ঝরে পড়ছে নেতৃত্ব : তবুও হচ্ছে না নগর যুবলীগের সম্মেলন : এগিয়ে পলাশ-সুজন

0
2605

ইয়াছিন আরাফাত:
২০০৩ থেকে ২০১০, ২০১০ থেকে ২০১৫ ও ২০১৫ থেকে ২০১৯ খুলনা মহানগর ছাত্রলীগের দায়িত্ব পালন করে তিনটি কমিটি। তবে এই তিন কমিটির গুটি কয়েকজন বাদে অন্তত: সহ¯্রাধীক ছাত্রনেতার ঠাঁই মেলেনি যুবলীগের প্লাটফর্মে। কারণ হয়ে হয়েও হচ্ছে নগর যুবলীগের সম্মেলন। এতে হতাশ হয়ে অনেকেই নিষ্ক্রিয় হচ্ছেন। এতে একদিকে যেমন দক্ষ নেতৃত্বেও বিকাশ ঘটছে না, তেমনি অনায়াসে ঝরে পড়ছে ত্যাগী ও পরীক্ষীত নেতৃত্ব। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এ অবস্থা থেকে উত্তরণে প্রয়োজন অনতিবিলম্বে খুলনা মহানগর যুবলীগের সম্মেলন। স্বাভাবিকভাবেই প্রত্যেকে ছাত্রলীগের পর যুবলীগ করার প্রত্যাশা নিয়ে সরব থাকেন দলীয় কর্মকান্ডে।

সূত্রমতে, খুলনা মহানগর যুবলীগের একাধিকবার কমিটি গঠন নিয়ে গুঞ্জন ওঠে। তবে শেষ পর্যন্ত আর কমিটি গঠন হয় না। সঙ্গত কারণে হতাশার ছোঁপ মেলে তৃণমূল থেকে শুরু করে শীর্ষ পর্যায়ের অধিকাংশ নেতাকর্মীর মাঝে। হতাশার কাতারে সাবেক ছাত্রনেতাদের লম্বা লাইনতো আছেই। নেতাকর্মীরা বলছেন, সাবেক ছাত্রনেতাদের নিয়ে নতুন কমিটি গঠন হলে সংগঠনটি আরও বেগবান ও উজ্জীবীত হবে। এজন্য পছন্দের প্রার্থীর পক্ষে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে অব্যাহত প্রচারণা চালাচ্ছেন তারা।

সরেজমিনে, যুবলীগের নানা কর্মসূচি ও দলীয় কর্মকান্ডে সর্বাধিক নেতাকর্মী নিয়ে শোডাউন দিতে দেখা গেছে সংগঠনের সভাপতি পদপ্রার্থী খুলনা মহানগর ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও নগর যুবলীগের সদস্য সফিকুর রহমান পলাশকে। একই চিত্র মিলেছে সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী খুলনা মহানগর ছাত্রলীগের বর্তমান সভাপতি শেখ শাহাজালাল হোসেন সুজনেরও। সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে এই দুই নেতার পক্ষে প্রচারণার জোয়ার চলছে। সব মিলিয়ে আওয়ামী লীগের অন্যতম শক্তি এই যুব সংগঠনটির নগর শাখার নেতৃত্বে জনপ্রিয়তায় এগিয়ে রয়েছেন এই দুজন।

নেতাকর্মীরা বলছেন, সংগঠনকে চাঙ্গা করতে পলাশ-সুজনের নেতৃত্বে প্রবীন-নবীন মিলিয়ে কমিটি গঠনের বিকল্প নেই। বিএনপি-জামাতের জ্বালাও-পোড়াও আন্দোলন থেকে শুরু করে, বিগত দিনে দলের সকল কর্মকান্ডে তাদের অবর্ণনীয় ভূমিকা ছিল। গেল সিটি কর্পোরেশন ও জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পলাশ-সুজন নেতাকর্মীদের সাথে নিয়ে সামনের কাতারে অবস্থান নেয়। তাছাড়া দুজনই পরিছন্ন নেতা হিসেবে সর্বজন সমাদৃত।

সভাপতি পদপ্রার্থী আলোচনায় সফিকুর রহমান পলাশ ২০০৩ সাল থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত খুলনা মহানগর ছাত্রলীগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন। এর আগে নগর ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও নির্বাহী সদস্যের দায়িত্বেও ছিলেন। ছাত্রলীগের নেতৃত্ব ছাড়ার পর যুবলীগের কর্মকান্ডে নিজেকে সক্রিয় রেখেছেন। নতুন কমিটিতে এবারও সভাপতি পদে আলোচনায় রয়েছেন বর্তমান আহ্বায়ক ও জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি এ্যাড. সরদার আনিসুর রহমান পপলু। তবে যুবলীগের পরিবর্তে খুলনা মহানগর আওয়ামী লীগের কোন গুরুত্বপূর্ণ পদে আসতে পারেন বলে সূত্র দাবি করছে।

এদিকে সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী নগর ছাত্রলীগের সভাপতি শেখ শাহাজালাল সুজন পরিচ্ছন্ন ছাত্ররাজনীতির প্রতীক হিসেবে পরিচিত। আওয়ামী ঘরানার সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের স্নেহভাজন। তিনি ২০১০ সালে খুলনা মহানগর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। ২০১১ সালে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের উপ-পাঠাগার সম্পাদক, ২০১৫ সালে মহানগর ছাত্রলীগের সভাপতি এবং পরবর্তীতে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি নির্বাচিত হন।

পারিবারিক দিক থেকেও শেখ শাহাজালাল হোসেন সুজনের খ্যাতি রয়েছে। তার পিতা মুক্তিযোদ্ধা শেখ শহিদুল হক ষাটের দশকে তুখোড় ছাত্রনেতা হিসেবে পরিচিত। তিনি খুলনা মহানগর শ্রমিক লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি। ’৭৫ পরবর্তী সময়ে তিনি আওয়ামী লীগকে সুসংগঠিত করতে আমৃত্যু কাজ করে গেছেন। শেখ সুজনের বড়ভাই শেখ শাহাদাৎ হোসেন স্বাধীন রাজনৈতিক পদ-পদবীতে না থাকলেও ২০০১ সালে বিএনপি-জামায়াত ক্ষমতায় আসার পরে দলের দুর্দিনে যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবকলীগ, ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের সাথে নিয়ে সংগঠনকে সুসংগঠিত রাখার কর্মকা- করতেন খুলনা শহরে। যা আজও নেতাকর্মীরা স্মরণ করেন।

সূত্র আরও জানায়, এ্যাড. আনিসুর রহমান পপলু ২০০৩ সাল থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত মহানগর যুবলীগের সভাপতি ও ২০০৮ সাল থেকে অদ্যবধি নগর যুবলীগের আহ্বায়কের পদে রয়েছেন। দীর্ঘ ১৬ বছর ধরে যুবলীগের শীর্ষ নেতৃত্বে থাকায় নেতাকর্মীদের কাছে বেশ গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে তার।

কমিটি গঠনের বিষয়ে নগর যুবলীগের আহবায়ক আনিসুর রহমান পপলু খুলনাটাইমসকে বলেন, এবছরেই সম্মেলন করা হবে। এজন্য ইতোমধ্যে আমরা অধিকাংশ ওয়ার্ডে সম্মেলনের মাধ্যমে কমিটি করেছি। গুটি কয়েক ওয়ার্ড বাকি আছে। দ্রুতই বাকি ওয়ার্ডগুলোর সম্মেলন করা হবে। যদিও সম্ভব না হয়, তার পরেও এবছরেই নগর যুবলীগের সম্মেলন করা হবে বলে নিশ্চয়তা দেন তিনি।
নতুন কমিটিতে যুবলীগ করার ইচ্ছা আছে কি-না? এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, অনেক আগেই যুবলীগের দায়িত্ব ছাড়তে চাইলেও শীর্ষ নেতারা সেটা করেত দেননি। তবে শীর্ষ নেতৃবৃন্দরা চাইলে তিনি পুনরায় যুবলীগের দায়িত্ব নিবেন। তিনি আরও বলেন, যুবলীগ করার ইচ্ছা নেই, সামনে আ’লীগের সম্মেলন হবে, তখন মূল দলে আসতে চান। সর্বপরি দল যে সিদ্ধান্ত নেবে সেটাই আমার সিদ্ধান্ত।

সভাপতি প্রার্থী সাবেক ছাত্রনেতা সফিকুর রহমান পলাশ খুলনাটাইমসকে বলেন, ‘খুলনায় একই কমিটি দিয়ে দীর্ঘদিন যুবলীগ চলছে। নেতাকর্মীরা পরিবর্তন চায়। যদি এই মুহুর্তে নবীনদের সমন্বয়ে কমিটি গঠন করা হয়; তবে যুবলীগ আরও বেশি সংগঠিত হবে। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতারা আমাকে নিয়ে যে সিদ্ধান্ত নেবে সেটাই আমি মেনে নেব।’

সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী নগর ছাত্রলীগের সভাপতি শেখ শাহাজালাল হোসেন সুজন খুলনাটাইমসকে বলেন, ‘আমার পিতা ১৯৭৫ সালে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু সপরিবারে শাহাদাৎবরণ করার পরে তার কন্যা সভানেত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশক্রমে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের আওয়ামী লীগকে সুসংগঠিত করবার জন্য আমৃত্যু কাজ করে যান। আমার বড়ভাইও আমৃত্যু আওয়ামী লীগের রাজনীতি করে গেছেন। আমিও ২০১০ সাল থেকে নগর ছাত্রলীগের নেতৃত্বে রয়েছি। এই সময়ে নিজের সাধ্যমতো ছাত্রলীগকে সংগঠিত করেছি। আমার পিতা ও ভাইয়ের মৃত্যুর পর খুলনার আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতারা আমার অভিভাবক। যুবলীগের কমিটির বিষয়ে তারা যে সিদ্ধান্ত নেবেন সেটাই আমি মেনে নেব।’

উল্লেখ্য, ২০০৩ সালের এপ্রিলে মহানগর যুবলীগের সম্মেলনে এ্যাড. আনিসুর রহমান পপলু সভাপতি ও আলী আকবর টিপু সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছিলেন। এর ৫ বছর পর ২০০৮ সালের ৬ জানুয়ারী মহানগর যুবলীগের আহবায়ক কমিটি গঠন করা হয়। ৫১ সদস্য বিশিষ্ট এই কমিটির আহবায়ক মনোনীত হন এ্যাড. আনিসুর রহমান পপলু ও যুগ্ম-আহবায়ক মনোনীত হন এস এম মনিরুজ্জামান সাগর ও হাফেজ মো: শামিম। তিন মাসের মধ্যে মহানগর যুবলীগের সম্মেলন করে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করার কথা থাকলেও গত ১১ বছরেও হয়নি।