চিকিৎসককে জেল: লক্ষ্মীপুরের সেই এডিসি এবং ম্যাজিস্ট্রেটকে হাইকোর্টে তলব

0
278

টাইমস ডেস্ক :
জামিনে মুক্ত হওয়ার পর চিকিৎসকদের সঙ্গে লক্ষ্মীপুরের সাবেক সিভিল সার্জন সালাহ উদ্দিন শরীফনির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের ব্যক্তিগত আক্রোশে ভ্রাম্যমাণ আদালতের কার্যক্রমের অপব্যবহার কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট।

একইসঙ্গে আগামী ১৩ ডিসেম্বর এ বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে লক্ষ্মীপুরের এডিসি জেনারেল এবং সংশ্লিষ্ট ম্যাজিস্ট্রেটকে তলব করা হয়েছে। পাশাপাশি ভুক্তভোগী সাবেক ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন সালাহ উদ্দিন শরীফকেও ওই তারিখে আদালতে হাজির হয়ে তার বক্তব্য পেশ করারও নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

মঙ্গলবার (৫ ডিসেম্বর) এক রিট আবেদনের শুনানি নিয়ে বিচারপতি কাজী রেজা-উল হক ও বিচারপতি মোহাম্মাদ উল্লাহ’র সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের দ্বৈত বেঞ্চ এসব নির্দেশ দেন।

আদালতে রিট আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার আলতাফ হোসেন ও ব্যারিস্টার হাসান এমএস আজিম।

পরে হাসান এমএস আজিম বলেন, ‘বিভিন্ন পত্রিকায় এসেছে যে, লক্ষ্মীপুরে মোবাইল কোর্ট বসিয়ে এক সিভিল সার্জনকে সাজা দেওয়া হয়েছে। কারণ, একজন এডিসি জেনারেলের সঙ্গে ওই সার্জনের ব্যক্তিগত বাকবিতন্ডা ও হাতাহাতি হয়। এ কারণে সিভিল সার্জনকে ডিসি অফিসে ডেকে নিয়ে মোবাইল কোর্ট বসিয়ে তাকে সাজা দেওয়া হয় এবং পুলিশের মাধ্যমে তাকে জেলে পাঠানো হয় ।’

তিনি বলেন, ‘পত্রিকায় ঘটনাটি প্রকাশের পর আইনের শাসনের ব্যত্যয় ঘটেছে দেখে দুজন আইনজীবী সংক্ষুব্ধ হয়ে এই রিটটি দায়ের করেন। এই রিটের কারণে আদালত সংশ্লিষ্ট দু’জনকে আদালতে হাজির হয়ে তাদের কার্যক্রমের বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে বলেছেন। সেই সঙ্গে তাদের যাবতীয় কাগজ-পত্র সঙ্গে আনতে বলেছেন। এছাড়া, পত্রিকায় প্রকাশিত নিউজের অ্যাফিডেবিট কপিও আদালতে জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’

এদিকে, এ মামলার শুনানিকালে আদালত বলেছেন- আগেও দেখা গেছে, মোবাইল কোর্টের যারা ম্যাজিস্ট্রেট তারা দাম্ভিকতা দেখিয়ে কোনও একটি স্কুলে গিয়ে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রককে পায়ে ধরার ঘটনা ঘটিয়েছিল। এভাবে যদি আইনের ব্যবহার হয়, আর তার ব্যাখ্যা চাওয়ার সুযোগ বন্ধ হয়ে যায়, তবে পরবর্তীতে এ ধরনের সমস্যা আরও বাড়বে।

প্রসঙ্গত, সোমবার (৪ ডিসেম্বর) জেলা প্রশাসন পরিচালিত শহরের কাকলি স্কুলের প্রবেশ পথে আগে-পরে যাওয়াকে কেন্দ্র করে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) শেখ মুর্শিদুল ইসলাম ও সাবেক সিভিল সার্জন ডা. সালাহ উদ্দিন শরীফের বড় ছেলে মিনহাজের মধ্যে বাকবিতন্ডা হয়। এসময় ডা. সালাহ উদ্দিন এগিয়ে এসে পরিচয় জানতে চান। কিন্তু এডিসি পরিচয় না দিয়ে তার সঙ্গে কথা কাটাকাটিতে জড়িয়ে পড়েন। পরে পুলিশ ডেকে ডাক্তারকে আটক করে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। কিছুক্ষণের মধ্যেই ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে সাজা দিয়ে কারাগারে পাঠানো হয় সালাহ উদ্দিন শরীফকে। ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. নূরুজ্জামান।

এ ঘটনার ২৪ ঘণ্টা পর জামিনে মুক্ত হয়েছেন ডা. মোহাম্মদ সালাহ উদ্দিন শরীফ। মঙ্গলবার (৫ ডিসেম্বর) বেলা ১১টায় লক্ষ্মীপুরের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে জামিন আবেদন করলে বিচারক মীর শওকত হোসেন পাঁচ হাজার টাকা বন্ডে তার জামিন মঞ্জুর করেন। দুপুর সোয়া ১২টার দিকে কারাগার থেকে বের হওয়ার পর স্থানীয় চিকিৎসকরা তাকে সিভিল সার্জন কার্যালয়ে নিয়ে যান।