ঢাকা-শরণখোলা মহাসড়কে তিন মাসে ডাকাতি তিন নৈশ কোচে : আতংকে যাত্রীরা

0
385

শরণখোলা (বাগেরহাট) প্রতিনিধি, খুলনাটাইমস:
ঢাকা-শরণখোলা রুটে সাইনবোর্ড-মোড়েলগঞ্জ এলাকায় গত তিন মাসে যাত্রীবাহী নৈশ কোচে তিনটি ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। এ সড়কে বাস ডাকাতির নজির না থাকায় সম্প্রতি ঘটে যাওয়া বাস ডাকাতির বিষয়ে এলাকাবাসীর মাঝে আতংক দেখা দিয়েছে। ডাকাতরা বাসের ড্রাইভার ও সুপারভাইজারকে ছুরিকাঘাত ও যাত্রীদের মারধর করে স্বর্নালংকার, মোবাইল ফোন সেট ও নগদ টাকা সহ কয়েক লাখ টাকার মালামাল লুট করে নিয়েছে। যাত্রী সাধারণ বাস ডাকাতি বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়ার দাবী জানিয়েছেন।
ভূক্তভোগী যাত্রীরা জানায়, ৭ মার্চ (বুধবার) ঢাকা থেকে শরণখোলার উদ্দেশ্যে সন্ধ্যায় ছেড়ে আসা মেঘনা পরিবহনের (ঢাকা মেট্রো ব-৩৯৪৯) গাড়িটি রাত আনুমানিক ২টার দিকে মোড়েলগঞ্জ উপজেলার দৈবজ্ঞহাটি অতিক্রম করার পর যাত্রীবেশী মুখোশধারী ৭/৮ জন ডাকাত অস্ত্রের মুখে সকলকে জিম্মি করে ডাকাতি করে। এসময় যাত্রীদের কাছে থাকা মোবাইল ফোন সেট, স্বর্নালংকার, নগদ টাকা সহ কয়েক লাখ টাকার মালামাল নিয়ে পথিমধ্যে আমবাড়িয়া এলাকায় নেমে যায়। গাড়ির মালিক বাগেরহাটের লিটু মিয়া জানান, ডাকাতদের ছুরিকাঘাতে গাড়ির ড্রাইভার রাজু মল্লিক ও সুপারভাইজার কামরুল ইসলাম রক্তাক্ত জখম হন। আহত হন হেলপারসহ বেশ কয়েকজন যাত্রী। চিকিৎসার জন্য ড্রাইভার ও সুপারভাইজারকে বাগেরহাট ও আহত যাত্রীদেরকে মোড়েলগঞ্জ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তিনি আরো জানান, গভীর রাতে ওই সড়কের বেশ কিছু এলাকা নির্জন থাকায় ডাকাতরা এর পূর্বেও এ ঘটনা ঘটিয়েছে। এজন্য রাতে পুলিশী টহল জোরদার করা জরুরী হয়ে পড়েছে।
এ ঘটনার ব্যাপারে মোড়েলগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ রাশেদুল ইসলাম জানান, রাতে ওই সড়কে মোড়েলগঞ্জের পুলিশী টহল ছিল। ডাকাতির ঘটনাটি কচুয়া থানা এলাকায় ঘটেছে। অপরদিকে, কচুয়া থানার অফিসার ইনচার্জ রবিউল কবির বলেন, ডাকাতির ঘটনা শুনেছি। ঘটনাটি ঘটেছে মোড়েলগঞ্জ থানাধীন এলাকায়। কচুয়ার মধ্যে নয়।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সম্প্রতি বাগেরহাট-শরণখোলা সড়কের সাইনবোর্ড থেকে মোড়েলগঞ্জ এলাকায় গত তিন মাসে মেঘনা পরিবহনে দু’বার ও হামিম পরিবহনের নাইট কোচে একবার ডাকাতি হয়েছে। পরপর সংগঠিত এসব ঘটনায় যাত্রীরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন। এ বিষয়ে প্রশাসনের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছে এলাকাবাসী।
এ ব্যাপারে বাগেরহাট জেলা বাস মালিক সমিতির সভাপতি বাকী তালুকদার বলেন, সাইনবোর্ড-মোড়েলগঞ্জ সড়কে বারবার সংগঠিত এসকল ঘটনায় বাস ড্রাইভার ও শ্রমিকসহ যাত্রীরা জীবনের ঝুঁকির মধ্যে পড়েছেন। বাস ডাকাতি বন্ধে উভয় প্রান্ত থেকে ভিডিও করন, টিকিটে পূর্নাঙ্গ ঠিকানা ব্যবহার, ঢাকা ছাড়ার পর মাওয়া ঘাট ও পথিমধ্যে কোন যাত্রী না তোলা এবং পথিমধ্যে চেক পোস্ট বসিয়ে পুলিশী তল্লাশীর ব্যবস্থা করা প্রয়োজন। নতুবা ডাকাতির ঘটনা আরো বেড়ে যাবার আশংকা রয়েছে।