ডুমুরিয়ার খর্ণিয়ায় মেরী ব্রিকস’র বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ

0
472

ডুমুরিয়া (বাগেরহাট) প্রতিনিধি, খুলনাটাইমস:
ডুমুরিয়ার খর্ণিয়ায় স্থানীয় সরকার কর্তৃক অনাপত্তি সনদপত্র, ট্রেড লাইসেন্স ও পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র ছাড়াই চলছে “মেসার্স মেরী ব্রিকস” নামে এক ইটভাটার কার্যক্রম। সরকারী জমি দখল, ফসলী জমির পাশে, সবুজ বনায়ন ও জনবসতিপূর্ন এলাকায় ভাটা স্থাপন করায় বৃহস্পতিবার এলাকাবাসী স্থানীয় চেয়াম্যানের নিকট ওই ইটভাটা মালিকের বিরুদ্ধে এক অভিযোগ দায়ের করেছে।
লিখিত অভিযোগ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, উপজেলার খর্ণিয়া-শোলগাতিয়া সড়কের রানাই উঁচু ওয়াপদার মাথায় মেসার্স মেরী ব্রিকস নামে একটি ইটভাটা রয়েছে যা পরিচালনা করে আসছে খুলনার মশিউর রহমান । কোন রাজস্ব না দিয়েই ওই ইটভাটার মধ্যে সৈয়দপুর ট্রাষ্টের প্রায় ১বিঘা সরকারী জমি দখল করে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি। ইটভাটার পাশেই রয়েছে ২ কিলোমিটার সবুজ বনায়ন, পাশে ফসলী জমি ও জনবসতি এলাকা। প্রতিদিন ওই ভাটার কালো ধোঁয়া ও পোড়ানো ইটের ধুলোয় বনায়নের গাছ, ফুলকপি,বেগুন, শিমসহ সবজি জাতীয় ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে এবং উৎপাদনও দিনদিন কমে যাচ্ছে। এছাড়া ভাটা এলাকায় বসবাসরত মানুষের শ্বাসকষ্ট, হাঁপানীসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। এরমধ্যে শিশু ও গর্ভবতী মায়েদের বেশী সমস্যা দেখা দিচ্ছে প্রতিনিয়ত।
ভাটার পাশে বসবাসকারী আব্দুল মজিদ বলেন, ভাটার কালো ধোঁয়া আর ইটের গুড়োয় আমরা ঘরেও টিকতে পারিনা, বাচ্চা-কাচ্চা নিয়ে বড় কষ্টে আছি। এতে একদিকে যেমন সরকার হারাচ্ছে হাজার হাজার টাকার রাজস্ব অন্যদিকে পরিবেশের ভারসাম্য ও স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে রয়েছে এলাকার জনগন।
অপরদিকে ওই মেরী ব্রিকস’র মালিকানা দাবী করে চলতি মাসের ৫ জানুয়ারী খুলনার হাবিবুল্লাহ বাবু ও মোঃ মনি ভাটা দখল দিতে আসলে ব্যাপক সংঘর্ষ হয়। ঘটনার দিন মশিউর রহমানের আপন ভাই জাহিদ হোসেন মারাত্বক আহত হন।
এ ব্যাপারে মেরী ব্রিকস’র চলমান দায়িত্বে থাকা মোঃ মশিউর রহমান জানান, ওরা অবৈধ ভাবে আমার ভাটা দখল দিতে এসেছিল কিন্তু মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী নারায়ণ চন্দ্র চন্দ এমপি’র হস্তক্ষেপে তা পারেনি। আমি পরিবেশ ছাড়পত্র ও অনাপত্তি সনদপত্র পাওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরে আবেদন করেছি।
এ প্রসঙ্গে খর্ণিয়া ইউপি চেয়ারম্যান শেখ দিদারুল হোসেন দিদার জানান, মেসার্স মেরী ব্রিক্স’র নামে মশিউর রহমান ও হাবিবুল্লাহ এ্যান্ড মনি পৃথক পৃথক দুটি পক্ষ আমার দপ্তরে অনাপত্তি সনদপত্র পাওয়ার আবেদন করেছে আমি যাচাই-বাছাই করছি। তবে মশিউর রহমানের বিরুদ্ধে এলাকাবাসীর একাধিক অভিযোগ রয়েছে।
#