ডুমুরিয়ায় গৃহবধু রিংকু আত্মহত্যার রহস্য উন্মোচন : শ্বশুরের গা ঢাকা

0
661

ডুমুরিয়া (খুলনা) প্রতিনিধি, খুলনাটাইমস:
বেরিয়ে আসছে ডুমুরিয়ায় গৃহবধু রিংকু রানী’র আত্মহত্যার আসল রহস্য। কি কারণে তার আত্মহত্যা? এনিয়েও এলাকায় চলছে নানা জল্পনা-কল্পনা। ঘটনার পর থেকে রিংকুর শ্বশুর পুলিশ আতংকে এলাকা ছেড়েছে। এদিকে অভিযোগ উঠেছে বিষয়টি ধামা চাঁপা দিতে মোটা অংকের টাকা নিয়ে মাঠে নেমেছে একটি মহল।
এলাকাবাসী ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, ডুমুািরয়া উপজেলার পার-মাগুরখালী গ্রামের হতদরিদ্র সুভাষ সরকারের কলেজ পড়–য়া(অনার্স ২য় বর্ষ) কন্যা রিংকু রানীর (২০) প্রেমের সম্পর্কে প্রেমিকের সাথে ঘর বাঁধার স্বপ্ন নিয়ে তার বাবা-মা’র অজান্তে ২০১৬ সালের ২ মে প্রেমিক সুমন সরদারের হাত ধরে যশোরের নোটারী পাবলিকের কার্যালয়ে গিয়ে এ্যাভিডেভিটের মাধ্যমে বিবাহ করে।
সুমন সরদার মাগুরখালী ইউনিয়নের শুকুরমারী গ্রামের অমল সরদারের ছেলে। রিংকুর সাথে সুমনের বিবাহের এ্যাভিডেভিটের খবর ৩ মাস পর জানাজানি হলে সুমনের বাবার বিভিন্ন কুকৃর্তির কারনে রিংকুর পরিবার ওই বিয়ে মেনে নিতে রাজি হয়না। পরবর্তিতে গ্রাম্য সালিশী চাপে ছেলে এবং মেয়ের পরিবার মেনে নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বিয়ে সম্পন্ন হয়। শ্বশুরের কুকৃর্তির কথা জেনেও রিংকু বিয়ে করে সুমনকে।
ওই সময় মেয়ের সুখের কথা ভেবে জামাইকে নগদ টাকা, স্বর্ণালংকার, আসবাবপত্রসহ দেড় লক্ষাধিক টাকা দেয় তার পরিবার। স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ছিলো তাদের সু-সম্পর্ক। কিন্তু রিংকুর উপর শ্বশুরের কুদৃষ্টি পড়ায় তাদের সংসারে নেমে আসে অমাবশ্যার ঘনঘটা।
রিংকুর মা রেখা সরকার বলেন, সুমনের বাবা অমল সরদার একজন নারীলোভী লম্পট। তার বাড়ীর পাশে কালিদাসী ও উষার সাথে রয়েছে অনৈতিক সম্পর্ক, ওখানে তুই সংসার করতে পারবিনে। আমার রিংকু সব সামলিয়ে নিয়ে চলতে চাইছিলো। কিন্তু বিয়ের ৭ মাস যেতে না যেতেই রিংকুর উপর কুদৃষ্টি পড়ে তার শ্বশুরের।
রিংকুর কাকিমা যমুনা সরকার বলেন, রিংকুকে তার শ্বশুর বৌমার মতো ব্যবহার করতো না। প্রায় সময় রিংকুকে নানাভাবে কু-প্রস্তাব দিতো খারাপ উদ্দেশ্য নিয়ে পাশে বসতে বলতো। এসব ঘটনা স্বামীকে জানালে কোন প্রতিবাদ করতো না।
একপর্যায়ে গত ১৮ জানুয়ারী সকালে রিংকু একা বাড়ীতে থাকায় শ্বশুর অমল সরদার পানি চাওয়ার ভান করে তাকে ঝাঁপটে ধরে। লোকলজ্জার ভয়ে শ্বশুরের অপমান সহ্য করতে না পেরে ঘরে থাকা কিটনাশক পান করে রিংকু আত্মহত্যা করেছে বলে এলাকাবাসী জানান।
এদিকে সুমন ও তার বাবা অমলের সঙ্গে যোগাযোগ করতে না পারায় কাকা শংকর সরদার’র কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমার ভাইপো সুমন ও বৌমার মধ্যে খুবভাল সম্পর্ক ছিলো, কিন্তু আমার ভাইয়ের মধ্যে যথেষ্ট ত্রæটি ছিলো। ঘটনার দিন আমরা বাড়ী ছিলাম না, শুনেছি বৌমা দানা খেয়ে মারা গেছে।
এদিকে বিষয়টি মিটিয়ে নিতে একটি স্বার্থেন্বেষী মহল মোটা অংকের টাকা নিয়ে জোর তদবির চালিয়ে যাচ্ছে। রিংকুর ভগ্নিপতি সন্দীপ রায় জানান, যেদিন রিংকু মারা যায়, সেদিন ওরা ১লাখ টাকার বিনিময় মিটিয়ে নেয়ার জন্য প্রস্তাব দেয়। কিন্তু আমরা সঠিক বিচার চাই।
এ প্রসঙ্গে মাগুরখালী ক্যাম্প ইনচার্জ এসআই রনজিত কুমার জানান, রিংকুর আত্মহত্যার ঘটনায় ডুমুরিয়া থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা হয়েছে। এলাকায় রিংকুর আত্মহত্যা নিয়ে নানামুখি গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে। তবে সুমন ও অমলের মধ্যে ব্যাপক আতংক বিরাজ করছে। শুনেছি তারা ভয়ে বাড়ি ছাড়া হয়েছে। এ ঘটনায় এখনো কেউ মামলা করেনি। লাশের ময়না তদন্ত রিপোর্ট হাতে পেলে পরবর্তি ব্যবস্থা নেয়া হবে।#