চলতি অর্থবছর জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৮ দশমিক ২৫ শতাংশ হতে পারে -পরিকল্পনা মন্ত্রী

0
636

খুলনাটাইমস ডেস্কঃ চলতি (২০১৮-১৯) অর্থবছর শেষে দেশের মোট দেশজ উত্পাদনে (জিডিপি) প্রবৃদ্ধির হার ৮ দশমিক ২৫ শতাংশ হবে বলে পূর্বাভাস দিয়েছেন পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। তিনি বলেন, আগে জাতীয় নির্বাচনের বছরে উন্নয়ন কাজ বাধাগ্রস্ত হলেও এবার হবে না। কারণ আমরা প্রকল্প পরিচালকদের অর্থ ব্যয়ের ক্ষমতা বাড়িয়েছি। বিদায়ী অর্থবছরের (২০১৭-১৮) চূড়ান্ত হিসাবে প্রবৃদ্ধি আট শতাংশের কাছাকাছি হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

গতকাল বৃহস্পতিবার শেরেবাংলা নগরস্থ এনইসি সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। মন্ত্রী জানান, আগামী ছয় মাসের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) প্রকল্পের টাকা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের হিসাবে চলে গেছে। টাকার জন্য অর্থ মন্ত্রণালয় বা পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে আসতে হবে না। তাই প্রকল্প বাস্তবায়ন নিয়ে কোনো সমস্যা হবে না।

সম্প্রতি অনুমোদিত ডেল্টা প্লান বা বদ্বীপ পরিকল্পনার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে মন্ত্রী বলেন, শতবর্ষব্যাপী ডেল্টা প্লান বাস্তবায়নে আমরা সর্বশক্তি নিয়োগ করবো। এটা বাস্তবায়নে জনবল তৈরি করা হবে। ডেল্টা প্লান বাস্তবায়ন হলে ২০২৫ সালের পর দেশের প্রবৃদ্ধির হার ৯ থেকে ১০ শতাংশ হারে বৃদ্ধি পাবে। ব-দ্বীপ পরিকল্পনায় গঙ্গা ব্যারেজ বাস্তবায়নের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, গঙ্গা ব্যারেজ আমরা বাস্তবায়ন করবো। নতুন ডিজাইন বা নকশা করে ব্যারেজ তৈরি করা হবে। গঙ্গা ব্যারেজ নির্মাণে প্রতিবেশি কোন দেশের বাধা নেই উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, অন্যান্য প্রকল্প যেভাবে বাস্তবায়ন করা হয় এই প্রকল্পও সেভাবে বাস্তবায়ন করা হবে। বৈদেশিক অর্থ না পেলে প্রয়োজনে নিজস্ব অর্থায়নে ডেল্টা প্লান সরকার বাস্তবায়ন করবে।নির্বাচন কমিশনের ইভিএম কেনার প্রকল্প প্রস্তাব পরিকল্পনা কমিশনে এসেছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ইভিএম নিয়ে সুস্পষ্ট নির্দেশনা নেই তাই এ বিষয়ে কিছু করতে পারছি না। প্রধানমন্ত্রী এ বিষয়ে ঘোষণা দেবেন। মন্ত্রী বলেন, ইভিএম ব্যবহারের জন্য আরো প্রশিক্ষণ প্রয়োজন। টেকনোলজি ব্যবহারে যেমন সুফল রয়েছে তেমনি কুফলও রয়েছে।

মন্ত্রী আরো বলেন, ক্রয়ক্ষমতা সমতার দিক থেকে (পারচেজিং পাওয়ার প্যারিটি-পিপিপি) ২০৩০ সালের মধ্যে বাংলাদেশ দক্ষিণ আফ্রিকা, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সিংগাপুর, ইরাক, কলম্বিয়ার মতো দেশগুলোকে পেছনে ফেলে অর্থনৈতিকভাবে সামনের দিকে এগিয়ে যাবে।
পরিকল্পনামন্ত্রী তার সাম্প্রতিক ভিয়েতনাম সফরকালে ভারতীয় মহাসাগর সম্মেলনের কথা উল্লেখ করে বলেন, এই সফরটি ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কেননা আগামী ২০৩০ সালের পূর্বেই ভারত হবে বিশ্বের তৃতীয় অর্থনৈতিক শক্তি। এই সম্মেলনে ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলো নিয়ে একটি অর্থনৈতিক জোটের কথা বলা হয়েছে এবং সবগুলো দেশ এই বিষয়ে একমত পোষণ করেছে। সফরে সাইড লাইনে শ্রীলংকার প্রধানমন্ত্রী এবং ভারতে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক প্রসঙ্গে মন্ত্রী জানান, সেখানে বাণিজ্য ছাড়াও রোহিঙ্গা ও আসাম ইস্যু নিয়ে আলোচনা হয়েছে।