জেএমবির দক্ষিণাঞ্চল প্রধান সাঈদ বগুড়ায় গ্রেফতার

0
356

টাইমস ডেস্ক :
ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমানের খাগড়াগড়ে বোমা বিস্ফোরণ মামলার অন্যতম আসামি এবং নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন ‘জামায়াতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশে’র (জেএমবি) দক্ষিণাঞ্চলের প্রধান আবু সাঈদ ওরফে কারীম ওরফে তালহা ওরফে শ্যামলকে (৩৩) বগুড়া থেকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

শুক্রবার রাত একটার দিকে বগুড়ার নন্দীগ্রাাম উপজেলার ওমরপুর বাজার এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। এ সময় তার হেফাজতে থাকা একটি নাইনএমএম পিস্তল, ম্যাগাজিন, আটটি গুলি, একটি ছুরি ও একটি নম্বরবিহীন মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়।

শনিবার দুপুরে বগুড়ার পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে এসপি আসাদুজ্জামান সংবাদ সম্মেলনে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানান। জঙ্গি সাঈদ কুষ্টিয়া জেলার কুমারখালী উপজেলার চর চাঁদপুর গ্রামের শহীদুল্লাহ শেখের পুত্র।

২০১৪ সালের ২ অক্টোবর ভারতের বর্ধমান শহরের খাগড়াগড়ে বোমা বিস্ফোরণে দু’জন নিহত হয়। তারা হলেন শাকিল গাজী ও করিম শেখ। ভারতের জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা এনআইএ বলেছে, এই বিস্ফোরণের ঘটনায় মূল হোতা হচ্ছে এই জঙ্গি সাঈদ। এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত জঙ্গিদের ধরিয়ে দিতে ওই সময় পুরস্কারও ঘোষণা করে এনআইএ। ওই জঙ্গিদের ছবি দিয়ে বিভিন্ন এলাকায় পোস্টারিংও করে সংস্থাটি।

সংবাদ সম্মেলনে এসপি আরো জানান, ২০০২ সালে জেএমবিতে যোগদান করে উত্তরাঞ্চলের দাওয়াতি কার্যক্রম পরিচালনা শুরু করে আবু সাঈদ। এর পর ২০০৪ সালে রাজশাহী জেলার সামরিক প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করে। ওই সময় সাঈদ জেএমবি নেতা বাংলা ভাই ও শায়খ আবদুর রহমানের সাথে সর্বহারা নিধন অভিযানে অংশগ্রহণ করে। ২০০৪ সালে নব্য জেএমবির অন্যতম নেতা সোহেল মাহফুজ তার মাধ্যমে জেএমবিতে যোগ দেয়। ২০০৫ সালে নওগাঁ জেলার দায়িত্ব লাভ করেন। নওগাঁ জেলার দায়িত্ব পাওয়া পর ওই বছরের ১৭ আগস্ট সারাদেশে সিরিজ বোমা হামলার ঘটনার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন আবু সাঈদ। ওই দিন তার নেতৃেত্বে নওগাঁ জেলায় ৪টি বোমা বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। ওই দিনের বোমা হামলার ঘটনায় দায়েরকৃত মামলায় সাঈদকে নওগাঁ নিম্ন আদালত মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেয়। বোমা হামলার দুই বছর পর সাঈদ ২০০৭ সালে ভারতে পালিয়ে যায়। সে মর্শিদাবাদ জেলার জেএমবি সদস্য ইয়াদুলের মেয়ে খাদিজাকে বিয়ে করে। তারপর সেখানে জেএমবি কার্যক্রম চালিয়ে যায়। সাঈদের স্ত্রী এবং সন্তানকে গত মাসে বগুড়া শহরের চারমাথা এলাকা থেকে আটক করে পুলিশ।

বগুড়ার পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামান বলেন, জেএমবি নেতা সাঈদ সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে এবং তাদের সাংগঠনিক কার্যক্রম বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে গভীরভাবে অনুসন্ধান করার জন্য আদালতের তাকে হাজির করে ১০ দিনের রিমান্ড চাওয়া হয়েছে।