জলাবদ্ধতা দূরীকরণে টিআরএম গবেষণা তথ্য উপস্থাপন বিষয়ক কর্মশালা

0
495

আজিজুর রহমান :
খুলনায় আজ শনিবার (৭জুলাই) সকালে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জলাবদ্ধতা দূরীকরণে টিআরএম গবেষণা তথ্য উপস্থাপন বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়, ডেলফ বিশ্ববিদ্যালয়, আইসিইউএন সহ ১২টি প্রতিষ্ঠান যৌথভাবে টিআরএম বিষয়ক এই গবেষণা কাজটি পরিচালনা করে।
খুলনা সিএসএস মিলনায়তনে আয়োজিত টিআরএম গবেষণা তথ্য উপস্থাপন বিষয়ক কর্মশালায় বক্তারা বলেন, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জলাবদ্ধতা দূরীকরণ, নদীর পুর্ণজীবন ও নিষ্কাষণ ব্যবস্থা উন্নয়নের লক্ষ্যে টিআরএম (টাইডাল রিভার ম্যানেজমেন্ট) বা জোয়ারের পানিতে আসা পলি পরিকল্পিতভাবে অবক্ষেপনের মাধ্যমে ভূমি গঠনের কোন বিকল্প নেই। টিআরএম বিষয়টির কৌশলগত ও কারিগরি দুটো দিকই রয়েছে। বাস্তবায়নকারী কর্তৃপক্ষ বা-পাউবো (বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড) কারিগরি বিষয়ে অভিজ্ঞ হলেও সামাজিক বিরোধগুলো নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে তাদের সামর্থ্য বা দক্ষতা নেই। এ কারণে পাউবো’কে সহযোগিতা করার জন্যে একটি সহায়ক কমিটি গঠন করা দরকার।
অধ্যাপক আনোয়ারুল কাদিরের সঞ্চালনায় গবেষণা তথ্য উপস্থাপন করেন ডেলফ বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রিস সিজার ও খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিষয়ক প্রফেসর ড. দিলীপ দত্ত।
এসময় বক্তারা বলেন, গত শতকের ষাটের দশকে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে কোস্টাল ইমব্যাঙ্কমেন্ট প্রজেক্ট (সিইপি) বাস্তবায়নের মাধ্যমে এই অঞ্চলে নদীকে নিয়ন্ত্রণ করতে নদীর দু’পাশে মাটির বাঁধ ও ¯øুইস গেইট নির্মিত হয়। এতে অচিরেই এখানকার নদীগুলো মরে যায়। পানি নিষ্কাশিত হওয়ার পথ বন্ধ হয়ে যায়। বিলগুলো জলাবদ্ধ হয়ে পড়ে। বছরের পর বছর জলাবদ্ধতার ফলে এই অঞ্চলের তিন কোটিরও বেশী মানুষ দুর্ভোগের শিকার হতে থাকে। এই দুর্ভোগ থেকে মুক্তির লক্ষ্যে জনগণ টিআরএম পদ্ধতি উদ্ভাবন ও বাস্তবায়ন করে। টিআরএম’র মাধ্যমে ভূমি উঁচু হওয়ার পাশাপাশি নদীও সচল হয়। শুধুমাত্র নদীগুলো সচল করাই যথেষ্ট নয়, এই অঞ্চলের নদীগুলোর মধ্যেও একটি আন্তঃসংযোগ জরুরি।
বক্তারা আরও বলেন, টিআরএম বাস্তবায়ন করার ক্ষেত্রে প্রধান সমস্যাগুলো হচ্ছে জমি অধিগ্রহণ, ক্ষতিপূরণ দেয়া এবং সমাজের সকল স্তরের মানুষের অংশগ্রহণে অনীহা। এ সমস্যা সমাধানে ওই এলাকার মানুষদের সক্রিয় অংশগ্রহণ প্রয়োজন। প্রকৃতপক্ষে পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ তথা পাউবো একটি প্রকৌশলগত প্রতিষ্ঠান। কিন্তু সামাজিক সমস্যাভিত্তিক এই কর্মকান্ড বাস্তবায়নের জন্যে পাউবো’র আইনি কোন ভিত্তি নেই। তাদেরকে এই আইনী ভিত্তি দিতে হবে। পাশাপাশি পাউবোকে সামাজিক সমস্যাসমূহ মোকাবেলার জন্যে তৃতীয় কোন পক্ষকে কাজে লাগাতে হবে অথবা তাদেরকে সামাজিক সমস্যা মোকাবেলা করার সাম্বর্থ্য অর্জন করতে হবে। কর্মশালায় অংশগ্রহণ করেন অধ্যক্ষ এবিএম শফিকুল ইসলাম, মতলেব আহমেদ, মইনুল ইসলাম, মীর জিল্লুর রহমান, সাবেক মৎস্য কর্মকর্তা প্রফুল্ল কুমার সরকার, বেলা’র খুলনা বিভাগীয় সমন্বয়কারী মাহফুজুর রহমান, বেডস-এর মাকসুদুর রহমান,মৎস্য কর্মকর্তা মণীষ মন্ডল, ক্লিন’র হাসান মেহেদীসহ আরও অনেকে।