ডুমুরিয়ায় পল্লীশ্রী কলেজ অধ্যক্ষ’র বিরুদ্ধে সীমাহীন দূর্নীতির অভিযোগ

0
266

এস রফিক, ডুমুরিয়া:
ডুমুরিয়ায় পল্লীশ্রী কলেজের অধ্যক্ষ সুভাষ চন্দ্র সরদারের বিরুদ্ধে সীমাহীন দূর্নীতি,অনিয়ম ও সেচ্ছারিতার অভিযোগ পাওয়া গেছে। শিক্ষা বোর্ডের নীতিমালা উপেক্ষা করে ভর্তি, পরীক্ষা ফি ও ফরম ফিলাপে অর্থ বানিজ্য, শিক্ষক-শিক্ষিকার প্রতি অসাদাচরন, ফাঁদে ফেলে শিক্ষক’র নিকট থেকে অর্থ হাতিয়ে নেয়াসহ নানা অভিযোগ এনে জেলা প্রশাসক বরাবর একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন ওই কলেজের ইংরেজী বিভাগের প্রভাষক সুকুমার মন্ডল নামের এক শিক্ষক। এদিকে দায়েরকৃত অভিযোগ প্রত্যাহার করা না হলে চাকুরী খেয়ে ফেলা হবে, অধ্যক্ষের দেয়া এমন হুমকীতে থানায় একটি সাধারন ডায়রী করেছেন অভিযোগ দায়েরকারী ওই শিক্ষক, যার নং ৯২৯/২০।
জেলা প্রশাসক বরাবর দায়েরকৃত অভিযোগ ও জিডি সূত্রে জানা যায়, পল্লীশ্রী কলেজের অধ্যক্ষ সুভাষ চন্দ্র সরদার শিক্ষা নীতিমালা উপেক্ষা করে ভর্তি ক্ষেত্রে ১‘হাজার টাকার পরিবর্তে তিন হাজার টাকা,অর্ধ বাষিকী ও টেষ্ট পরীক্ষায় ৫‘শ ও ২০১৯ সালের ১২০জন এইচএসসি পরীক্ষার্থীর নিকট থেকে রশিদ ছাড়াই মাথা প্রতি ৬‘হাজার টাকা নেয়া হয়েছে।টেষ্টে অকৃতকার্যদের ক্ষেত্রে আরো বেশী। ডিগ্রী লেবেলেও রয়েছে অনুরুপ অত্যাচার। ছাড় পায়নি এতিম ও হতদরীদ্র শিক্ষার্থীরা উপবৃত্তির বেলায়। উপবৃত্তির সুপারিশ পাঠানোর নামে তাদের নিকট থেকেও নেয়া হয়েছে মাথা প্রতি তিন হাজার টাকা। শিক্ষকদের সাথে আচারন করা হয় বাড়ীর কাজের বুয়ার মতো।ভূয়া বিল তৈরী করে জোর পূর্বক শিক্ষককে স্বাক্ষর করতে বাধ্য করেন। অডিটের ভয় দেখিয়ে ইংরেজী প্রভাষকের নিকট থেকে হাতিয়ে নেয়া হয় ৬০‘হাজার টাকা।অফিস পিয়ন নারায়ন গোস্বামী এক দিনও ডিউটি করে না,প্রতিমাসে তার নিকট থেকে ৪হাজার টাকা নিয়ে তাকে বৈধ করে আসছে।কম্পিউটার ল্যাব পদে ১০লক্ষ টাকা নিয়ে নিয়োগ দিলেও কলেজ ফান্ডে দেয়া হয়নি একটি টাকা। এমনি ভাবে প্রতিটি ক্ষেত্রে রয়েছে তার সীমাহীন দূর্নীতি ও অনিয়ম।
কলেজ সূত্রে জানা যায়, চলতি ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষে বিজ্ঞান বিভাগে ১৫জন,বাণিজ্য বিভাগে ১৯জন ও মানবিক বিভাগে ১৫১জন শিক্ষার্থী ভর্তি করা হয়েছে। ভর্তি প্রসঙ্গে মাদারতলা এলাকার ১ম বর্ষের বানিজ্য বিভাগের ছাত্রী সুপ্রিয়া মল্লিক,মানবিক বিভাগের ছাত্রী লাবনী মল্লিক, কুলবাড়িয়া এলাকার বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্রী সাথী বিশ্বাস সহ একাধিক শিক্ষার্থী জানান, ভর্তিফিস হিসেবে তাদের প্রত্যেকের নিকট থেকে ৩হাজার টাকা গ্রহন করা হয়েছে। আপনি একই প্রতিষ্ঠানে চাকুরী করে অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে নানা অনিয়ন ও দূর্নীতির অভিযোগ এনে জেলা প্রশাসক বরাবর অভিযোগ করলেন কেন এমন প্রশ্নের উত্তরে অভিযোগ কারী শিক্ষক সুকুমার মন্ডল জানান,তিনি একজন হতদরিদ্র পরিবারের ছেলে। মানুষের নিকট থেকে সাহায্য নিয়ে বই-খাতা ক্রয় ও স্কুল-কলেজের বেতন যুগিয়ে লেখাপড়া করেছেন তিনি। গরীবের কষ্ট তিনি হাঁড়ে হাঁড়ে বোঝেন এমনটি উল্লেখ করে তিনি বলেন,কলেজটিতে অধ্যয়নরত ছেলে-মেয়ে ও তার পরিবার এবং শিক্ষকরা অধ্যক্ষের নিকট জিম্মি হয়ে পড়েছে। আশু ব্যবস্থা গ্রহন না করলে প্রতিষ্ঠানটি শেষ হয়ে যাবে। তাই বৃহৎ স্বার্থে এ দূর্নীতির মুখোশ খুলতে অভিযোগ দায়ের করতে বাধ্য হয়েছি।তিনি আরও বলেন,অভিযোগটি তুলে না নিলে কোটি টাকার বিনিময় হলেও তার চাকুরী খেয়ে ফেলা হবে মর্মে হুমকি ও ষড়যন্ত্র অব্যাহত রয়েছে।যেকারনে থানায় একটি সাধারন ডায়রি করা হয়েছে। ঘটনা প্রসঙ্গে জানতে চাইলে অধ্যক্ষ সুভাষ চন্দ্র সরদার নিজেকে নির্দোষ দাবি করে আনিত অভিযোগ অসত্য ও ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দেন।