ডুমুরিয়ায় মাদক সম্রাট সোহাগ বাহিনীর নামে মামলা করে বিপাকে সাবেক ইউপি সদস্য

0
389

ডুমুরিয়া (খুলনা) প্রতিনিধি, খুলনাটাইমস:
ডুমুরিয়ায় অর্ধডজন মামলার আসামী অত্যাচারী ও কুখ্যাত এক মাদক সম্রাটসহ তার লাঠিয়াল বাহিনীর নামে মামলা করে বিপাকে পড়েছেন শোভনার সাবেক ইউপি সদস্য আব্দুর রশিদ শেখ। ৩০ ডিসেম্বর তারিখে ফিল্মি স্টাইলে হামলা চালিয়ে বসতবাড়ির আসবাবপত্র ভাংচুর, মারপিট, অগ্নিসংযোগ, নগদ টাকাসহ লক্ষাধিক টাকার মালামাল ক্ষতিসাধনের ঘটনায় সোহাগ খানসহ ৩৩ জনের নামে এ মামলাটি দায়ের হয়। এদিকে মামলা তুলে না নিলে জীবনে শেষ করে দিবে বলে হুমকী-ধামকী অব্যহত রেখেছে ভুক্তভোগী পারিবারের উপর। এ বিষয় গত ৪ জানুয়ারী তারিখে থানায় একটি সাধারণ ডায়েরী করেছেন ভুক্তভোগী রশিদ শেখ।
এলাকাবাসী ও ভুক্তভোগী পরিবার সুত্রে জানা যায়, উপজেলার একজন চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী শোভনা গ্রামের মজনু খানের ছেলে সোহাগ খান(৩০)। মাদক সিন্ডিকেটের একজন প্রধান নায়ক সে। তার বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য, লুটপাট, জমিদখল, অগ্নিসংযোগ ও নারি শিশু নির্যাতন দমন আইনসহ বটিয়াঘাটা ও ডুমুরিয়া থানায় অর্ধ ডজন মামলা রয়েছে। সোহাগ খান দীর্ঘদিন ধরে সাতক্ষীরা থেকে মাদক ও নেশা জাতীয় দ্রব্য (ফেন্সিডিল, হিরোইন, ইয়াবা, গাঁজা) এনে শোভনাসহ খুলনার জিরোপয়েন্ট এলাকায় বিক্রি করে আসছে। এর সাথে কিছু যুবক ও যুব-মহিলাও জড়িত রয়েছে। মাদক সম্রাট ওই সোহাগ খানের বিরুদ্ধে বহুবার পত্র-পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশ হলেও টনক নড়ছে না প্রশাসনের। ফলে শোভনা এলাকায় মাদকে ঘিরে ফেলছে। উঠতি যুবসমাজ ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে চলে যাচ্ছে। এই সুযোগে সে এলাকার কিছু যুবকদেরকে সংগঠিত করে একটি লাঠিয়াল বাহিনী গড়ে তুলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক শোভনা গ্রামের অনেকেই জানান, সোহাগ খান শোভনা গ্রামের যুব সমাজকে নেশাগ্রস্থ করে তুলছে। তার নেতৃত্বে প্রতিরাতে এলাকায় বহিরাগত বখাটেদের আনাগোনা দেখা যাচ্ছে। জানা গেছে, শোভনা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক সদস্য মোঃ আব্দুর রশিদ শেখের(৫০) সাথে দীর্ঘদিন যাবত ওই সোহাগ খানের পূর্ব শত্রুতা চলে আসছে। তারই অংশ হিসেবে গত ৩১ ডিসেম্বর তারিখে (বিকাল অনুমান ৪টা) সোহাগ খান তার লাঠিয়াল বাহিনীর সহায়তায় রামদা, লোহার রড, হাতুড়ী, বাঁশের লাঠিসহ দেশীয় তৈরি অস্ত্র সস্ত্র নিয়ে রশিদ শেখের বাড়িতে ঢুকে প্রথমে ধানের পালা ও বিছালীর পালায় আগুন জ্বালিয়ে ত্রাস সৃষ্টি করে। একপর্যায়ে রশিদ শেখের পরিবারের উপর অতর্কিতভাবে ফিল্মি স্টাইলে সন্ত্রাসী কায়দায় হামলা চালায় তারা। তাদের লোহার রডের আঘাতে রশিদ শেখসহ ভাই রেজাউল করিম(৪২), আজিজুর রহমান(৩৬) ও বোন রহিমা বেগম(৩৮) গুরুতর আহত হয়। আঘাতে আজিজুরের ডান হাত ভেঙ্গে যায়। এছাড়া ছেলে মেহেদী হাসান(২২) এবং প্রতিবেশি মোস্তফা খানকেও বেদম মারপিট করে আহত করেছে সোহাগের লোকজন। এ ঘটনায় ১ জানুয়ারী তারিখে মাদক ব্যবসায়ী সোহাগ খান, জসিম খান, সামাদ শেখ, কারিমুল শেখ, আসাদ বাগাতী, আমিনুল সরদার, শাহিনুর রহমান, মাহফুজা বেগম, দেলজান বিবি, আছিয়া বেগমসহ ৩৩ জনের বিরুদ্ধে ডুমুরিয়া থানায় একটি মামলা করা হয়। মামলা নম্বর-১। ওই মামলার বাদী মোঃ আব্দুর রশিদ শেখ জানান, আমি মাদক সম্রাট সোহাগ বাহিনীর অত্যাচারে অতিষ্ট হয়ে পড়েছি। জমি-জমা সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে ৩১ ডিসেম্বর তারিখে আমার বাড়ির সকলকে বেদমভাবে পারপিট করে ওরা। বসত বাড়িতে ঢুকে আসবাবপত্র ভাংচুর করে এবং ধান ও খড়ের গাদায় আগুন জ্বালিয়ে ব্যাপক ক্ষতিসাধন করে। এছাড়া নগদ ৬০ হাজার টাকা লুট করে নিয়ে যায় ওরা। ওই মামলায় জামিনে মুক্তি পেয়ে তুলে নিতে প্রতিনিয়ত জীবন নাশের হুমকী দিয়ে যাচ্ছে সোহাগ খান। বর্তমান আমরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।
#