জুট স্পিনার্সের শ্রমিকদের বকেয়া পরিশোধ নিয়ে মালিকের প্রতারণাঃ দু’দফা বিল নিতে এসে খালিহাতে ফিরলো শ্রমিক

0
442

ফুলবাড়ীগেট (খুলনা) প্রতিনিধি : ঈদের বাকি মাত্র একদিন শ্রমিকদের দাবী এবং শ্রম অধিদপ্তরের নির্দেশ থাকা শর্তেও পরিশোধ করা হয়নি শিরোমনি শিল্পাঞ্চালের অঘোষিত বন্ধকৃত ব্যাক্তিমালিকানা জুট স্পিনার্স মিলের শ্রমিকদের বকেয়া পাওনা। দুই দফায় বকেয়া পাওনা বিল পরিশোধের নোটিশ দিয়েও শ্রমিকদের বকেয়া পরিশোধ করা হয়নি। নোটিশ পেয়ে শ্রমিকরা মিলগেটে গিয়ে মিলের প্রধান ফটক বন্ধ থাকায় খালিহাতে ফিরতে হয়েছে শ্রমিকদের। অসহায় শ্রমিকদের নিয়ে মালিকের এ ধরনের প্রতারণা আর ঈদের মাত্র একদিন বাকী এই অবস্থায় মিলের সিবিএ এবং দাবী আদায় কমিটির রহস্যময় ভূমিকায় শ্রমিকদের মাঝে চরম অসন্তোষ বিরাজ করছে।
১২ জুন মঙ্গলবার বন্ধকৃত এই জুট মিলের শ্রমিকদের বকেয়া পাওনা থেকে শ্রমিকদের দ্ইু সপ্তাহের এবং কর্মচারী ও কর্মকর্তাদের ১ মাসের পরিশোধের কথা ছিলো। মালিক পক্ষের দেওয়া নোটিশে পেয়ে কিছুটা সোস্তি নিয়ে শ্রমিকরা পরিবার পরিজন কোন রকম ঈদ উৎযাপনের স্বপ্ন নিয়ে জড়ো হতে থাকে মিলগেটে। কিন্তু বৈরী আবহওয়াকে উপেক্ষা করে সময় মতো মিলগেটে এসে মিলের প্রধান ফটক বন্ধ এবং বকেয়া পরিশোধের কোন আয়োজন না দেখে অনেক শ্রমিক উচ্চ স্বরে কেদে ফেলে। সারাদিন অপেক্ষা শেষে বিল না পেয়ে খালি হাতে ফিরতে হয় তাদেরকে।
মিলগেটে গিয়ে দেখা যায় মিলের প্রধান ফটকে মিল কর্তৃপক্ষের দেওয়া একাধিক নোটিশ সর্বশেষ দেওয়া কোম্পানীর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও মোহাম্মদ শামস-উজ জোহা স্বাক্ষরিত নোটিশে জানানো হয়েছে খুলনা শ্রম পরিচালকের সভার সিদ্ধান্ত অবগত হয়ে আসন্ন ঈদুল ফিতরের পুর্বে শ্রমিকদের বকেয়া দুটি সপ্তাহিক মুজুরী ও কর্মচারীদের ১ মাসের বেতন ১২ জুন বা তার পুর্বে প্রদান করা হবে। মালিকের নোটিশ অনুযায়ী শ্রমিকদের বকেয়া পরিশোধের কোন আয়োজন ছিলো না। এর আগে ১১ মে মিল মালিকের বাড়ী ঘেরাও কর্মসুচির দিন মিল মালিকের সাথে দাবী আদায় কমিটির আহবায়ক আবুল কালাম আজাদ, সদস্য সচিব মনিরুল ইসলাম, সদস্য নুরুল ইসলাম, আসাদুজ্জামান,শেখ ইকবাল হোসেন, মোঃ আরিফুল ইসলাম এবং সিপিবি নেতা মোল্যা আঃ সাত্তার সহ নেতৃবৃন্দ ঢাকাস্থ মিলের প্রধান কার্যালয়ে রাতভর মালিকের সাথে বৈঠক করেন। বৈঠকের পর গত ১৬মে বৃধবার শ্রমিকদের দুই সপ্তাহের মুজুরী ও ষ্টাফ-অফিসারদের ১ মাসের বেতন প্রদান, ২৬ জুন শনিবার মিলের বিদ্যুৎ সংযোগ, যন্ত্রপাতি মেরামত ও রক্ষনাবেক্ষনের কাজ শুরু করা হবে এবং পবিত্র রমজান মাসের ২৪ তারিখের মধ্যে ২০১৬ সালের পবিত্র ঈদ উল আযহার বোনাস ও শ্রমিকদের এক সপ্তাহের মুজুরী এবং ষ্টাফ ও কর্মচারীদের এক মাসের বেতন প্রদান করা হবে বলে নোটিশে জানানো হয়েছিলো। খুলনা জেলা প্রশাসক এবং শ্রম অধিদ্প্তর আদেশ অমান্য করে মালিক কর্তৃপক্ষের দুই দফা বকেয়া পাওনা পরিশোধের নোটিশ দিয়েও শ্রমিকদের বকেয়া পাওনা পরিশোধ না করায় এবং মিলের সিবিএ এবং দাবী আদায় কমিটির নিরব ও রহস্যময় ভূমিকায় শ্রমিকদের মাঝে প্রকাশ্য ক্ষোভ বিরাজ করতে দেখা যায়। মিলে বিশ বছর যাবত কাজ করছে শ্রমিক নাসির উদ্দিন বলেন সংসার চালাতে মিলে জীবন যোবন সব দিয়ে কাজ করে শেখ পর্যন্ত টাকার জন্য ভ্যান চালিয়ে আন্দোলন সংগ্রাম চালাতে সামান্য অর্থ দিয়েছি দাবী আদায় কমিটির কাছে। কিন্তু ঈদ সমাগত সেই নেতাদের নিরব ভুমিকায় কাদের পিছনে দৌড়ালাম ভাবতে কষ্ট লাগে। এদিকে মিলগেটে কোন শ্রমিক নেতাদেরকে পাওয়া যায়নী। শ্রমিকরা জানান ঈদের পুর্বে তাদের বকেয়া পরিশোধ করা না হলে ঈদের নামাজ খুলনা যশোর মহাসড়কে আদায় করা হবে এবং ঈরেদ পরে শ্রমিকরা নেতৃবৃন্দ ছাড়াই রাজপথে আন্দোলনে নামবেন।
উল্লেখ্য শিরোমণির লাভজনক এই প্রতিষ্ঠানটি গত ২০১৬ সালের ১ জুন মালিনা জটিলতায় মিলটি উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। মিলটি বন্ধের পর গত ৪ এপ্রিল ২০১৭ সালে প্রায় ৮ লক্ষ টাকা বকেয়ার দায়ে মিলটির বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন করা হয় যা আজ পর্যন্ত সংযোগ দেওয়া হয়নি। মিলটির বর্তমানে শ্রমিকদের ৮৬ সপ্তাহের মজুরী, কর্মচারীদের ২৬ মাসের বেতন, কর্মকর্তাদের ২৭ মাসের বেতন, শ্রমিক কর্মকর্তাদের ৩টি বোনাস, পদত্যাগকৃত শ্রমিকদের ইন্সেুরেন্স এর টাকা, মজুরী কমিশনের এরিয়ার টাকা, ইনক্রিমেন্ট এরিয়ার, গ্রাইচুটি সহ বিভিন্ন বকেয়া বাবদ প্রায় ১৩ কোটি টাকা বকেয়া রয়েছে।