টিএনও বরাবর আবেদন করেও মেলেনি ওয়ারেশকাম সার্টিফিকেট অসুস্থ মেয়ের চিকিৎসা এবং অধিকার পেতে ঘুরছে দিঘলিয়ার নুরজাহান বেগম

0
319

ফুলবাড়ীগেট প্রতিনিধি:
স্বামীর পরিবার বৃত্তশালী হয়েও স্বামী-শশুরের মৃত্যুর পর একমাত্র অসুস্থ কন্যা মারিয়া(৯)’র চিকিৎসা এবং অধিকার ফিরে পেতে দ্বারে দ্বারে ঘুরছে নুরজাহান বেগম। শশুরবাড়ীর স্বজনরা প্রভাবশালী হওয়ায় উত্তরাধিকার থেকে বঞ্চিত করতে হত্যাসহ বিভিন্ন ষড়যন্ত্রে লিপ্ত থাকায় অবশেষে আদালতে মামলা হয়েছে।
মামলা ও ভুক্তভোগী সুত্রে জানাগেছে, খুলনার দিঘলিয়ার ২নং ওয়ার্ডের মৃত গোলাম মোস্তফা মোড়লের পুত্র মোঃ তওফিক মাসুদ(মান্নান) মোড়লের সাথে ২০১০ সালের ৮ জানুয়ারী দিঘলিয়া গ্রামের মৃত জিয়াদ মোড়লের কুমারী কন্যা নুরজাহান (২৫) এর ইসলামী শরিয়া মোতাবেক দেড় লক্ষ টাকা দেনমোহরানায় বিবাহ সম্পন্ন হয়। বিবাহের এক বছর পর তাদের সংসারে একটি কন্যা সন্তান জন্ম নেয়। সন্তান জন্মের পর স্বামী-স্ত্রীকে আলাদা করতে নুরজাহানের শশুর মোঃ গোলাম মোস্তফা মোড়ল নুরজাহানসহ তিন জনের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতনে মামলা দায়ের করেন। মামলায় নুরজাহান এবং তার দুই বছরের শিশু কন্যা মারিয়া জেল খেটে জামিন পান। পরবর্তীতে মামলাটি মিথ্যা প্রমানিত হলে তারা মামলা থেকে খালাস প্রাপ্ত হয়। পুনরায় শুরু করে সুখের সংসার কিন্তু বেশি দিন সুখ সইলোনা, ২০১৬ সালে স্বামী হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু বরণ করে এবং শশুর গোলাম মোস্তফাও মৃত্যু বরণ করে। একমাত্র শিশু কন্যা সন্তান মারিয়াও হৃদরোগে আক্রান্ত হয়। স্বামী ও শশুরের মৃত্যুর পর শশুরবাড়ীর স্বজনরা নুরজাহান এবং তার অসুস্থ সন্তানের প্রাপ্ত অধিকার থেকে বঞ্চিত করতে শুরু করে বিভিন্ন ষড়যন্ত্র ও হুমকি-ধামকি। শশুরের অঢেল সম্পদ থাকা সত্তেও মেয়ের হার্ডের উন্নত চিকিৎসার অভাবে ধুকেধুকে নিশ্চিত মৃত্যু মেনে নিতে পারছিলনা নুরজাহান। হৃদরোগে আক্রান্ত একমাত্র কন্যা মারিয়াকে বাঁচাতে তার চিকিৎসার ব্যায় বহন করতে না পেরে স্বামীর প্রাপ্য থেকে উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থার দাবী করলে দেবর তরিকুল ইসলাম (মিঠু) গংদের সাথে শুরু হয় বিবাদ। বিষয়টি নিয়ে নুরজাহান এবং তার সন্তান আদালতের দারস্থ হয়। চলতি বছরের ১৬ আগষ্ট পিতার ওয়ারেশ সুত্রে পিতার প্রাপ্য সম্পদ পেতে বিজ্ঞ আদালতের দারস্থ হয় মারিয়া। মেয়ের অধিকার প্রতিষ্ঠায় নুরজাহান ওয়ারেশকাম সার্টিফিকেটের জন্য ওয়ার্ড মেম্বর ও চেয়ারম্যানের নিকট গেলে কোন পাত্তা না দেওয়ায় ০৮/০৭/২০ তারিখ দিঘলিয়া উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তার নিকট লিখিত আবেদন করেন। দেবর তরিকুল ইসলাম মিঠুগং অত্যান্ত প্রভাবশালী হওয়ায় ওয়ারেশকাম সার্টিফিকেট নিয়ে চলে টালবাহানা। নুরজাহান তার অসুস্থ মেয়ের চিকিৎসার জন্য নিরুপায় হয়ে তাদের অধিকার ফিরে পেতে আদালতে মামলা দায়ের করে। বিষয়টি জানতে পেরে গত ২ অক্টোবর সন্ধ্যায় নুরজাহানের ওপর হামলা চালানো হয়। এ সময় তার চিৎকারে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। যাওয়ার সময় মামলা তুলে না নিলে মুখে এসিড মেরে কেটে লাশ বানিয়ে নদীতে ভাসিয়ে দেওয়ার হুমকি প্রাদান করে। এ ব্যাপারে নুরজাহান বাদী হয়ে তরিকুল ইসলাম মিঠু তার স্ত্রী ও ভাবী নুরজাহান লিটনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগ দাখিল করেছে। নুরজাহানের অসুস্থ শিশু কন্যা মারিয়াকে বাঁচাতে তার চিকিৎসার এবং স্বামীর ওয়ারেশ সুত্রের প্রাপ্ত সম্পদের অধিকার পেতে সকলের সহযোগিতা কামনা করেছেন।