চাকরির নামে প্রতারণা করে অর্থ হাতিয়ে নেয়া দম্পতি আটক

0
1105

কে এইচ এম:
যে কোন পদে, যেমন চান তেমন বেতনেই চাকরি পাবেন। শুধু কিছু টাকা খরচ করতে হবে। প্রতারণার অভিযোগ থাকা এসব প্রতিষ্ঠান আবেদন ফরম পূরণ, রেজিস্ট্রেশন, প্রশিক্ষণ, জামানত, চুক্তিপত্র ইত্যাদি নানা খাত দেখিয়ে এই টাকা নেয়। সহজ-সরল চাকরি প্রার্থীরা তাদের প্রতারণার ফাঁদে পড়ে শুধু টাকাই খোয়ান না, চাকরিও কখনও পাননা। এরকম একটি প্রতিষ্ঠানের চাকরির নামে প্রতারণার অভিযোগে প্রতিষ্ঠানে এলএস ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল এর প্রতিষ্ঠানে পরিচালিত স্ট্যান্ডার্ড বায়ো নিউট্রিশন এর প্রতিষ্ঠানের পরিচালক সিকদার লিটন ও তার স্ত্রী সুলতানা আইরিন আটক হন। তাদের আটকের খবর শুনে ভুক্তভোগীরা থানায় এসে ভিড় করেন।
বৃহস্পতিবার (১৮ জানুয়ারি) সকালে সোনাডাঙ্গা মডেল থানা পুলিশ নগরীর সোনাডাঙ্গা আবাসিক এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদেরকে আটক করেন। এলএস ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল প্রতিষ্ঠানের পরিচালিত স্ট্যান্ডার্ড বায়ো নিউট্রিশন নামে একটি ওষুধ কোম্পানির চাকরি বিজ্ঞপ্তি দিয়ে আটক আসামিরা চাকরি প্রার্থীদের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে চাকরির নামে প্রতারণা করেন। প্রায় ৫৯ জনের কাছ থেকে বিভিন্ন অজুহাত দেখিয়ে টাকা হাতিয়ে নেন। ভুক্তভোগীরা তাদের দেওয়া টাকা ফেরত চাইলে উল্টো তাদেরকে মামলা দায়েরসহ বিভিন্ন হুমকি-ধামকি প্রদান করেন। তারা বিভিন্ন উপজেলায় ভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নাম দিয়ে বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে চাকরির কথা বলে টাকা হাতিয়ে নেন। এরকম আরও একটি প্রতিষ্ঠান সাতক্ষীরায়ও চালুর উদ্যোগ নিয়েছে ওই চক্রটি।
সোনাডাঙ্গা মডেল থানার ওসি মমতাজুল হক বলেন, আটক আসামি স্বামী-স্ত্রী তার প্রতিষ্ঠানে চাকরি দেওয়ার কথা বলে সহজ-সরল চাকরি প্রত্যাশী মানুষের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। তাদের বিরুদ্ধে ভুক্তভোগীরা থানায় লিখিত অভিযোগও করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে তাদেরকে আটক করা হয়েছে।
সোনাডাঙ্গা মডেল থানা এসআই সঞ্জয় কুমার দাস বলেন, আটক স্বামী-স্ত্রী তাদের প্রতিষ্ঠানে মাধ্যমে বিভিন্ন পদে চাকরির নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেন। চাকরি প্রত্যাশীরা তাদের প্রতারণার ফাঁদে পা দিয়ে চাকরিতে আবেদন করেন। যারা চাকরির নামে এই প্রতারণায় পড়েছেন তাদের কাছ থেকে প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ বিভিন্ন অজুহাত দেখিয়ে টাকা হাতিয়ে নেন। ভুক্তভোগীরা তাদের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ করেন। অনেকে আবার আদালতের শরণাপন্ন হন। আসামি স্বামী-স্ত্রীকে প্রতারণার বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালতে ৭ দিনের রিমান্ড আবেদন চেয়ে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।

ভুক্তভোগী মোঃ মেজবাহ উদ্দিন বলেন, ওই প্রতিষ্ঠানের পরিচালক সিকদার লিটনকে চাকরিতে যোগদানের জন্য পরীক্ষা, বেতন, জামানত ও ডিডি ৬৯ হাজার ৭৪০ টাকা প্রদান করেন। চাকরিও করেন। কিন্তু বেতন কড়িও দেয়নি। ‘স্ট্যান্ডার্ড বায়ো নিউট্রিশন’ একটি ওষুধ কোম্পানি উল্লেখ করলেও কোন দিনও তার প্রতিষ্ঠানে ওষুধ আসতে দেখিনি। এই নিয়ে সন্দেহ লাগে। ৪ মাস হয়ে গেলেও কোন বেতন দিচ্ছে না। আমাকে দিয়ে বিভিন্ন মানুষের নামে চাকরির ডিড কম্পিউটারে করার জন্য কাজ দিতেন। তাই করতাম। পরে একে একে বিষয়টি বুঝতে পারলে আমার জামানতের টাকা চাইলে মামলা ও জীবননাশের হুমকি প্রদান করেন। ভুক্তভোগী জান্নাতুন নেছা বলেন, আমাকে প্রতিষ্ঠানের এরিয়া ম্যানেজার পদে চাকরি দেওয়ার কথা বলে ৩০-৩৫ হাজার টাকা নিয়েছেন।
বিএল কলেজের ইংরেজি বিভাগের মাস্টার্সের ছাত্রী ইসফাত আরা এলিজা বলেন, সাড়ে ১৭ হাজার টাকা চাকরির জামানত হিসেবে ওই প্রতারক নেন। যখন জানতে পারলাম সে আটক হয়েছে আর দেরি না করে থানায় এসে হাজির হই। ভুক্তভোগী মোঃ ঈসা মিয়া বলেন, প্রতিষ্ঠানের চাকরির নামে চাকরির চুক্তিপত্র, ডিড খরচ ও জামানত খরচ বাবদ এক লাখ টাকা নিয়েছেন। পরে যখন আমার জামানতের টাকা ফেরত চাই তখন আমাকে খুন ও গুমের মিথ্যা মামলা দিয়ে ভয় দেখায়। এ ঘটনায় আমি আদালতে মামলাও দায়ের করেছি। শুধু আমার কাছ থেকে এরকম নয় ৫৯ জন শিক্ষিত যুবকের কাছ থেকেও টাকা হাতিয়ে নেন।
বৃহস্পতিবার যখন আসামি স্ট্যান্ডার্ড বায়ো নিউট্রিশন এর পরিচালক সিকদার লিটন ও তার স্ত্রী সুলতানা আইরিনকে নগরীর সোনাডাঙ্গা ২নং ফেজ, বাড়ি নং-৫৯, রোড নং-১৪ অবস্থিত তাদের প্রতিষ্ঠান থেকে আটক করা হয়। আটকের খবর শুনে ভুক্তভোগীরা একে একে থানায় এসে জড়ো হতে থাকে। তাদের জামানতের টাকা ফেরত ও আটক ওই দুই প্রতারকের বিরুদ্ধে শাস্তি দাবি জানান।