ডুমুরিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী ‌তারা’র বিরুদ্ধে অর্ধ-কোটি টাকা মূল্যের জমি লিখে নেওয়ার অভিযোগ

0
33

নিজস্ব প্রতিবেদক
ডুমুরিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী মোঃ আজগর আলী বিশ্বাস তারা কর্তৃক অর্ধ-কোটি টাকা মূল্যের জমি লিখে নিয়ে টাকা না দিয়ে হুমকি প্রদানের প্রতিবাদে গতকাল সন্ধ্যায় খুলনা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেছেন নারায়ণ চন্দ্র বিশ^াস। তিনি উপজেলার পূর্ব বিল পাবলা গ্রামের মৃতঃ হরেন্দ্র নাথ বিশ্বাস এর ছেলে। গ্রাম- পূর্ববিল পাবলা, ডাকঘর- কুলটি, উপজেলা ডুমুরিয়া, জেলা- খুলনা।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, খুলনা জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য মোঃ আজগর আলী বিশ্বাস তারা (মালিক বিশ্বাস প্রোপ্রার্টিজ, মোবাইলঃ ০১৭১১-৫৭৩১২৯) গত ৩০/১১/২০২১ ইং তারিখে আমার কাছ থেকে আমার পৈত্রিক সম্পত্তি (মৌজা-বিল পাবলা, খতিয়ান নং- ৩৫) উক্ত খতিয়ানে মোট ৮টি দাগ থাকলেও তার মধ্যে থেকে রাস্তার পার্শ্বের আর.এস দাগ নং- ১২৪৭২ ও ১২৪৭৬ দাগ থেকে ০.২৫ একর জমি ৫০,০০,০০০/- (পঞ্চাশ লক্ষ) টাকা দাম ঠিক করে নিজের নামে পাওয়ার দলিল করে নেয়। দলিল করার সময় উক্ত আজগর বিশ্বাস তারা বলেন যে, “যখন জমিটা কবলা দলিল করে বিক্রি করবো, তখন আপনাকে টাকা দিবানি দাদা।” আমি তার কথার উপর বিশ্বাস করে দীর্ঘদিন যাবৎ অপেক্ষা করেছি। পরবর্তীতে যখন দেখি উক্ত জমি প্লট আকারে সব বিক্রি হয়ে গেছে, তখন জমি বিক্রির টাকা চাইতে গেলে নানান ধরণের তালবাহানা করে। কখনও বলে টাকা দিয়ে দিছি, আবার কখনও বলে আপনাকে চিনি না, আবার কখনও বলে আপনার ভাইপোর কাছে টাকা দিয়ে দিছি।
তারপর মোঃ আজগর বিশ্বাসের কথামতো আমি স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদে ভাইপো রথিন বিশ্বাসের নামে একটি দরখাস্ত করি। সেখানে বসাবসির মধ্যে মোঃ আজগর আলী বিশ্বাস তারা জমি লিখে নেওয়া ও টাকা দিবে মর্মে সব স্বীকার করেন। কিন্তু পরবর্তীতে টাকা না দিয়ে পূর্বের ন্যায় নানান ধরণের তালবাহানা শুরু করে দেয়।
সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, আমার প্রশ্ন হচ্ছে, মোঃ আজগর আলী বিশ্বাস তারা বলে আমাকে চেনেন না, তাহলে জমি লিখে দিল কে? সে যে আমাকে চিনে তার প্রমাণ স্বরূপ তার সাথে আমার জড়িয়ে ধরা স্থীরচিত্র এতদ্বসঙ্গে সংযুক্ত করা হইল। সে মাঝে মাঝে বলে, “টাকা দিয়ে দিয়েছি”, তাহলে আমার প্রশ্ন হচ্ছে ৫০,০০,০০০/- (পঞ্চাশ লক্ষ) টাকা কিভাবে আমাকে দিয়েছে? ব্যাংকে, নাকি নগদে? উল্লেখ থাকে যে, মোঃ আজগর বিশ্বাস তারা আমার যে ভাইপোর কথা উল্লেখ করেছে, সেই ভাইপোও আমার কাছ থেকে একই দিনে অর্থাৎ ৩০/১১/২০২১ ইং তারিখে একই খতিয়ান থেকে আর এস দাগ নং- ১২৪৬৯, ১২৪৭০, ১২৪৭১, ১২৪৭৩, ১২৪৭৫ ও ১২৪৮৩ দাগের মধ্যে ০.১১৫৩ একর জমি মোট ১২,০০,০০০/- (বার লক্ষ) টাকা দাম ঠিক করে পাওয়ার দলিল করে নেয়। উক্ত ১২,০০,০০০/- (বার লক্ষ) টাকা থেকে মাত্র ২,৬০,০০০/- (দুই লক্ষ ষাট হাজার) টাকা পরিশোধ করে। বাকি ৯,৪০,০০০/- (নয় লক্ষ চল্লিশ হাজার) টাকা অদ্যাবধি পরিশোধ করে নাই।
সংবাদ সম্মেলনে ভূক্তভোগী বলেন, মোঃ আজগর বিশ্বাসের কাছে পাওনাকৃত জমি বিক্রির ৫০,০০,০০০/- (পঞ্চাশ লক্ষ) টাকা থেকে অদ্যাবধি কোন টাকা পরিশোধ করেন নাই। মোঃ আজগর বিশ্বাস এবং ভাইপো রথিন বিশ্বাস আমার কাছ থেকে জমির দাম ঠিক করে, জমি লিখে নিয়ে, টাকা না দিয়ে বিভিন্ন সময় প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে যাচ্ছে। তাই নিজের জীবন রক্ষার্থে এখন আমি পালিয়ে বেড়াচ্ছি। উল্লেখ্য থাকে যে, আমি একজন লিভার ক্যান্সারের রোগী। এই পর্যন্ত ৩০টি ক্যামো, ৩০টি রেডিও থেরাপি এবং ২৪ ব্যাগ রক্ত গ্রহণ করে কোনমতে বেঁচে আছি। অসুস্থ্যতার জন্য কোন কাজ-কর্ম করতে পারি না। তাই অর্থাভাবে বর্তমানে চিকিৎসাও গ্রহণ করতে পারছি না। আরও উল্লেখ্য থাকে যে, আওয়ামী লীগ দল সমর্থন করার জন্য বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে নির্যাতন সইতে না পেরে দেশ ত্যাগ করে ভারতে চলে যেতে বাধ্য হই।
নারায়ণ বিশ^াস জানান, বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলের মতোন এখনও আমাকে জীবনের নিরাপত্তায় পালিয়ে বেড়াতে হচ্ছে। আজগার আলী বিশ^াস তারা বিশ^াস প্রোপার্টিজ নামক প্রতিষ্ঠানের আড়ালে একদল সন্ত্রাসী লালন-পালন করেন এবং এই বাহিনী দিয়ে আমার মতোন অনেকেরই জমি-জমা, পৈত্রিক সম্পত্তি লিখে নেন এবং পরবর্তীতে পাওনা পরিশোধ না করে আমার মতোনই তাদের সাথে প্রতারণা শুরু করেন। শুধু তাই নয়, প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতে তারা বিশ^াসের বাহিনী কর্তৃক হামলা-মামলা করতে কুন্ঠাবোধ করেনা।
এজন্য আপনাদের মাধ্যমে আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, কেসিসি মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেক, শেখ হেলাল উদ্দিন এমপি, সেখ সালাহউদ্দিন জুয়েল এমপি, খুলনা জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হারুনুর রশিদ ও সাধারণ সম্পাদক এড.সুজিত অধিকারীর কাছে জোর দাবি জানাই, আমি যাতে আমার পৈত্রিক সম্পত্তি বিক্রির প্রাপ্য টাকাগুলো পেয়ে নিজের লিভার ক্যান্সারের চিকিৎসা নিয়ে আরও কিছুদিন পৃথিবীতে বেঁচে থাকতে পারি, তাহার সু-ব্যবস্থা করতে উল্লেখ্য নেতৃবৃন্দের হস্তক্ষেপ কামনা করছি। এছাড়াও পুলিশ, প্রশাসন ও গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিনিধিদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলতে চাই, আপনারা এই ভূমিদস্যু আজগার আলী বিশ^াস তারা সম্পর্কে আরও বেশি খোঁজ-খবর নেন। ছাত্র জীবনে ছাত্রলীগের রাজনীতি না করেও সে কিভাবে খুলনা জেলা আওয়ামী লীগের পদ পান? পক্ষান্তরে তার দ্বারাই আজ আমার মতোন আওয়ামী লীগের সমর্থকদের ঘর-বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে থাকতে হচ্ছে, সর্বস্ব হারাতে হচ্ছে।

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here