ঝালকাঠির ১৩ বছরেই মা হল স্কুলছাত্রী, সৎবাবার বিরুদ্ধে অভিযোগ

0
258

খুলনাটাইমস: ঝালকাঠিতে জোর করে অনৈতিক কাজে বাধ্য করা ষষ্ঠ শ্রেণির সেই স্কুলছাত্রী (১৩) মা হয়েছে। ঝালকাঠি সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগে বুধবার সকালে সে পুত্রসন্তানের জন্ম দেয়। আপন মা সাহেরা আক্তার কাজল ও মায়ের দ্বিতীয় স্বামী কাজী আলম তাকে অনৈতিক কাজে বাধ্য করে। এমনকি সৎবাবা নিজেও জোরপূর্বক বিভিন্ন সময় সুমাইয়াকে ধর্ষণ করত। এতে একপর্যায়ে মেয়েটি অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ে বলে মেয়েটি অভিযোগ করে। পুলিশ জানায়, অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ মামলা নিয়ে তার মা ও সৎবাবাকে গ্রেফতার করে। জন্ম দেওয়া সন্তানের বাবার পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার জন্য নবজাতক ও সৎবাবা কাজী আলমের শরীর থেকে নমুনা নিয়ে ডিএনএ পরীক্ষার জন্য ঢাকা সিআইডিতে পাঠানো হয়েছে। জানা যায়, ২০১৪ সালে সাহেরা আক্তার কাজল ইলেকট্রনিকস মেকার কাজী আলমকে দ্বিতীয় বিয়ে করে। কাজলের ওই মেয়েটি তাদের সঙ্গেই থাকত। মেয়েটি যখন পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ে, তখন থেকেই তাকে জোর করে মা ও সৎবাবা অন্য পুরুষের সঙ্গে অনৈতিক কাজে বাধ্য করত। এমনকি সৎবাবাও তাকে ধর্ষণ করত। মেয়েটি অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়লে তার মা ও সৎবাবা শহরের একটি ক্লিনিকে গর্ভপাত করাতে যায়। কিন্তু সেখানে তাঁদের গর্ভপাতের জন্য পরের দিন আসতে বলা হয়। খবর পেয়ে ১০ সেপ্টেম্বর রাত ১১টার দিকে পুলিশ তাঁদের বাসা থেকে মেয়েটিকে উদ্ধার করে ঝালকাঠি থানায় নিয়ে আসে। একই দিন রাতে শহরের কালীবাড়ি সড়কে অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত মা সাহেরা আক্তার কাজল ও সৎবাবা কাজী আলমকে গ্রেফতার করে পুলিশ। ঝালকাঠি থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. আবু তাহের জানান, ভিকটিম মেয়েটির অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ মামলা নিয়ে তার মা ও সৎবাবাকে গ্রেফতার করে। শিশুটি যে হাসপাতালে রয়েছে সে হাসপাতালটির নার্স জানিয়েছেন, অপ্রাপ্ত বয়সে মা হওয়ায় শিশুটি কিছুটা অসুস্থ। তবে নবজাতক সুস্থ রয়েছে। এলাকারবাসীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ওই শিশুটির মায়ের সঙ্গে ১৫ বছর আগে বিয়ে হয় তার বাবার। শিশুটি জন্মের পর তাদের সংসার ভেঙে যায়। এরপর একমাত্র মেয়েটিকে নিয়ে কালীবাড়ি এলাকার ব্যক্তিটিকে বিয়ে করেন ওই নারী। শিশুটি সাংবাদিকদের জানায়, সে যখন পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ে, তখন থেকেই তাকে জোর করে অন্য পুরুষের সঙ্গে দৈহিক সম্পর্ক স্থাপনে বাধ্য করতেন তার মা ও সৎ বাবা। এমনকি সৎ বাবাও তাকে ধর্ষণ করতেন।