ডিজিটাল দূরত্ব

0
415
সাবরিনা সুলতানা, বশেমুরবিপ্রবি:
সম্প্রতিক সময়ে আমরা ছোট বড় সবাই কমবেশী ডিজিটাল শব্দটির সঙ্গে পরিচিত। আমরা বর্তমানে সর্বক্ষেত্রেই ডিজিটাল শব্দটি ব্যবহার করছি। আমরা বলছি বর্তমান যুগ ডিজিটাল যুগ। ডিজিটাল সম্পর্কে আলোচনা বা বুঝার আগে আমাদের প্রথমে জানতে হবে ডিজিটাল কী?
ডিজিটাল শব্দটির উৎপত্তি মনে করা হয় ডিজিট শব্দটি থেকে।ডিজিট অর্থ গগনা।অর্থ্যাৎ ডিজিটাল মানে গগনা করা।
বুঝার সুবিধাত্বে একটি উদাহরন দেওয়া যেতে পারে,যেমন ১কেজি চাল বা আধা কেজি চাল বা ২০০ গ্রাম চাল ইত্যাদি। এখানে চালের পরিমাপ বুঝানো হয়েছে। এখানে ১কেজি চালে কয়টি চাল আছে তা কিন্তু গনণা করা হয়নি। আর ডিজিটাল হলো প্রতিটি চাল গনণা করা। বর্তমান যুগে সকল ইলেক্ট্রোনিক্স ডিভাইসে তরঙ্গ বা সিগন্যালকে গনণার মাধ্যমে বাড়ানো কমানো হয়। এটাই ডিজিটাল।
ডিজিটাল বলতে সংক্ষেপে যা বুঝতে পারি তা হলো-আধুনিক কম্পিউটার নেটওয়ার্ক ও ইন্টানেট সিস্টেমের মাধ্যম অর্থাৎ আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার।
এ আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার হতে পারে শিক্ষা ক্ষেত্রে,চিকিৎসা ক্ষেত্রে,কৃষি ক্ষেত্রে,অফিস আদালতে,নিরাপত্তা বিধানে,সংবাদপত্রের ক্ষেত্রে,প্রকাশনার ক্ষেত্রে,বিনোদনের ক্ষেত্রে,ব্যাংক ব্যবস্থার ক্ষেত্রে ইত্যাদি।
দীর্ঘ এতো সময় ধরে আলোচনা করলাম ডিজিাল কী সে সম্পর্কে।এবারে আসি ডিজিটাল দূরত্ব সম্পর্কে। আসলে ডিজিটাল দূরত্ব বলতে মূলত আমাদের জীবনযাত্রায় প্রযুক্তির ব্যবহার থেকে দূরে থাকাকেই বুঝায় বলে আমি মনে করি।
বর্তমান সময়ে আমরা ডিজিটাল শব্দটিকে আধুনিকায়ন এর সঙ্গে তুলনা করতে পারি। এই ধরুণ একটি ছেলে বা মেয়ে তার পোশাক-পরিচ্ছেদে আধুনিকতা যোগ করছে আমরা বলছি ঐ ছেলে বা মেয়েটি ডিজিটাল হয়ে গেছে। এ রকম বহু দৃষ্টান্ত রয়েছে।
আমাদের বর্তমান সমাজ ববস্থায় যারা অনগ্রসর বা প্রযুক্তির ব্যবহার থেকে দূরে তাদের কে আমরা ডিজিটাল ব্যবস্থা থেকে দূরে আছে বলতে পারি। বলা যেতে এখনো যে অঞ্চলে বিদ্যুৎ পৌছায়নি তারা ডিজিটাল দূরত্বে রয়েছে।
তবে বর্তমান সময়ে আমরা সবাই ডিজিটাল এর সঙ্গে সম্পৃক্ত বিভিন্ন ভাবে।আমি যদি এখন এক ঘন্টা বা আধা ঘন্টা সময়ের জন্য আমার মোবাইল থেকে দূরে থাকি বা ব্যবহার না করি তাহলে এটাই হলো ডিজিটাল দূরত্ব। এবারে ডিজিটাল দূরত্বের উদাহরণ স্বরূপ একটি মজার ঘটনা বলা যেতে পারে,বর্তমান সময়ে ডিজিটাল থেকে দূরে থাকা মানেই নিজের পরিবার আপনজন থেকে দূরে থাকা।
বর্তমান সময়ে ,আত্বীয়পরিজন সবার সাথে যোগাযোগের মাধ্যম হলো এই ডিজিটাল পদ্ধতি।
বর্তমান সময়ে আর চিঠি পাঠানোর রীতি নেই এই ডিজিটাল পদ্ধতির ফলে এখন প্রেম, ভালবাসা যেটাই বলি এখন এই প্রযুক্তির উপর নিভরশীল।দুই বন্ধুর মধ্য কথপোকথন হচ্ছে এমন, বন্ধু কেমন আছিস। বন্ধু উত্তরে বলছে আরে বন্ধু ভালো নেই গার্লফেন্ড দুইদিন যাবৎ ম্যাসেজ এর রিপ্লে দিচ্ছে না। হতে পারে এটাই ডিজিটাল দূরত্ব।ডিজিটাল দূরত্ব প্রসঙ্গে আরো বলা যায় যে,আগে দেখা যেত কয়েক জন বন্ধু এক জায়গায় হলেই দারুন আড্ডা হতো।কিন্তু এখন আর আড্ডা হয় না বন্ধুরা এক জায়গায় হলে সবাই মোবাইল চ্যাটিং নিয়ে ব্যাস্ত। জমে ওঠে না সেই আগের মতো আড্ডা। ফলে সৃষ্টি হয় বন্ধুত্বের দূরত্ব।
এখন ডিজিটালের ফলে ম্যাসেন্জার বা অন্যান্য যোগাযোগ মাধ্যামে শুধু হাই হ্যালো হয়। এখন আর বন্ধুত্বের মধ্য আন্তরিকতার বন্ধন সৃষ্টি হয় না। দুজন পাশাপাশি থাকলেও একটা দূরত্ব থাকে। এটাই হলো ডিজিটাল দূরত্ব।