ডুমুরিয়ায় জৈব প্রযুক্তিতে বিষমুক্ত সবজির চাষ

0
520

নিজস্ব প্রতিবেদক, খুলনাটাইমস :
জৈব কৃষি এমন এক কৃষি ব্যবস্থা যেখানে রাসায়নিক সার ও বালাইনাশক ব্যবহার না করে জৈব পদার্থের পুনঃচক্রায়নে সঠিক ব্যবস্থাপনার মধ্যদিয়ে জমি চাষাবাদের মাধ্যমে মাটি ও ফসলের উত্তম অবস্থা বজায় রেখে সুস্থ সবল বিষমুক্ত সবজির উৎপাদন নিশ্চিত করে ব্যবহারের আহবান জানানো হয়।

বৃহস্পতিবার (২৯ আগস্ট) বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার গোবিন্দকাটি গ্রামের কৃষক সুরেশ্বর মল্লিকের বাড়ির আঙিনায় অনুষ্ঠিত বেগুনে জৈব ও জৈবিক বালাই ব্যবস্থাপনা প্রযুক্তির ওপর কৃষক মাঠ দিবসে এ আহবান জানান কৃষি কর্মকর্তারা।

জৈব প্রযুক্তির চাষাবাদের মাধ্যমে বিষমুক্ত ফসল উৎপাদনে সফলতা দেখিয়েছে ওই উপজেলার কৃষকরা। রাসায়নিক সার ও কীটনাশকের পরিবর্তে জৈব সার ও বালাইনাশক ব্যবহার করে কম খরচে বেশি ফসল উৎপাদন করছে তারা। আগের তুলনায় অধিক লাভ হওয়ায়, দিন দিন জনপ্রিয় হচ্ছে এই জৈব প্রযুক্তির চাষাবাদ।

কৃষক সুরেশ্বর মল্লিক বলেন, লবনাক্ত এই এলাকায় নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনে জৈব পদ্ধতির চাষাবাদের উদ্যোগ নেয় স্থানীয় কৃষি বিভাগ। তিনি বলেন, বেগুন একটি উচ্চমূল্যের ফসল হওয়ায় জৈব প্রযুক্তির ব্যবহার করে বিষমুক্ত উপায়ে চাষ করলে প্রতি বিঘায় প্রায় ৩০ হাজার টাকা খরচ হয়। তবে ওই প্রযুক্তির ব্যবহার করে বিঘাপ্রতি ঢেড় থেকে দুই লাখ টাকা পর্যন্ত লাভ করা সম্ভব।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের আয়োজনে চাষি পর্যায়ে ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধির প্রযুক্তির ওপর গোপালগঞ্জ, খুলনা, বাগেরহাট, সাতক্ষীরা, পিরোজপুর কৃষি উন্নয়ন প্রকল্পের (জিকেবিএসপি ) আওতায় কৃষিকাজে জৈব প্রযুক্তির কৃষক মাঠ দিবস অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে প্রায় শতাধিক কৃষক অংশ নেন। মাঠ দিবসে সভাপতিত্ব করেন ডুমুরিযা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মোছাদ্দেক হোসেন।

আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের প্রকল্প বাস্তবায়ন ও আইসিটি উইং বিভাগের অতিরিক্ত পরিচালক একেএম মনিরুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পরিকল্পনা, প্রকল্প বাস্তবায়ন ও আইসিটি উইং বিভাগের উপপরিচালক মো. মতিউর রহমান, জিকেবিএসপির প্রকল্প পরিচালক মো. আলমগীর বিশ্বাস, ডিপিডি তৌহিদিন ভূঁইয়া, ইভালুয়েশন কর্মকর্তা সাদেকুর রহমাান, ইউপি সদস্য রাজু ইসলামসহ আরও অনেকে। সমগ্র অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপসহকারি কৃষি কর্মকর্তা মো. ইকতিয়ার হোসেন।