জাল ভিসা দিয়ে কুয়েত নিয়ে প্রতারণা, দিশেহারা ক্ষতিগ্রস্থ পরিবার

0
37

দেবহাটা প্রতিনিধি: সাতক্ষীরায় জাল ভিসা দিয়ে বিদেশ নিয়ে প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ আতœসাৎ’র অভিযোগ এনে আদালতে মামলা দায়ের হয়েছে। এঘটনায় ২০২৩ সালের ১৩ জুলাই ভিক্টিমের চাচা কালিগঞ্জ উপজেলার মুকুন্দপুর গ্রামের মৃত বাহার আলীর পুত্র নজরুল ইসলাম বাদি হয়ে সাতক্ষীরা বিজ্ঞ আমলী-০২ নং আদালতে মামলা করে। এতে প্রধান আসামী করা হয় কালিগঞ্জ উপজেলার মহতপুর গ্রামের মৃত মমতাজ গাজীর ছেলে নজরুল ইসলামকে। একই মামলায় আসামী করা হয় নজরুল ইসলামের স্ত্রী হাফিজা খাতুন, ভাই মতিয়ার রহমানকে।
মামলা সূত্রে জানা যায়, শ্যামনগর উপজেলার কৈখালী (জয়াখালি) গ্রামের মৃত বাহার আলী গাজীর ছেলে রুহুল আমিন গাজী ইংরেজি ১৯৯৬ সালে কাজের জন্য কুয়েতে যায়। রুহুল আমিনের স্ত্রী দীর্ঘদিন যাবত ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে ঢাকা ক্যান্সার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। স্ত্রীর চিকিৎসায় উপার্জিত টাকা শেষ হওয়ায় রুহুল আমিন তার ছেলেকে কুয়েতে পাঠাতে বলেন। বিদেশে পাঠনোর জন্য মাধ্যমে হিসাবে কালিগঞ্জ উপজেলার মহৎপুর গ্রামের মৃত মমতাজ গাজীর পুত্র নজরুল ইসলামের সাথে যোগাযোগ করে তারা। বিদেশ পাঠাতে ভিসা, বিমানের টিকিট, ম্যানপাওয়ার সহ ২০নং ভিসা ২ বৎসরের আকামা সহকারে কুয়েতের ২৪’শ দিনার সমপরিমান বাংলাদেশী মূল্য ৬লক্ষ ৬০ হাজার টাকা গ্রহন করে যোগাযোগকারী নজরুল ইসলাম। পরে নজরুল ইসলাম তার স্ত্রী হাফিজা খাতুন ও ভাই মতিয়ার রহমানকে নিয়ে ২০১৬ সালের পহেলা ফেব্রুয়ারী তারিখে টাকা গ্রহন করে। সেই সাথে ঐ সালের জুন মাসের ১৯ তারিখে ভিক্টিমের (ওমর ফারুক) এর নামে ভিসা প্রদান করেন। ওমর ফারুক ভিসা নিয়ে কুয়েতে যাওয়ার পরে জানতে পারে তার ভিসা টি নকল। পরে তাকে কুয়েত জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়। এরপর সাজা শেষে দেশে পাঠিয়ে দেওয়া হয় তাকে। পরে এঘটনায় ভিক্টিম ওমর ফারুক ২০২২ সালের ৭ মার্চ তারিখে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিরাপত্তা ও বহিরাগমন অনুবিভাগের সুরক্ষা সেবা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। পরবর্তীতে ভিক্টিমের পিতা ভিসা জালিয়াতি ও মানব পাচারকারী বাংলাদেশী নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ দূতাবাস কাউন্সিলর (শ্রম), কুয়েত এ লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। উক্ত বিষয়ে সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের প্রবাসী কল্যাণ শাখার সহকারী কমিশনার আব্দুল্লাহ আল আমিন স্বাক্ষরিত এক পত্রে অভিযুক্তর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে পুলিশ সুপারের জেলা বিশেষ শাখায় নির্দেশ প্রদান করেন। এছাড়া ২২ সালের ৯ ফেব্রুয়ারী জেলা প্রশাসকের প্রবাসী কল্যাণ শাখার সহকারী কমিশনার সজিব তালুকদারের পাঠানো পত্রে প্রতারকের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়। অপরদিকে কালিগঞ্জ থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মিজানুর রহমান গত ২২ সালের মার্চ মাসের ২১ তারিখে জেলা পুলিশের বিশেষ শাখায় ঘটনায় তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছেন। সেখানে নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে জাল ভিসা প্রদানের বিষয়টি প্রমাণিত হয়। তদন্তে আরো উল্লেখ করা হয় যে, নজরুল ইসলাম একজন চিহ্নিত দালাল। তিনি যাদেরকে বিদেশ পাঠিয়েছেন সবার ক্ষেত্রে একই ঘটনা ঘটেছে।
এদিকে, দীর্ঘদিন অতিবাহিত হলেও ক্ষতিপূরনের টাকা ফেরৎ না পেয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছে ভূক্তভোগী পরিবারটি। আর তাই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে টাকা ফেরৎ সহ অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন এই ভূক্তভোগী পরিবারটি।