ডুমুরিয়ায় গরু ব্যবসায়ীর টাকা ছিনতাইয়ের ঘটনায় গ্রেফতার ৪ : সাড়ে ৬ লক্ষাধিক টাকা উদ্ধার

0
339

ডুমুরিয়া প্রতিনিধি:
ডুমুরিয়ার চুকনগরে পুলিশ পরিচয় গরু ব্যবসায়ীর ৯ লক্ষাধিক টাকা ছিনতাইয়ের ঘটনার এক সপ্তাহের মাথায় পুলিশের এক এএসআই ও এক কনেস্টবলসহ ৪জনকে গ্রেফতার করে জেল হাজতে প্রেরন করা হয়েছে। বুধবার রাতে ডুমুরিয়া থানা পুলিশ ও খুলনা জেলা গোয়েন্দা পুলিশের যৌথ অভিযানে গ্রেফতারকৃত আসামীদের স্বীকারোক্তি মোতাবেক লুন্টনকৃত ৬ লাখ ৫৭ হাজার ৫’শ টাকা উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ ও ভুক্তভোগী সুত্রে জানা যায়, গত ১৫ ফেব্রæয়ারী তারিখে ডুমুরিয়া খর্ণিয়া বাজারে গরু বিক্রি করে সাতক্ষীরায় ফেরার পথে সন্ধ্যা ৭টার দিকে চাকুন্দিয়া মাদ্রাসা থেকে আনুমানিক ১০০ গজ দুরে খুলনা-সাতক্ষীরা মহাসড়কের উপর সাতক্ষীরা জেলা সদরের মোঃ কাদের সরদারের ছেলে নলকুড়া গ্রামের মোঃ গোলাম রসুল ওরফে লিটন(২৮)সহ ৩ গরু ব্যবসায়ীর ৯ লাখ ১৫ হাজার টাকা ছিনতাই হয়। গরু ব্যবসায়ী লিটন জানান, তারা খর্ণিয়া বাজারে গরু বিক্রি করে ট্রাক যোগে সাতক্ষীরা ফিরছিলো। ঘটনাস্থলে দুইজন ব্যাক্তি পুলিশ পরিচয় দিয়ে ট্রাকের গতিরোধে করে। ট্রাকে মাদক রয়েছে অভিযোগ করে আমাদেরকে ট্রাক থেকে নামতে বলে এবং কার কাছে কি আছে বের করতে বলে। তখন আমরা গরু বিক্রির ৯লাখ ১৫ হাজার টাকা রয়েছে বলে ওই কথিত পুলিশকে জানাই। একপর্যায়ে ওই টাকাগুলো ছিনিয়ে নিয়ে দ্রæত মটর সাইকেলযোগে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। এ ঘটনায় গোলাম রসুল বাদী হয়ে ১৬ ফেব্রæয়ারী তারিখে ডুমুরিয়া থানায় একটি মামলা করেন। মামলা নম্বর ১৪। ছিনতাইকৃত টাকা উদ্ধার এবং ঘটনার সাথে জড়িত আসামীদের গ্রেফতারের লক্ষ্যে ডুমুরিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ হাবিল হোসেন ও জেলা গোয়েন্দা শাখার অফিসার ইনচার্জ শিকদার আককাস আলী, পিপিএমদের নেতৃত্বে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ডুমুরিয়া থানা ও জেলা গোয়েন্দা শাখা পুলিশ যৌথ অভিযানে সাতক্ষীরা জেলা সদরের কামালনগর মধ্যপাড়া গ্রামের মোকসেদ আলী সরদারের ছেলে মনিরুল ইসলাম ওরফে মনির (ট্রাক চালক)কে রাত সাড়ে ৮টার সময় সাতক্ষীরা শহরস্থ সঙ্গীতা সিনেমা হলের মোড় হতে গ্রেফতার করে। পরে তার নিজ বাড়ীর বসত ঘর হতে লুন্ঠনকৃত টাকার মধ্য হতে ৩৭,৫০০/- টাকা উদ্ধার করা হয়। উক্ত আসামীর তথ্য মোতাবেক পুরাতন সাতক্ষীরা ঘোষপাড়া গ্রামের স্বপন ঘোষের ছেলে রাজু ঘোষ(২৯)কে পৌনে ১১টার দিকে সাতক্ষীরা শহরের নবারুন স্কুলের সম্মুখ হতে গ্রেফতার করা হয়। পরে নিজ বাড়ীর বসত ঘর হতে লুন্ঠনকৃত টাকার মধ্য হতে ৩০,০০০/- টাকা উদ্ধার করা হয়। উভয়ের স্বীকারোক্তি ও সনাক্ত মোতাবেক রাত সোয়া ১১টার দিকে ডুমুরিয়া থানায় কর্মরত কং/২০৩১ মোঃ নাদিম শিকদার(২৭)কে ডুমুরিয়া থানায় গ্রেফতার দেখানো হয়। সে বাগেরহাট জেলার মোল্লারহাট থানার নরসিংহপুর গ্রামের নজরুল ইসলামের ছেলে। পরে খুলনার হরিনটানা থানাধীন রায়েরমহল গ্রামস্থ তার বেসরকারী ভাড়াটিয়া বাসা হতে লুন্ঠনকৃত টাকার মধ্য হতে ২,৪০,০০০/- টাকা উদ্ধার করা হয়। ঘটনার সাথে সম্পৃক্ত অপর আসামী ডুমুরিয়া থানায় কর্মরত এএসআই(নিঃ)/১০৬ আঃ রউফ(৩৫)কে রাত ১২টার দিকে ডুমুরিয়া থানায় গ্রেফতার দেখানো হয়। সে সাতক্ষীরা জেলার পাটকেলঘাটা থানা সদরের মোঃ রফিকুল ইসলামের ছেলে। পরে তার ডুমুরিয়া থানাধীন আরাজী ডুমুরিয়া গ্রামস্থ বেসরকারী ভাড়াটিয়া বাসা হতে লুন্ঠনকৃত টাকার মধ্য হতে ৩,৫০,০০০/- টাকা উদ্ধার করা হয়।
গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে গ্রেফতারকৃত আসামীদের বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ পূর্বক তাদের স্বীকারোক্তি মূলক জবানবন্দী ফৌজদারী কার্যবিধি আইনের ১৬৪ ধারা মোতাবেক নিজেদের সম্পৃক্ততার কথা উল্লেখসহ লিপিবদ্ধ করানো হয়েছে। ঘটনার সাথে সম্পৃক্ত ও গ্রেফতারকৃত পুলিশ সদস্য (১) এএসআই(নিঃ)/১০৬ মোঃ আঃ রউফ, (২) কং/২০৩১ মোঃ নাদিম শিকদারদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থাসহ অন্যান্য আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয় প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে খুলনা পুলিশ সুপার প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানিয়েছেন।#