জমি সংক্রান্ত বিরোধে শরণখোলায় শিক্ষকের বিরুদ্ধে হয়রানীর অভিযোগ

0
386

শরণখোলা (বাগেরহাট) প্রতিনিধি ঃ
বাগেরহাটের শরণখোলায় অস্তিত্বহীন একটি মাদ্রাসার সম্পত্তি উদ্ধারের নামে এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে স্থানীয় একাধিক বাসিন্দাকে হয়রানীর অভিযোগ পাওয়া গেছে। হয়রানির শিকার উপজেলার ধানসাগর ইউনিয়নের হোগলপাতি গ্রামের বাসিন্দা রাজা মিয়া ও মুসা ফরাজী সহ স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, একই এলাকার বাসিন্দা
মৃত: খবির উদ্দিন ফরাজী ছেলে ও খোন্তাকাটা ইউনিয়নের আকন্দপাড়া দাখিল মাদ্রাসার সহকারি মৌলভী এবং জাতীয়পার্টির ইউনিয়ন সদস্য সচিব (মাদ্রাসা্শিক্ষক) মাওঃ নূর হোসেন ফরাজী দীর্ঘ দিন ধরে তাঁর প্রতিবেশি রাজা মিয়া ও মুসা ফরাজীকে বিভিন্ন ভাবে হয়রানি শুরু করেন।
সম্প্রতি নূর হোসেন রাজা মিয়া ও মুসা ফরাজীর (ভোগ দখলীয়) ৩নং নলবুনিয়া মৌজার ১০৫৩ ও ১০৫৪ নং খতিয়ানের ১২৮৭ ও ১২৮৮ নং দাগের প্রায় ০.১৪ একর সম্পত্তি হোগলপাতি খবির উদ্দিন স্মৃতি এবতেদায়ী মাদ্রাসার বলে দাবী করেন।
এ নিয়ে উভয়ের মধ্যে বিরোধ দেখা দিলে রাজা মিয়া বাদী হয়ে বিরোধ নিষ্পত্তির পাশাপাশি নূর হোসেন এর বিরুদ্ধে স্থানীয় গ্রাম আদালতে একটি অভিযোগ  দায়ের করেন। গ্রাম আদালতের কর্মকর্তা ধানসাগর ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ মইনুল হোসেন
টিপু উভয় পক্ষকে হাজির হতে নোটিশ দিলে  গা ঢাকা দেয় মাওঃ নূর হোসেন। পরবর্তীতে রাজা ও মুসাকে জব্দ করতে মারপিটের কাল্পনিক অভিযোগ তুলে হয়রানীর উদ্দেশ্যে ১১ ও ১২ ডিসেম্বর শরণখোলা থানায় দুটি অভিযোগ দায়ের
করেন ওই মাদ্রাসা শিক্ষক।
এ বিষয় সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য তপু বিশ্বাস সহ স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, মাদ্রাসা শিক্ষক নূর হোসেন এলাকায় একজন বিতর্কিত ব্যক্তি হিসাবে পরিচিত। তিনি অস্তিত্বহীন মাদ্রাসার সুপার সেজে চাকুরী দেয়ার নামে স্থানীয় একাধিক বেকার যুবকদের নিকট থেকে বহু অর্থ হাতানোর পাশাপাশি বিভিন্ন অনৈতিক কর্মকান্ডে জড়িত। এছাড়া তিনি যে মাদ্রাসাটির জমি দাবী করেন সেই মাদ্রাসাটি কাগজে কলমে আছে কিন্তু বাস্তবে তার কোন অস্তিত্ব নেই। এ ছাড়া সম্প্রতি নূর হোসেন প্রাথমিক শিক্ষা অফিস ও আকন্দপাড়া দাখিল
মাদ্রাসার সুপারের যোগ সাজসে অস্তিত্বহীন ওই এবতেদায়ী মাদ্রাসাটির অনুকূলে ৬ষ্ঠ ও ৭ম শ্রেণির ১৫ শিক্ষার্থীকে সমাপনী পরীক্ষা অংশগ্রহণ করান। বছরের পর বছর এ ধরনের জ্বাল-জালিয়াতি করে করে যাচ্ছেন নূর হোসেন। কিন্ত রহস্যজনক কারণে প্রশাসন এ পর্যন্ত নূর হোসেন এর বিরুদ্ধে কোন
পদক্ষেপ নেয়নি। ধানসাগর  ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ মইনুল হোসেন টিপু বলেন, নূর হোসেন এলাকায় প্রতারক হিসাবে পরিচিত। তাঁর বিরুদ্ধে এলাকাবাসীর বহু অভিযোগ রয়েছে। জমি
জমার বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য হতদরিদ্র রাজা মিয়া গ্রাম আদালতে একটি আবেদন করলে নূর হোসেনকে একাধিক বার নোটিশ করা হয়। কিন্তু তিনি তা অমান্য করে একবারও হাজির হননি। শীঘ্রই তাঁর বিরুদ্ধে পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
এ ব্যাপারে মাওঃ নূর হোসেন এর ০১৯২১৭৭৯১১৯ নং মুঠোফোনে জানতে চাইলে তিনি সাংবাদিক পরিচয় পেয়ে তেলে-বেগুনে জ্বলে ওঠেন এবং বলেন তার বিরুদ্ধে পত্রিকায় লেখালেখি করলে কিছুই হবেনা। ##