চলে গেলেন বাংলাদেশের প্রথম ফিফা রেফারি

0
315

অনলাইন ডেস্কঃ
না ফেরার দেশে চলে গেলেন বাংলাদেশের প্রথম ফিফা রেফারি মনির হোসেন। দীর্ঘদিন ধরে প্রোস্টাটিজম রোগে (প্রস্রাবের জটিলতা) ভুগছিলেন তিনি। প্রোস্টেট গ্রন্থি বেড়ে যাওয়ায় তিনি অস্ত্রোপচারও করিয়েছিলেন। রোগটি না সারায় আবারও রাজধানীর একটি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন ১২ দিন আগে। সেখান থেকে সুস্থ হয়ে আর ফেরা হলো না বাসায়।

আজ বৃহস্পতিবার সকালে ৮৪ বছর বয়সে তিনি না ফেরার দেশে চলে যান তিনি। মৃত্যুকালে তিনি দুই কন্যাসন্তানসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে যান।

স্বাধীন বাংলাদেশ থেকে প্রথমবার চারজন রেফারি ফিফার হয়েছিলেন ১৯৭৪ সালে। তাদেরই একজন মুনীর হোসেন বৃহস্পতিবার সকালে চলে গেলেন না ফেরার দেশে। ফিফার প্রথম বাংলাদেশি রেফারির বাকি তিনজন- ননী বসাক, মহিউদ্দীন আহমেদ চৌধুরী ও নূর হোসেন আগেই পৃথিবী ছেড়ে চলে গেছেন।

মনির হোসেন বাংলাদেশ কাবাডি ফেডারেশনের প্রতিষ্ঠাতা যুগ্ম সম্পাদক ছিলেন। ১৯৮৮ সালে প্রথম কাবাডি ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক হন। এরপর তিন দফায় ২৬ বছর ছিলেন কাবাডির সাধারণ সম্পাদক।

ফুটবলে ঘরোয়া আসরের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক অনেক ম্যাচে বাঁশি বাজিয়েছেন মুনীর। কাবাডিতেও ছিল তার দৃপ্ত পদচারণা। সেখানেও বাঁশি বাজানোর রেকর্ড আছে। এছাড়া আছে এশিয়ান কাবাডির বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পালন করার অভিজ্ঞতা।

৮০’র দশকে তিনি পেশা ছেড়ে দেন। ফুটবলার হিসেবেই তিনি ক্যারিয়ার শুরু করেছিলেন। কিন্তু খেলতে গিয়ে চোটে পড়ায় খেলা ছেড়ে দেন। তবে এ জগৎ তিনি ছাড়তে পারেননি। ১৯৬০ সালে রেফারি হিসেবে শুরু। ১৯৬৮ সালে রেফারিদের পরীক্ষায় প্রথম হন। ১৯৭৪ সালে হন আন্তর্জাতিক ফিফা রেফারি।

কুয়েতে এশীয় যুব ফুটবল, থাইল্যান্ডে প্রথম কিংস কাপ ফুটবল, ইরানে ১৯তম যুব ফুটবলসহ অনেক আন্তর্জাতিক ম্যাচ কৃতিত্বের সঙ্গে পরিচালনা করেছেন। তিনি বিভিন্ন আন্তর্জাতিক কাবাডি ম্যাচেও রেফারির দায়িত্ব পালন করেন একাধিকবার। এ ছাড়া এশিয়ান কাবাডি ফেডারেশনের সহসভাপতি ও কোষাধ্যক্ষের দায়িত্ব পালন করেছেন বিভিন্ন মেয়াদে। বাংলাদেশ কাবাডি রেফারি সমিতির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যানও ছিলেন মনির হোসেন।

বাফুফের রেফারিজ কমিটির ডেপুটি চেয়ারম্যান ইব্রাহিম নেসার বলেন, মুনীর ভাই অনেক ভালো রেফারি ছিলেন। ছিলেন সংগঠকও। সেসময় ঢাকার ঘরোয়া ফুটবলে তিনি শক্ত হাতে রেফারিং করেছিলেন। দুই সাবেক তারকা নান্নু ও মঞ্জুকে যেভাবে সামলাতেন, সেটা ছিল দেখার মতো।

মনির হোসেনের জানাজা আজ বাদ আসর মানিকনগর জামে মসজিদে হবে। এরপর গোপীবাগ পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হবে তাকে।

মনির হোসেনের মৃত্যুতে রেফারি ও কাবাডি অঙ্গনে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। কাবাডি কোচ আবদুল জলিল বলেছেন, বাংলাদেশে জাঁকজমকভাবে কাবাডির চর্চাটা না হলেও খেলাটা মাঠে ধরে রেখেছিলেন তিনি। দেশ একজন ভালো মানের ক্রীড়া সংগঠক হারাল।