ডুমুরিয়ায় যৌতুক লোভী পাষন্ড স্বামীর বিরুদ্ধে আদালতে মামলা : স্ত্রী ও কন্যাকে জীবন নাশের হুমকী

0
495

ডুমুরিয়া প্রতিনিধি:
যৌতুক লোভী পাষন্ড স্বামী কর্তৃক শারীরিক ও মানষিক নির্যাতনের স্বীকার হয়ে অবশেষে আদালতে মামলা করেছে গৃহবধু মনজিলা বেগম। গত ৮ নভেম্বর তারিখে খুলনার বিজ্ঞ সিনিঃ জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে যৌতুক নিরোধ আইনের ৪ ধারায় (খ-অঞ্চল) এমামলাটি রুজু হয়েছে। অত্যাচারী স্বামীর নির্যাতন সইতে না পেরে একপর্যায়ে হতদরীদ্র মনজিলা তার কোলের সন্তানকে নিয়ে ডুমুরিয়া ছেড়ে ফকিরহাট থানার খাজুরা গ্রামে ভগ্নিপতি’র বাড়িতে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছে। সেখানে কাগজ কুড়িয়ে অত্যান্ত দুর্বিসহভাবে দিনযাপন করছে হতবাগা সেই মনজিলা। এদিকে মামলা না তুলে নিলে মনজিলা ও তার কন্যাকে জীবনে শেষ করে দিবে বলে হুমকী-ধামকি দিচ্ছে পাষন্ড লিটন।
মামলার বিবরণ ও প্রত্যক্ষদর্শী সুত্রে জানা যায়, খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলা সদরের ট্রলারঘাট নামক এলাকার কিনু মোল্যার ছেলে লিটন মোল্যার (৪০) সাথে ২০০৫ সালের ৩১ জানুয়ারী ইসলামী শরিয়ত মোতাবেক রেজিষ্ট্রি কাবিন মূলে ১৫ হাজার ১ টাকা দেনমোহর ধার্য্যে বিবাহ হয় রূপসা থানার জাবুসা গ্রামের মরহুম মোসলেম আলী মোল্যার কন্যা মোছাম্মদ মনজিলা খাতুনের। দাম্পত্য জীবনে তাদের একটি কন্যা সন্তান হয়। নাম সুমাইয়া খাতুন(৮)। বিবাহের পর স্বামীর সংসারে অভাব কাটাতে মনজিলা ডুমুরিয়া বাজারে কাগজ কুড়িয়ে অর্থ উপার্জন করতো। পরে বাপের বাড়ি থেকে ৪০ হাজার টাকা এনে স্বামীকে ইঞ্জিন চালিত ভ্যান কিনে দেয় মনজিলা। কিন্তু যৌতুক লোভী নেশাখোর স্বামী তার স্ত্রীর উত্তরাধিকার সুত্রে প্রাপ্ত সামান্য সম্পত্তি বিক্রি করে ৫০ হাজার টাকা যৌতুক স্বরূপ এনে দিতে বললে তাতে রাজী না হওয়ায় স্ত্রী মনজিলার উপর শারীরিক ও মানষিক নির্যাতন চালায়। একপর্যায়ে মেরে স্ত্রীর বাম হাতটি ভেঙ্গে দেয় স্বামী। এনিয়ে গত বছর ৬ নভেম্বর তারিখে ডুমুরিয়া সদরের ইউপি সদস্য শেখ কবিরুল ইসলামের উপস্থিতিতে এক শালিশী বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানেও যৌতুক লোভী লিটন স্ত্রীর বড় বোনকে বলে জমি বিক্রি করে ৫০ হাজার টাকা এনে দিতে। সে যৌতুক ছাড়া শালিশ মিটিং মানেনা। এ প্রসঙ্গে মনজিলা বেগম বলেন, বিভিন্ন সময় যৌতুকের দাবীতে স্বামী আমার উপর শারীরিক ও মানষিক নির্যাতনে করে আসছে। তার বিরুদ্ধে বাধ্য হয়ে আদালতে মামলা করেছি। বর্তমান আমি কন্যাকে নিয়ে বাগেরহাট জেলার ফকিরহাট থানার ছোট খাজুরা গ্রামে তার ভগ্নিপতি শাহাজান শেখের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছি। কিন্তু ২৬ দিন জেল খেটে আদালত থেকে জামিনে মুক্তি পেয়ে স্বামী এখানেও এসে মারপিট করছে এবং মামলা তুলে নিতে আমার কন্যা ও আমাকে জীবন নাশের হুমকী দিচ্ছে। মনজিলা ও তার শিশু কন্যাকে নিয়ে স্বামীর ভয়ে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে বলে জানা গেছে।