্রতিনিয়ত ঠান্ডা জনিত কারণে বিভিন্ন রোগি ভর্তি হতে যায়। শিশু বিভাগের ১৩/১৪ নং ওয়ার্ডের অধিকাংশ জ¦ানালা এবং গøাস ভাঙ্গা থাকায় অসুস্থ শিশু রোগিরা আরো দুর্ভোগে পড়ছে। সরেজমিনে দেখা যায় বাতাস থেকে রক্ষা পেতে তারা জ¦ানালায় কাপুড় টানিয়ে রেখেছে। জ¦ানালা ভাঙ্গার কারণে শিশুরা নতুন করে নিউমনিয়া সহ বিভিন্ন ঠান্ডা জনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে পড়ছে। এ ব্যাপারে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ পিডাবলুডির অবহেলাকে দোষারোপ করে বলেন, তাদেরকে জাহিদাপত্র দেওয়ার শর্তেও দীর্ঘদিনে তা সমাধান হয়নি। হাসপাতালের দায়িত্বে থাকা পিডাবলুডির উপ-সহকারি প্রকৌশলী মোঃ সাইফুল ইসলাম অভিযোগের কথা অস্বিকার করে বলেন, বিষয়টি নিয়ে আমার উর্ধতন কর্মকর্তার সাথে আলোচনা হয়েছে। আমাদের বিশেষ পরিকল্পনায় এটা রয়েছে। তবে দুই একদিনের মধ্যে জ¦ানালা গুলোতে থাই লাগাতে চাহিদাপত্র দিয়ে ১ সপ্তাহের মধ্যে কাজ করার নির্দেশ দিয়েছেন নির্বাহী প্রকৌশলীর। শিশু বিষেষজ্ঞ হাসপাতালের শিশু বিভাগের কনসালটেন্ট ডাঃ দীপাম্বিতা সাহা বলেন, নবজাতক ও শিশুকে সু-চিকিৎসা দিতে আমরা আপ্রান চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। পরিবশেগত এবং লজিষ্টিক কিছু কারণে চিকিৎসা প্রদানে কিছুটা বিগ্ন সৃষ্টি হচ্ছে। এদিকে মঙ্গলবার বেলা পৌনে ১ টায় শিশু বিভাগে পরিদর্শনে আসে হাসপাতালের তত্ত¡াবধায়ক তিনি শিশু ওয়ার্ডের কর্তব্যরত ডাক্তার, সিনিয়র নার্সদের ওয়ার্ডের সাথে সমস্যা নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করেন। এ সময় দায়িত্ব প্রাপ্ত নার্সদের ইনচার্চ মঞ্জু ফলিয়া জানান, একটি বেডে ৪/৫টি নবজাতক শিশুকে চিকিৎসা, রুমের মধ্যে অতিরিক্ত লোকজনে চিকিৎসার পরিবেশ বেহত, প্রতিটি ওয়ার্ডের প্রায় সকল জ¦ানালার গøাস ভাঙ্গা সহ বিভিন্ন দুরাবস্থার কথা তুলে ধরেন। উদ্ভুত পরিস্থিতিতে প্রতিষ্ঠানটিকে আদর্শ সেবা প্রতিষঠানে রুপ দিতে কর্তব্যরত সকলকে ধৈয্যের সাথে  কাজ করে সেবা প্রদান অব্যাহত রাখার আহবান জানান। তিনি নিওনেটর ওয়ার্ড প্রশারিত এবং শিশু বিভাগকে আধুনিকায়ন করার জন্য দ্রæত ব্যবস্থা গ্রহনের আশ^াস দিয়ে অচিরেই কাজ করার কথা জানান। এ সময় তিনি সৃষ্ট সমস্যা সমাধানে সকলের সহযোগিতার কামনা করেন। তিনি আরো বলেন, যোগদানের পর থেকে আমি অনিয়ম-দুর্ণীতি বন্ধ এবং জেকে বসা দালালমুক্ত করার জন্য কাজ চালিয়ে যাচ্ছি। যখন যে অনিয়ম দুর্ণীতির কথা উঠছে সাথে সাথে তার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার  হচ্ছে। দালাল এবং প্রতারণার খপ্পর থেকে রক্ষা পেতে হাসপাতালের মধ্যে হান্ড মাইকিং, প্রচারপত্র বাইরে ব্যানার ফেণ্টুন সহ বিভিন্ন ভাবে প্রচার করা হচ্ছে। তিনি বর্তমান হাসপাতালের সমস্যা সমাধানে জনবল সংকট, অবকাঠামোগত সমস্যা কে দায়ি করে সমাধানে কাজ করার কথা বলেন।#