ছয় জেলায় ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত ৯

0
351
চার জেলায় ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত ৭ganfight,rtv,rtvonline

অনলাইন ডেস্কঃ
চলমান মাদকবিরোধী অভিযানে সোমবার দিনগত রাতে দেশের চার জেলায় ‘বন্দুকযুদ্ধে’ ৭ জন নিহত হয়েছেন। এরমধ্যে রাজধানী ঢাকার দক্ষিণখানে একজন, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় একজন, ঠাকুরগাঁওয়ে একজন এবং কুমিল্লা, যশোর ও কুষ্টিয়ায় ২ জন করে নিহত হয়েছেন।

দক্ষিণখান (ঢাকা):

রাজধানীর দক্ষিণখানে পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী সুমন ওরফে খুকু সুমন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় অস্ত্র ও মাদক উদ্ধারসহ দুই পুলিশ সদস্যও আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। সোমবার রাত সোয়া ১২টার দিকে দক্ষিণখান থানাধীন আশিয়ান সিটির বালুর মাঠ এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। তার নামে দক্ষিণখান থানায় ৫টি মাদকের মামলা রয়েছে।

দক্ষিণখান থানা পুলিশ ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহতের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। এ ঘটনায় দুই আহত সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) আল আমিন ও কনস্টেবল সাখাওয়াতকে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

কুমিল্লা:

কুমিল্লার মুরাদনগরে পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী লিটন ওরফে কানা লিটন (৩৬) ও আবদুল বাতেন (৩৪) নিহত হয়েছেন।

সোমবার দিনগত রাত সাড়ে ১২টায় মুরাদনগর উপজেলার পূর্ব-নবীপুর ইউনিয়নের গুঞ্জর এলাকায় এ বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটে। এসময় ঘটনাস্থল থেকে একটি পাইপগান ও চারশ বোতল ফেনসিডিল উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় পুলিশের তিন কর্মকর্তা আহত হয়েছেন।

নিহত লিটন ওরফে কানা লিটন মুরাদনগরের কৈয়ার পাথর এলাকার আবদুস সামাদের ছেলে এবং বাতেন বাখরনগরের শহীদ মিয়ার ছেলে।

‘বন্দুকযুদ্ধে’ দুই মাদক ব্যবসায়ী নিহত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে মুরাদনগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) একেএম মঞ্জুর আলম বলেন, নিহত লিটন ও বাতেন মুরাদনগরসহ আশপাশের এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসা চালিয়ে আসছে। বাতেনের বিরুদ্ধে ৮টি ও লিটনের বিরুদ্ধে ৭টি মাদক মামলা রয়েছে।

মঞ্জুর আলম আরও জানান, কুমিল্লার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মুরাদনগর সার্কেল) জাহাঙ্গীর আলমের নেতৃত্বে মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনাকালে সোমবার দিনগত রাত সাড়ে ১২টায় মুরাদনগর উপজেলার পূর্ব নবীপুর ইউনিয়নের গুঞ্জর এলাকায় মাদক ব্যবসায়ীদের সঙ্গে পুলিশের বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটে। বন্দুকযুদ্ধকালে পুলিশ ৫৩ রাউন্ড গুলিবর্ষণ করে। পরে ঘটনাস্থল থেকে বাতেন ও লিটনকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা তাদের মৃত বলে জানান।

‘বন্দুকযুদ্ধে’ আহত তিন পুলিশ সদস্য হলেন, মুরাদনগর থানার এসআই মোজাম্মেল, এএসআই রোকন, এএসআই মাসুদুর। তাদেরকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে বলে জানান ওসি মঞ্জুর।

যশোর:

যশোরে দুদল মাদক ব্যবসায়ীর মধ্যে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ দুজন নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার ভোররাতে শহরের চাঁচড়া রায়পাড়া ও যশোর-মাগুরা মহাসড়কের নোঙরপুর এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।
নিহত দুই মাদক ব্যবসায়ী হলেন, যশোর শহরের রায়পাড়া এলাকার মানিক ও মণ্ডলগাতি এলাকার আসর আলী। পুলিশ নিহত দুজনের মরদেহ উদ্ধার করে যশোর হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে। একইসঙ্গে ঘটনাস্থল থেকে অস্ত্র, গুলি ও ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে।

যশোর কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কেএম আজমল হুদা আরটিভি অনলাইনকে জানান, মঙ্গলবার ভোররাতে যশোর শহরের চাঁচড়া রায়পাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয় এলাকায় দুদল মাদক ব্যবসায়ীর মধ্যে গোলাগুলি শুরু হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় দুজনকে উদ্ধার করে যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালে নিয়ে আসে। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মৃত বলে জানান।

ওসি আজমল হুদা আরও জানান, নিহত মানিক ও আসর আলী চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী। তাদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে। পুলিশ নিহত দুজনের মরদেহ উদ্ধারের পাশাপাশি ঘটনাস্থল থেকে ছয়শ’ পিস ইয়াবা, দুটি পিস্তল, দুই রাউন্ড গুলি ও পাঁচটি গুলির খোসা উদ্ধার করেছে।
কুষ্টিয়া:

কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ দুইজন মাদক ব্যবসায়ী নিহত হয়েছেন। পুলিশের দাবি, ঘটনাস্থল থেকে আগ্নেয়াস্ত্র, গুলি ও মাদকদ্রব্য উদ্ধার করা হয়েছে। নিহতরা হলেন মোকাদ্দেশ হোসেন (৪২) এবং ফজলুর রহমান ওরফে টাইটেল (৪৮)।

দৌলতপুর থানার ওসি (তদন্ত) আজগর আলী জানান, মঙ্গলবার ভোররাতে দৌলতপুর উপজেলার বোয়ালিয়া ইউনিয়নের শেয়ালা বটতলা মাঠে মাদকদ্রব্য কেনা-বেচার জন্য একদল মাদককারবারী অবস্থান করছে, এমন গোপন সংবাদে থানা পুলিশ সেখানে অভিযানে যায়। এসময় উপস্থিতি টের পেয়ে মাদক ব্যবসায়ীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি ছোঁড়ে। জবাবে পুলিশও পাল্টা গুলি চালালে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ দুই মাদক ব্যবসায়ী গুলিবিদ্ধ হয়। অন্যরা পালিয়ে গেলে পুলিশ উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিলে চিকিৎসক দুই জনকেই মৃত ঘোষণা করেন। পুলিশের ভাষ্যমতে, ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ একটি এলজি বন্দুক, পাঁচ রাউন্ড গুলি, পিস্তুলের একটি ম্যাগজিন ও ২৫০পিস ফেনসিডিল উদ্ধার করেছে। ‘বন্দুকযুদ্ধে’র ঘটনায় পুলিশের তিন সদস্য আহত হয়েছে।

কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার এস এম মেহেদী হাসান জানান, নিহত মোকাদ্দেশ হোসেন ও ফজলুর রহমান ওরফে টাইটেল পুলিশের তালিকাভুক্ত শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী। এদের বিরুদ্ধে দৌলতপুর থানায় মাদক ব্যবসা ও ছিনতাইয়ের আটটি করে মামলা রয়েছে।

নিহত মাদক ব্যবসায়ী মোকাদ্দেশ হোসেন দৌলতপুরের রামকৃঞ্চপুর ইউনিয়নের সীমান্ত সংলগ্ন মুন্সিগঞ্জ গ্রামের রেজাউল হকের ছেলে ও ফজলুর রহমান ওরফে টাইটেল একই উপজেলার প্রাগপুর ইউনিয়নের মৃত ইয়াকুব আলীর ছেলে।

নিহত দুইজনের পরিবার থেকেই তারা মাদক ব্যবসায়ী ছিল বলে শিকার করেন। তবে বন্দুকযুদ্ধের বিষয়ে তারা কিছু বলতে চাননি।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া:

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলায় জনি মিয়া (৩০) নামে এক মাদক ব্যবসায়ীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তবে পুলিশের দাবি মাদক ব্যবসায়ীদের মধ্যে গুলাগুলিতে তিনি হয়েছেন।

সোমবার মধ্যরাতে আখাউড়া পৌর এলাকার রেলওয়ে কলোনির পূর্ব পাশের খালাজোড় এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। এসময় পাইপগানসহ দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র উদ্ধার করা হয়।

আখাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোশারফ হোসেন তরফদার আরটিভি অনলাইনকে এই তথ্য নিশ্চিত করেন।

নিহত জনি মিয়ার বাড়ি কুমিল্লা দেবিদ্বার উপজেলার খাইয়ার গ্রামে।

পুলিশের দাবি, জনি মিয়ার বিরুদ্ধে আখাউড়াসহ বিভিন্ন থানায় ডাকাতি, চোরাচালান ও মাদকসহ মোট ৮টি মামলা রয়েছে।

ওসি মোশারফ হোসেন তরফদার জানান, রাত তিনটার দিকে খালাজোড়া এলাকায় গোলাগুলির শব্দ শুনতে পায় পুলিশ। এসময় আখাউড়া থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) কামাল হোসেন ও হাদিস উদ্দিন ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। পরে তারা সেখান থেকে জনি মিয়ার গুলিবিদ্ধ মরদেহ উদ্ধার করেন। এসময় পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে একটি দেশীয় পাইপগান, একটি কার্তুজ,দুইটি বড় ছোরা, একটি চাপাতি উদ্ধার করে।

ওসি মোশারফ হোসেন তরফদারের দাবি ডাকাতির টাকা ভাগাভাগি ও মাদক ব্যবসার বিরোধকে কেন্দ্র করে গোলাগুলির এ ঘটনা ঘটেছে।

ঠাকুরগাঁও:

ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুর উপজেলায় পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ হারুন(৪৫)নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার ভোর রাতে উপজেলার শীতলপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহত হারুন হরিপুর উপজেলার শীতলপুর এলাকার মৃত আব্দুল আজিজের ছেলে এবং মাদক ব্যবসায়ী। তার বিরুদ্ধে হরিপুর থানায় মাদকের একাধিক মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে খবর পেয়ে উপজেলার শীতলপুর এলাকায় অভিযান চালায় পুলিশ। এ সময় হারুনসহ কয়েকজন মাদক ব্যবসায়ী পুলিশের উপস্থিতি টের পেরে পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। এসময় পুলিশ মাদক ব্যবসায়ীদের লক্ষ্য করে পাল্টা গুলি চালায়। উভয়পক্ষের গোলাগুলিতে হারুন নামে এক মাদক ব্যবসায়ী ঘটনাস্থলে নিহত হন। পরে ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঠাকুরগাঁও আধুনিক সদর হাসপাতালে মর্গে পাঠায়।

হরিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রুহুল কুদ্দুস ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, নিহত হারুনের বিরুদ্ধে হরিপুর থানায় মাদকের একাধিক মামলা রয়েছে।