ডুমুরিয়ায় নিম্নমানের খোয়া-রড-জমাট বাঁধা সিমেন্ট দিয়ে চলছে স্লুইজ গেট নির্মান কাজ

0
585

ডুমুরিয়া (খুলনা) প্রতিনিধি:
ডুমুরিয়ার শোভনা এলাকার বড়বিলে সোয়া কোটি টাকা বরাদ্দের একটি একভেন্টের স্লুইজ গেট নির্মান কাজে নিম্নমানের খোয়া, মরিচা ধরা রড এবং জমাট বাঁধা সিমেন্ট ব্যবহৃত হচ্ছে । সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কোন নজরদারী না থাকায় ঠিকাদাররা দেদারছে চালিয়ে যাচ্ছে এ অনিয়ম। ফলে স্লুইজ গেটটির স্থায়ীত্ব নিয়ে আশংকা করছে এলাকাবাসী।
এলাকাবাসী ও সংশ্লিষ্ট সুত্র জানান, উপজেলার ২৬ নং পোল্ডারের আওতায় শোভনা ইউনিয়নের বড়বিল, কুড়িবিল, আগারবিল, জেলেপাড়াসহ আশপাশ ৬/৭টি বিলের পানি নিষ্কাশনের জন্য বড়বিল নামকস্থানে একভেন্টের একটি স্লুইজ গেট নির্মানের জন্য ১ কোটি ১৮ লাখ ১ হাজার ৫ শত ৫ টাকা বরাদ্দ দেয় সরকার। গেটটি ব্লু-গোল্ড প্রকল্পের মাধ্যমে বাস্তবায়িত হচ্ছে। কাজটি করছে খুলনার মেসার্স এয়াকুব কর্পোরেশন নামে একটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। ২০১৬ সালের ১ এপ্রিল কাজটি শুরু করে ২০১৭ সালের ২৫ জুনের মধ্যে শেষ করার কথা থাকলেও মুল কাজের এখনো বাকি রয়েছে প্রায় ৫০ শতাংশ। বর্তমানে নির্মাধীন ওই গেটের তলদেশে সিসি ঢালাইয়ের কাজ চলছে।
বুধবার সকালে সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, স্লুইজ গেটের সিসি ঢালাই কাজে অত্যন্ত নি¤œমানের খোয়া ও জমাট বাঁধা সিমেন্ট ব্যবহৃত হয়েছে। শুধু তাই নয় গেটের মুল ভিত্তি ফাইলিংয়ে মরিচা ধরা রড ব্যবহার করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সর্বসাধারনকে জানানোর জন্য প্রকল্পের সাইনবোর্ড টানানোর সরকারী নির্দেশনা থাকলেও সেখানে তা টানানো হয়নি। ফলে জানতে পারছে না কেউ কোন তথ্য। এভাবে কাজ সম্পন্ন হলে গেটের স্থায়ীত্ব নিয়ে এলাকাবাসীর মধ্যে দেখা দিয়েছে নানাবিধ প্রশ্ন। পথচারী রমজান আলী নামে এক কৃষক জানান, একেবারেই নি¤œমানের খোয়া দিয়ে গেটে ঢালাই দেয়া হয়েছে। জানিনা সরকারী বাজেট কেমন।
পানি ব্যবস্থাপনা কমিটির পশ্চিম শোভনার দক্ষিন জোনের সভাপতি আবু ছাত্তার মোল্যা ও কোষাধ্যক্ষ গীতা রাণী মন্ডল জানান, জমাট বাঁধা সিমেন্ট দিয়ে সিসি ঢালাই দেওয়ার সময় ঠিকাদারদের নিষেধ করলেও তারা কথা শোনেনি।
এ ব্যাপারে ঠিকাদারের ম্যানেজার হাসিবুর রহমান চৌধুরী বলেন, বাতিল সিমেন্ট বাদ দেয়া হয়েছে, তবে খোয়া ভাল হোক মন্দ হোক যা আনা হয়েছে তাই ব্যবহার করছি। এতে কেউ কিছুই বলেনি।
এদিকে পানি উন্নয়ন বোর্ডেও উপ-সহকারী প্রকৌশলী হাসনাতুজ্জামান জানান, সিসি ঢালাই কাজে নি¤œমানের খোয়া দিলে তেমন কোন সমস্যা হয়না। তবে আমি সেখানে ছিলাম না। ব্লু-গোল্ড প্রোগ্রাম’র প্রকৌশলী মোঃ মশিউর রহমান বলেন, ঢালাই কাজে জমাট বাঁধা সিমেন্ট ব্যবহার করছিল। সেখানে আমি যেয়ে ১৭ বস্তা বসুন্ধরা সিমেন্ট বাতিল করেছি।
এ প্রসঙ্গে খুলনা পানি উন্নয়ন বোর্ডেও নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ শরীফুল ইসলাম বলেন, কাজে অনিয়ম হচ্ছে আমার কাছে অভিযোগ আসা মাত্রই জমাট বাঁধা সিমেন্টের কাজ বন্ধ করেছি। তবে ওই কাজে মান সম্মত মালামাল ব্যবহার করার কথা রয়েছে।