জিয়া হল চত্ত্বরের গাছ কর্তনের ঘটনায় অবশেষে তদন্ত শুরু

0
512

এম জে ফরাজী, খুলনা:
নানা আলোচনা-সমালোচনার পর প্রায় ১ মাস ৪ দিন পর খুলনা নগরীর ঐতিহ্যবাহী জিয়া হল চত্ত¡রের বিভিন্ন প্রজাতির অন্তত ১০-১২টি গাছ কেটে নেওয়ার বিষয়ে তদন্ত কাজ শুরু করেছে খুলনা সিটি কর্পোরেশন (কেসিসি)। এ বিষয়ে একটি কমিটি গঠন করে শিগগিরই তদন্ত রিপোর্ট জমা দিতে বলা হয়েছে। আর দোষীরা সনাক্ত হলে আইনানুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করবে বলে কেসিসি সূত্র জানিয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, গত রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে জিয়া হলের অভ্যন্তরে ঈদ মেলা অনুষ্ঠিত হয়। চামেলী ট্রেডার্স ওই মেলার আয়োজন করে। মেলায় বিনোদনের জন্য বিভিন্ন প্রকার রাইডস্ বসিয়ে আয় বৃদ্ধি এবং প্রতি বছর মেলার আয়োজনে পরিবেশ তৈরি করতে গাছ কাটা হয়েছে। মেলা চলাকালীন যেকোন সময়ে গাছগুলো কাটা হয়েছে বলে দাবি করছেন অনেকে। তবে চামেলী ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী মোঃ রাসেল মিয়া বরাবরই এ অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন। গত ২৭ ও ২৮ সেপ্টেম্বর স্থানীয় পত্রিকায় বিষয়টি নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ হলে নড়েচড়ে বসে সিটি কর্পোরেশন। দীর্ঘ ১ মাস পর নানা জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে তদন্ত শুরু করেছে কর্পোরেশন।
বৃহত্তর খুলনা উন্নয়ন সংগ্রাম সমন্বয় কমিটির সভাপতি আলহাজ্ব শেখ মোশাররফ হোসেন বলেন, নগরীর শিববাড়ী’র জিয়া হল থেকে কিভাবে গাছ কাটা হয় তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। আর ১ মাস ৪ দিন পর ব্যবস্থা নেওয়ায় নতুন করে প্রশ্নের দেখা দিয়েছে।
তিনি অভিযোগ করেন, কেসিসি’র সংশ্লি¬ষ্ট কর্মকর্তাদের যোগসাজসে এ ধরনের ঘটনা ঘটতে পারে। তাই তদন্ত পূর্বক এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত। দুর্নীতির কারণে জিয়া হলটি পুরো ধ্বংস হয়ে গেছে। সেটি পুনঃনির্মাণের কোন উদ্যোগও নেই সিটি কর্পোরেশনের।
কেসিসি’র প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা আরিফ নাজমুল হাসান গতকাল বুধবার রাতে বলেন, ওই সময় জিয়া হল পরিদর্শন করে গাছ কাটার সত্যতা পাওয়া গেছে। তবে কারা গাছগুলো কেটে নিয়েছে তা এখনো সনাক্ত হয়নি। এ বিষয়ে তদন্তের জন্য মেয়র বরাবর ফাইল পাঠানো। সেটি অনুমোদনের পর মঙ্গলবার থেকে তদন্ত শুরু হয়েছে।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, মেলা চলাকালীন গাছগুলো কাটা হয়েছে। তবে আয়োজক চামেলী ট্রেডার্স নাকি অন্য কোন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান গাছগুলো কেটেছে সে বিষয়ে তথ্যানুসন্ধান চলছে। এ ঘটনায় দোষীরা সনাক্ত হলে আইনানুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
উল্লেখ্য, নগরীতে রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের ভেন্যু বা স্থান নিশ্চিতের জন্য ১৯৮৯ সালে শিববাড়ি মোড়ে একটি পাবলিক হল নির্মাণের উদ্যোগ নেয় খুলনা সিটি কর্পোরেশন (কেসিসি)। এটি নির্মাণ ব্যয় ধরা হয় প্রায় ৮ কোটি টাকা। ১৯৮৯ সাল থেকে ১৯৯৫ সালের মধ্যে কয়েক ধাপে ওই হলের নির্মাণ কাজ শেষ হলে ‘জিয়া হল’ হিসেবে যাত্রা শুরু করে। এরপর পরিবেশগত উন্নয়ন ও আর্থিক খাতের কথা বিবেচনা করে জিয়া হলের অভ্যন্তরে উন্মুক্ত জায়গায় বিভিন্ন প্রজাতির বনজ ও ফলজ গাছ লাগানো হয়। যা বর্তমানে বৃহৎ আকারের গাছে পরিণত হয়েছে। কিন্তু স¤প্রতি বেড়ে ওঠা বড় বড় ওই গাছের মধ্যে অন্তত ১৫ থেকে ২০টি গাছ রাতের আঁধারে কেটে নিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা। যার আনুমানিক মূল্য কয়েক লাখ টাকা। ফলে পরিবেশগত ক্ষতিসহ বড় ধরনের রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হয়েছে কর্পোরেশন।#