জলবায়ু আন্দোলনকারীদের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছেন ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট জেইর

0
238

খুলনাটাইমস আন্তর্জাতিক ডেস্ক : গত শুক্রবার ব্রাজিলে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় পদক্ষেপ নেওয়ার দাবিতে হাজার হাজার মানুষ বিক্ষোভ করেছে। এ সময় বিক্ষোভকারীদের ক্ষোভের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট জেইর বলসোনারো। বিশ্বের বৃহত্তম জলাবন অ্যামাজনকে ধ্বংস করতে সেখানে আগুন লাগানোর অনুমতি দেওয়ায় বলসোনারো-র প্রতি ক্ষুব্ধ আন্দোলনকারীরা। ১৫ আগস্ট থেকে জ¦লছে ‘দুনিয়ার ফুসফুস’ খ্যাত ব্রাজিলের অ্যামাজন জঙ্গল। এরমধ্যেই গত আগস্টের শেষদিকে নতুন করে অ্যামাজনের এক হাজার ২০০টি স্থানে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। গত বছরের তুলনায় এবার আগুন লাগার রেকর্ড ৮৮ শতাংশ বেশি। এর পেছনে মূলত দায়ী করা হচ্ছে ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট জেইর বলসোনারোকে। তিনি ক্ষমতায় আসার পর পরিবেশ রক্ষার বাজেট সংকুচিত করেন। অ্যামাজনে আগুন জ¦ালিয়ে পশু পালন ও কৃষি কাজের জন্য জমি পরিষ্কার করতে অনুমতি দিয়েছেন কৃষক ও কাঠুরেদেরকে। ২০১০ সালের পর এটাই অ্যামাজনের বিভিন্ন স্থানে আগুন লাগার সর্বোচ্চ রেকর্ড। আর এজন্য ট্রাম্পপন্থী হিসেবে পরিচিত দেশটির উগ্র ডানপন্থী ও বাণিজ্যপন্থী প্রেসিডেন্ট বলসোনারো সরকারের নীতিকে দায়ী করছেন পরিবেশবাদীরা। যদিও এ সংকট সমাধানে শুধু উদ্বেগই যথেষ্ট নয়। ব্রাসিলিয়ার তরুণ পরিবেশ আন্দোলন কর্মী মার্সেলা পিমেন্টেল মিরান্ডা বলেন, ‘বলসোনারো সরকারের কৌশল পরিবেশ ধ্বংসের কৌশল। এটি জলবায়ু সংকটকে আরও জটিল করছে। এ কারণে আমাদের আন্দোলন।’ ব্রাজিলের প্রেসিডেন্টকে প্রত্যাখ্যান এবং পরিবেশমন্ত্রী রিচার্ড চ্যালেসকে বহিষ্কারের দাবিতে টুইটারে #ইলেনাও এবং #ফোরাচ্যালেস নামে দুইটি হ্যাশট্যাগও চালু করেছে আন্দোলনকারীরা। ওই দুই নেতার প্রতীক ও তাদের বেশভূষা নিয়েও সমালোচনা করেন তারা। গত বৃহস্পতিবার চ্যালেস বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, ‘অ্যামাজনের অধিকাংশ এলাকা অক্ষত রয়েছে। দেখা যাচ্ছে যে ব্রাজিল সরকার পরিবেশ সংরক্ষণে ‘চমৎকার কাজ’ করছে।’ গত শুক্রবার দেশটির সেনাবাহিনীকে আরও এক মাসের জন্য অ্যামাজনে আগুন মোকাবিলায় কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার অনুমতি দিয়েছেন বলসোনারা। আন্তর্জাতিক জলাবন অ্যামাজনের ৬০ শতাংশ ব্রাজিলে অবস্থিত। গ্রিন হাউস গ্যাসের বিশাল অংশ শোষণ করে এ বন। মানবসৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তনের অস্তিত্বের কথা অবশ্য স্বীকার করেছেন চ্যালেস। তিনি বলেন, ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার অধিকার রয়েছে আন্দোলনকারীদের। ‘আমার ছেলেমেয়ে আছে, আমিও তাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বিগ্ন।’ আগামী সপ্তাহে অনুষ্ঠিত হবে জাতিসংঘের ক্লাইমেট অ্যাকশন সামিট ও নিউ ইয়র্ক জলবায়ু সপ্তাহ। এতে রাজনীতিক, ব্যবসায়ী ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা অংশ নেবেন। এ উপলক্ষে বিভিন্ন দেশের স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক পরিবেশবাদী ও মানবাধিকার সংগঠনগুলো অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে। এতে অংশ নেওয়া আন্দোলনকর্মীদের বেশিরভাগই হবেন স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। বিশ্বের পাঁচ হাজারেরও বেশি স্থানে এই আন্দোলন অনুষ্ঠিত হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ব্রাজিলের নতুন প্রজন্মের রাজনীতিবিদ ও কংগ্রেসওম্যান তাবাতা আমারাল বলেন, ‘বলসোনারোর কর্মপন্থাগুলো ব্রাজিলকে প্রতিনিধিত্ব করে না, সেখানে আরও অনেকের মতামত রয়েছে। এটা বিশ্বকে দেখানোর জন্য আমি নিউ ইয়র্ক যাচ্ছি।’ আন্দোলনকারীদের একজন জুলিয়া ওয়াদিংটন বলেন, আমাদের বাসযোগ্য এমন গ্রহ ও ভবিষ্যৎ থাকতে হবে, যেখানে নিঃশ্বাস নেওয়া, খাবার খাওয়া ও পানি পান করা যায়। এজন্য আমাদের এই সমস্যাটি এখনই সমাধান করা দরকার।