জি২০ভূক্ত শীর্ষ সম্মেলনে ক্ষতিকর জ্বালানি বন্ধ ও নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে সহায়তা করার দাবি

0
644

নিজস্ব প্রতিবেদক:
আসন্ন জি২০ভূক্ত শীর্ষ সম্মেলনে দেশগুলোর কয়লাসহ সব ধরণের দূষণকার জ্বালানি বিনিয়োগ বন্ধের ঘোষণা দাবি করলো পরিবেশবাদি সংগঠনগুলো। গতকাল সোমবার খুলনার হোটেল রয়্যাল ইন্টারন্যাশনালে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি তোলা হয়।
উপকূলীয় জীবনযাত্রা ও পরিবেশ কর্মজোট (ক্লিন), ইক্যুইটি অ্যান্ড জাস্টিস ওয়ার্কিং গ্রুপ (ইক্যুইটিবিডি), প্রান্ত জন ট্রাস্ট, এশিয়া-প্যাসিফিক মুভমেন্ট অন ডেট অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট ও সায়োনারা কোল-এর যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিতবক্তব্য পাঠ করেন ক্লিন-এর প্রধান নির্বাহী হাসান মেহেদী। সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন পরিবেশ-কথক গৌরাঙ্গ নন্দী ও মাহবুব আলম প্রিন্স।
লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, শক্তিশালী ২০টি দেশের এই জোট সম্মিলিতভাবে পৃথিবীর জ্বালানি-সংশ্লিষ্ট গ্রীনহাউজ গ্যাস নির্গমনের ৮০ শতাংশের জন্য দায়ী। সুতরাং ক্ষতিকর কয়লা ও জীবাশ্ম জ্বালানি রোধে এই দেশগুলোর সুনির্দিষ্ট দায় দায়িত্ব আছে। কিন্তু তারা সেটি না করে বরং ক্ষতির মাত্রা বাড়িয়ে তুলছে।
লিখিতবক্তব্যে হাসান মেহেদী জানান, উন্নত ও অগ্রসর দেশগুলো আগামী ২০৩০ সালের মধ্যে কয়লা ও অন্যান্য ক্ষতিকর জ্বালানি শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনতে অঙ্গীকারবদ্ধ। কিন্তু তারা সেটামানছে না। আবার, তাদের দেশের ক্ষতিকর বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো বাংলাদেশের মতো স্বল্পোন্নত দেশগুলোয় স্থানান্তর করে দিচ্ছে।
তিনি জানান, বিগত ৫-৬ বছরে জি২০ভূক্ত এশীয় দেশ ভারত, চীন, জাপান ও কোরিয়া বাংলাদেশে ৩২টি কয়লা-বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করবে বলে চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। এ বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো আমাদের উপকূলীয় পরিবেশ প্রতিবেশের উপর অত্যন্তক্ষতিকর প্রভাব ফেলবে।
সংবাদ সম্মেলনে আগামী ২৮-২৯ জুন অনুষ্ঠিতব্য জি২০শীর্ষ সম্মেলনের নেতৃবৃন্দের কাছে পরিবেশবাদি সংগঠনগুলো পক্ষ থেকে কয়লা ও জীবাশ্ম জ্বালানি ভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে বিনিয়োগ বন্ধ করা, শতভাগ নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রবর্তনের জন্য অধিকহারে বিনিয়োগ করা, দূষণকারী শিল্প-কারখানাবন্ধ করা এবং জ্বালানি খাতে জনগণের মালিকানা ও গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাপনা চালু করার দাবি জানানো হয়। এ উপলক্ষে আয়োজকগণ আগামী ২৭ তারিখ দেশব্যাপী প্রতিবাদ কর্মসূচির ডাক দেন।
সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সময়টিভি’র তরিকুল ইসলাম, সংবাদ প্রতিদিন-এর ওয়াহেদ-উজজামান বুলু, দৈনিক সময়ের খবর-এর আশরাফুল ইসলাম নূর, বাংলানিউজ-এর মাহবুবুর রহমান মুন্না, দৈনিক কালবেলার রীতা রাণী, দক্ষিণাঞ্চল প্রতিদিনের জয়নাল ফরাজী, দৈনিক জন্মভূমির সোহরাব হোসেন, দৈনিক তথ্যের নূর হাসান জনি, ডিবিসি নিউজের আমিরুল ইসলাম, দৈনিক সমকালের হাসান হিমালয়, দৈনিক আমাদের সময়-এর কামাল হোসেন, ইটিভি’র মহেন্দ্রনাথ সেন, এশিয়ান টিভি’র বাবুল আকতার, দৈনিক কালেরকণ্ঠ-এর কৌশিক দে, ডেইলি স্টারের দীপঙ্কর রায়, দৈনিক প্রথম আলো’র উত্তম ম-ল, এনটিভির ব্যুরো প্রধান মুহাম্মদ আবু তৈয়ব, এটিএন বাংলার আবু সাঈদ, নিউ ন্যাশন-এর একরামুল কবীর, ইকোনোমিক টাইমস্-এর আনিসুজ্জামান, ক্লিন-এর সাজ্জাদ হোসেন তুহিন, আরুবা সুলতানা মিতু, তামিম ইকবাল প্রমূখ।