ডুমুরিয়ার ভূমিহীন শংকর এখন উচ্ছেদ আতংকে

0
311

ডুমুরিয়া (খুলনা) প্রতিনিধি, খুলনাটাইমস:
ডুমুরিয়ার ভূমিহীন, হতদরিদ্র শংকর প্রসাদ রাহা এখন উচ্ছেদ আতংকে ভুগছে। পরিবার পরিজন নিয়ে যে কোন সময় তাকে চলে যেতে হবে বসতবাড়ী ছেড়ে। কোথায় মিলবে একটু আশ্রয় এ নিয়ে রয়েছে সে দুশ্চিন্তায়। ডুমুরিয়া উপজেলা সদরের পার্শ্ববর্তী গোলনা গ্রামের অনন্ত কুমার রাহা’র ছেলে শংকর প্রসাদ রাহা। সাত ভাই-বোনের মধ্যে সেঝ ছেলে সে। ছোট বেলায় বাবা-মাসহ তার অন্য ভাইয়েরা দেশ ছেড়ে চলে যায় ভারতে। পৈত্রিক সূত্রে শংকর প্রসাদ ৩ শতক জমি পেলেও সেটা দখল করে আছে কাকাতো ভাই তপন রাহা। দেশ প্রেমের টানে ভারতে না যেয়ে দেশে থেকে দিনমজুর দিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতে থাকে শংকর।
এরপর ১৯৮৩ সালের ১৫ অক্টোবর তৎকালিন উপজেলা ইউএনও শংকর প্রসাদকে উপজেলা পরিষদ সীমানার মধ্যে (বর্তমান সেটেলমেন্ট অফিসের পিছনে) একটু ঘর বাঁধার জায়গা দেয়। এরপর ১৯৮৬ সালের দিকে নতুন ইউএনও এসে শংকর প্রসাদকে সরকারি জায়গা ছেড়ে দেওয়ার জন্য নোটিশ দেন। কিন্তু শংকর স্থানীয় সমাজপতিদের সহয়তা নিয়ে সেই থেকে অবৈধভাবে ভোগ দখলে আছে। অসহায় ওই শংকর মাথা গোঁজার ঠাঁইয়ের পাশাপাশি শুরু করেন হোটেল ব্যবসা।
পর্যাক্রমে উপজেলা সীমানার মধ্যে ভেড়া পালনও করতে থাকেন তিনি। অসহায় ভেবে শংকরকে কেউ কিছুই বলে না। বর্তমান তার ১০/১২টি ভেড়া রয়েছে। সম্প্রতি ডুমুরিয়ায় উপজেলা কমপ্লেক্স সম্প্রসারিত প্রশাসনিক ভবন নির্মান কার্যক্রম শুরু হয়েছে। ইতোমধ্যে দখল ছেড়ে স্থান ত্যাগ করার জন্য শংকরকে নোটিশ করেছেন প্রশাসন। ফলে ভূমিহীন ও হতদরীদ্র শংকর পরিবার পরিজন নিয়ে উচ্ছেদ আতংকে ভুগছে। তার পরিবারে রয়েছে স্ত্রী, দুই পুত্র ও এক কন্যা সন্তান।
এ প্রসঙ্গে শংকর প্রসাদ রাহা বলেন, আমি দীর্ঘকাল এখানে বসবাস করছি। আমার ঘর বাঁধার জায়গা নেই। পিতার সুত্রে প্রাপ্ত ৩ শতক সম্পত্তিতেও আমাকে যেতে দিচ্ছে না কাকাতো ভাইয়েরা। স্ত্রী ও তিন শিশু সন্তানকে নিয়ে এখন কোথাও যাবো এবং কে দিবে একটু আশ্রয়, এনিয়ে পড়েছি সে দারুন দুশ্চিন্তায়। এ প্রসঙ্গে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ আশেক হাসান বলেন, ডুমুরিয়া উপজেলা কমপ্লেক্স সম্প্রসারিত (হলরুমসহ) প্রশাসনিক ভবন নির্মান হচ্ছে। সেক্ষেত্রে পতিত জায়গা এখন থাকবে না। সুতরাং শংকরকে অবশ্যই সরকারি জায়গা ছেড়ে চলে যেতে হবে।