ডিসেম্বরের মধ্যে শিল্পে বিদ্যুৎ প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে হবে

0
362

২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত হওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করে শনিবার রাজধানীতে বাংলাদেশ গার্মেন্টস এক্সেসরিজ অ্যান্ড প্যাকেজিং ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিজিএপিএমইএ) আয়োজিত অনুষ্ঠানে বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেছেন, এ লক্ষ্য সামনে রেখে আগামী কয়েক বছরে দেশে অনেক বড় বড় প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেয়া হবে।

স্বাভাবিকভাবেই এ সময়ে দেশের শিল্পকারখানায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসবে। এসব পরিবর্তনকে সহায়তা প্রদানের লক্ষ্যে সরকার চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে দেশের সব শিল্পকারখানায় বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে বলে জানিয়েছে বাণিজ্যমন্ত্রী।

আমরা আশা করব, বাণিজ্যমন্ত্রী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ডিসেম্বরের মধ্যেই শিল্পকারখানাগুলোয় চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত হবে। বর্তমানে অনেক শিল্পকারখানার অবকাঠামো নির্মিত হয়ে থাকলেও বিদ্যুৎ সংযোগের অভাবে সেগুলো চালু করা যাচ্ছে না।

যেহেতু আগামী দিনগুলোয় বিদ্যুতের চাহিদা দ্রুত হারে বাড়বে, এই সময়ে দেশের বিদ্যুতের চাহিদা যথাযথভাবে পূরণ করা- এটি হবে সরকারের জন্য অন্যতম এক চ্যালেঞ্জ। তবে এই সময়ের মধ্যে সরকারের জন্য যে বিষয়টি বড় এক চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দেবে তা হল, কম দামে বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা।

উচ্চ মূল্যের বিদ্যুৎ ব্যবহার করে অনেক উদ্যোক্তার পক্ষে টিকে থাকা সম্ভব হবে না। বর্তমানে শিল্প খাতে গ্যাস সংকটের বিষয়টি বহুল আলোচিত। গ্যাস সংকটের কারণে অনেক রফতানিমুখী শিল্প প্রতিষ্ঠানের টিকে থাকার বিষয়টিও যে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে, এটাও বহুল আলোচিত।

বিদ্যমান গ্যাসের চাহিদা মেটাতে এলএনজি আমদানির উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। আমদানিকৃত এলএনজির দাম হবে বিদ্যমান গ্যাসের দামের কয়েক গুণ। কাজেই বিদ্যুৎ ও গ্যাসের উচ্চ মূল্যের কারণে আমাদের দেশের উদ্যোক্তারা প্রতিযোগিতার বাজারে টিকতে পারবে কিনা, তাও এক বড় প্রশ্ন।

এ প্রেক্ষাপটে স্বল্প মূল্যে গ্যাস-বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার পাশাপাশি অবকাঠামোগত অন্যান্য সমস্যার সমাধানে যথাযথ পদক্ষেপ নেয়া না হলে অনেক রফতানিমুখী শিল্প প্রতিষ্ঠান যে বন্ধ হয়ে যাবে তাতে সন্দেহ কী?

তেলনির্ভর বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রের ওপর নির্ভর করা অতি ঝুঁকিপূর্ণ। কারণ আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের মূল্য যে কোনো সময় বৃদ্ধি পেলে স্বাভাবিকভাবেই এসব উৎপাদন কেন্দ্রে উৎপাদিত বিদ্যুতের খরচও বাড়বে।

এ সমস্যার সমাধানে কয়লানির্ভর বিদ্যুৎ উৎপাদনে মনোযোগী হওয়া জরুরি। এক্ষেত্রে আমদানিকৃত কয়লার ওপর নির্ভর করাও নিরাপদ নয়। আমাদের দেশে বিপুল পরিমাণ মূল্যবান কয়লা মজুদ আছে।

এসব কয়লা কতটা নিরাপদ উপায়ে উত্তোলন করা যায় তা ভাবতে হবে। দেশে মজুদ কয়লা উত্তোলনে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া হলে কম মূল্যে বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

২০২১ সালের মধ্যে দেশে ৪০ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকল্পনা করা হয়েছে। দেশবাসীর প্রত্যাশা, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দেশে উল্লিখিত পরিমাণ বিদ্যুৎ উৎপাদিত হবে।

পর্যাপ্ত পরিমাণ বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরও সরবরাহে নানা রকম সমস্যা সৃষ্টি হতে পারে। এসব দিকেও নজর দিতে হবে। কারণ বিদ্যুৎ সঞ্চালন ও বিতরণ লাইনের ত্রুটির কারণে দেশে বিদ্যুৎ সরবরাহে বিঘ্ন সৃষ্টি হয়ে থাকে।

উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি এসব সমস্যার সমাধানে যথাযথ পদক্ষেপ না নিলে এক্ষেত্রে কাক্সিক্ষত সুফল যে মিলবে না, তা বলাবাহুল্য।