চেয়ারম্যানের দূর্নীতি’র প্রতিবাদ করায় মেম্বরের বিরুদ্ধে যত অপ-প্রচার

0
180

তালা প্রতিনিধি:
চেয়ারম্যানের দূর্নীতি-অনিয়মের প্রতিবাদ করাই মোশারাফ হোসেনের বিরুদ্ধে অপপ্রচারে নেমেছে একটি মহল। পরপর ৩ বারের নির্বাচিত ইউপি সদস্য’র বিরুদ্ধে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন গুজব তুলে সম্মান নষ্ট করার চেষ্টায় লিপ্ত তারা। আর এসবের পিছনে ইন্দন দেয়ার অভিযোগ উঠেছে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সরদার রফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে।
সরেজমিন পরিদর্শনে গেলে এলাকার আব্দুর রহমান (৪৮)’সহ অনেকেই জানান, তালার নওয়াপাড়া গ্রামের মৃত্যু মোন্তাজ মল্লিকের ছেলে আক্তার মল্লিক এলাকার টাউট ও দালাল শ্রেণীর লোক। লোকের জমির ত্রুটি বিচ্যুতি খুঁজে বের করে একপক্ষ দিয়ে অন্য পক্ষের নামে মামলায় জড়িয়ে দিয়ে টাকা কামাই করা ও জমির দালালী করাই তার পেশা। প্রতারনার আশ্রয় নিয়ে ভাইদের ফাঁকি দেয়ার জন্য পিতা’র কাছ থেকে নিজের নামে ৭ বিঘা জমি রেজিষ্ট্রি করে নিয়েছেন তিনি। তার অপকর্ম ঢাকতে মাঝেমাঝে বাড়িতে ডেকে চেয়ারম্যানকে ভূরী ভোজ করানোর অভিযোগও আছে তার বিরুদ্ধে।
তারা আরও জানান, এই দালালকে দিয়ে চেয়ারম্যান একটি অনলাইন নিউজ পোর্টাল এর সাংবাদিকদের কাছে মিথ্যা বক্তব্য প্রচার করেছে। সেখানে দালাল আক্তার বলেছেন, মোশারাফ মেম্বর ২০ থেকে ২২ হাজার ইট রাস্তা থেকে উঠিয়ে বাড়িতে নিয়ে গেছেন। যাহা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন।
এলাকাবাসী আরও জানান, চেয়ারম্যান রফিকুল তার অপকর্ম ঢাকতে এখন মেম্বরের বিরুদ্ধে অপ-প্রচার চালাচ্ছে। এর আগে অনিয়ম ও দূর্ণীতির প্রতিবাদে মোশারাফসহ ৫ জন মেম্বর দূর্ণীতি দমন কমিশন (দুদুক) এ আবেদন করেন ওই চেয়ারম্যান বিরুদ্ধে।
অভিযোগপত্র সূত্রে জানা যায়, অনিয়ম, দূর্ণীতি, সেচ্ছাচারিতা, জোরপূর্বক ঘের দখল, জমির মালিকদের হারি না দেয়া, সরকারী বিভিন্ন প্রকল্পের টাকা আতœসাৎ, সরকারী ঘর পাইয়ে দেয়ার নাম করে গরীব অসহায় মানুষের কাছ থেকে টাকা নেয়া, বিভিন্ন ওয়ার্ডে ঘর বরাদ্দ দিয়ে না দেয়া, জনগনের ট্যাক্সের টাকা আদয় করে আতœসাৎ করা, সালিশ মিমাংসার নামে বিভিন্ন লোকের কাছ থেকে টাকা নেয়সহ লক্ষ লক্ষ টাকা আতœসাৎ করেছেন চেয়ারম্যান রফিকুল। এমনকি মেম্বরদের দেয়া প্রকল্প থেকেও ২২% টাকা অগ্রীম নিয়ে আতœসাৎ করেছেন তিনি। সাংবাদিক’রা সরেজমিন প্রতিবেদন করতে গেলে এর সত্যতা মেলে। এর আগে বিভিন্ন্ আঞ্চলিক পত্রিকাসহ ও একাধিক অনলাইন নিউজ পোর্টাল’এ ৭ পর্বের ধারাবাহিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে ওই চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে।
তেঁতুলিয়া ইউনিয়নের ৭ নং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক শাহাজান মোড়ল (৫৫), লক্ষণপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সভাপতি হাবিবুর রহমান (৩৮), স্থানীয় ঘের ব্যবসায়ী সিরাজুল ইসলাম(৪৫)’সহ অনেকেই জানান, আক্তার মল্লিক ও গফুর মাহমুদ মির্জাপুরের এক ভাটা মালিকের কাছে জমির মাটি বিক্রি করে। সেই মাটি বহন করার সময় দুই পাশে ঘের থাকায় ২০০ ফুটের মতো বাস্তার ইট মাটিতে পুতে যায়। পরে মোশারাফ মেম্বর সরকারী খরছে ওই রাস্তায় মাটির কাজ করার সময় ভাঙাচুরা প্রায় ৫ হাজার ইট লোক দিয়ে উঠিয়ে নিয়ে লক্ষণপুর প্রাইমারী স্কুলের মাঠে খাড়ি দিয়ে রাখেন। পরে সেই ইট দিয়ে এই স্কুলের রাস্তা, ছেলেমেয়েদের বসার জায়গা, ঈদগাহের রাস্তা, ডিআইডির বাড়ির মসজিদের ড্রেন ও মদনপুর বাজার মসজিদের রাস্তা করেদেন তিনি।
জানতে চাইলে অভিযুক্ত আক্তার মল্লিক বলেন, এই রাস্তা থেকে মোশারাফ মেম্বর ইট উঠিয়ে নিয়ে গেছেন তবে কতগুলো ইট বলতে পাবর না। পিতার কাছ থেকে ফাঁকি দিয়ে ৭ বিঘা জমি লিখে নেয়ার কথা তিনি স্বীকার করেন।
মেম্বর মোশারাফ হোসেন জানান, আমি এই ওয়ার্ডের পরপর ৩ বারের নির্বাচিত মেম্বর। শুধু এ বিষয় কেন আমার ওয়ার্ডবাসী এমনকি আমার প্রতিপক্ষও এ ধরণের কোনো অভিযোগ আমার বিরুদ্ধে প্রমান করতে পারবে না।