ডুমুরিয়ায় ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে শিক্ষার্থীরা : ঘটছে দুর্ঘটনা

0
600

ডুমুরিয়া (খুলনা) প্রতিনিধি, খুলনাটাইমস:
ডুমুরিয়া উপজেলা সদরে সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনেই ফুটপাত দখল করে যত্রতত্রভাবে গাড়ি পার্কিং করা হচ্ছে। ফলে বিদ্যালয়ের ছাত্রীরা ঝুঁকি নিয়ে প্রতিদিন হাইওয়ে সড়কের উপর দিয়ে চলাচল করতে বাধ্য হচ্ছে। যে কোন মুহুর্তে ঘটতে পারে বড় ধরনের দুর্ঘটনা। তাই অভিভাবক, শিক্ষক-ছাত্রী ও সচেতন মহল প্রশাসনের দৃষ্টি কামনা করছেন।

সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলা সদরের একদম প্রাণ কেন্দ্রে দু’টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান একটি সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় এবং একটি বিয়াম ল্যাবরেটরি স্কুল। সকাল হলেই বিদ্যালয় সামনে অর্থাৎ খুলনা-সাতক্ষীরা মহাসড়কের পাশে ফুটপাত দখল করে মাহেন্দ্রা, ট্রাক ও প্রাইভেটকার পার্কিং করা হচ্ছে। এভাবে চলে সারাটা দিন। ফলে ব্যস্ততম মহাসড়কের উপর দিয়ে ঝুঁকি নিয়েই প্রতিনিয়ত বিদ্যালয় যাতায়াত করতে হচ্ছে কমলমতি শিশু শিক্ষার্থীসহ বালিকা বিদ্যালয়ের ছাত্রীদের। বিশেষ করে স্কুল ছুটি হলে একযোগে সকল শিক্ষার্থীরা রাস্তায় বেরিয়ে আসলে তাদেরকে পড়তে হয় যানজটের মধ্যে। ফুটপাত দখল থাকায় বাধ্য হয়ে হাইওয়ে সড়কের উপর দিয়ে চলতে হয় তাদের।

শুধু তাই নয়, বালিকা বিদ্যালয়ের সামনে ফেলা হচ্ছে বাজারের ময়লা-আবর্জনা। সেই সাথে একশ্রেনীর অসাধু মানুষ প্রসাব করছে যত্রতত্রভাবে। সবমিলে ডুমুরিয়ার একমাত্র সরকারি বালিকা বিদ্যালয়ের সামনে বেহাল দশায় পরিণত হয়েছে। ময়লা-আবর্জনা ও প্রসাবের দুর্গন্ধে বিদ্যালয়ের ছাত্রীদেরকে রুমাল দিয়ে মুখ আটকিয়েও ক্লাস করতে হচ্ছে। স্কুল ক্যাম্পাসের সামনে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রণহানির কোন ঘটনা না ঘটলেও গত এক বছরে অন্তত ১৫/২০জন শিক্ষার্থী বা অভিভাবক ছোট খাটো দুর্ঘটনার শিকার হয়েছে।

বিয়াম ল্যাবরেটরি স্কুলের নার্সারীর ছাত্র ঐশ্বর্যদেব মল্লিকের পিতা এ্যাড বিপুল মল্লিক বলেন, যত্রতত্রভাবে গাড়ি পার্কিং থাকায় ছেলেকে স্কুলে নিয়ে যাওয়া পথে (২৯ নভেম্বর’১৭) দ্রæতগামী একটি মটর সাইকেলের ধাক্কায় ছেলেটির জ্যাটিমা শান্তিলতা মল্লিকের পা ভেঙ্গে গুরুতর আহত হয়। বর্তমান সে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে।

বালিকা বিদ্যালয়ের নবম শ্রেনীর ছাত্রী আনিকা খাতুন জানায়, ‘রাস্তার পাশে মাহেন্দ্র রাখার কারণে তাদেরকে হাইওয়ে সড়কে উঠতে হচ্ছে। ফুটপাত দখল থাকায় এভাবে ঝুঁকি নিয়ে চলছে তারা।’

উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সহ-সভাপতি শাহনেওয়াজ হোসেন জোয়াদ্দার বলেন, ‘ডুমুরিয়া গালর্স স্কুলের সামনে যত্রতত্রভাবে মাহেন্দ্রা, ট্রাক ও প্রাইভেট কার রাখার কারণে শিক্ষার্থীদের মারাত্মক ঝুঁকি নিয়ে বিদ্যালয়ে আসা-যাওয়া করতে হয়। কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিলে আশাকরি ফুটপাতটি অবৈধ দখলমুক্ত হবে।’

শিক্ষক রবিউল ইসলাম লাবু বলেন, ‘বিদ্যালয় প্রবেশ মুখে মাহেন্দ্রা রাখাটা খুবই আপত্তিকর এবং জগন্য ব্যাপার। এভাবে অপরিকল্পিতভাবে গাড়ি পার্কিং করা হলে ছাত্রীদের স্কুলে আশা-যাওয়ায় খুবই সমস্যার সৃষ্টি হয়। এখানে একটা সুষ্ঠু পরিবেশেরও দরকার। যেহেতু এটা গালর্স স্কুল, মহিলাদের যাতায়াত এবং শালিনতার একটা ব্যাপার রয়েছে। এখানে প্রায়ই সময় দেখা যায়, কিছু শ্রেনীর লোক দাঁড়িয়ে প্রসাব করতে। এটা খুবই আপত্তিকর ব্যাপার।’

এ প্রসঙ্গে সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় এর প্রধান শিক্ষক (ভারপ্রাপ্ত) প্রীতি রাণী চ্যাটার্জী বলেন, ‘খুলনা-সাতক্ষীরা মহাসড়কটি অত্যন্ত ব্যবস্ততম সড়ক। সড়কদিয়ে সব সময় বড় বড় যান বাহন চলে। রাস্তার ফুটপাতে গাড়ি পার্কিং থাকায় ঝুঁকি নিয়ে বিদ্যালয় ছাত্রীদেরকে সরাসরি হাইওয়ে সড়ক দিয়ে চলাচল করতে হয়। এতে দুর্ঘটনার ভয় সব সময় থেকেই যায়।’

এ প্রসঙ্গে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভুমি) ও নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট মোহাম্মদ নাজমুল হাসান জানান, যত্রতত্রভাবে গাড়ি পার্কিং বিষয় ইউএনও স্যারের সাথে আলোচনা করে দ্রæত অভিযান পরিচালনা করা হবে।
#