ঘোষিত বাজেট নিয়ে খুলনায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া : ভিন্নমত আ’লীগ-বিএনপির

0
463

এম জে ফরাজী, খুলনাটাইমস:
জাতীয় সংসদে ২০১৮-১৯ অর্থবছরের বাজেট বৃহস্পতিবার পেশ করেছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। ‘সমৃদ্ধ আগামী পথযাত্রায় বাংলাদেশ’ নাম দিয়ে এবার প্রস্তাবিত বাজেটে ব্যয় ধরা হয়েছে ৪ লাখ ৬৪ হাজার ৫৭৩ কোটি টাকা। এর মধ্যে উন্নয়ন বাজেটের মোট আকার ধরা হয়েছে ১ লাখ ৭৯ হাজার ৬৬৯ কোটি টাকা। প্রস্তাবিত অনুন্নয়ন বাজেটে ব্যয় ধরা হয়েছে ২ লাখ ৮২ হাজার ৪১৫ কোটি টাকা।

এদিকে বাজেট ঘোষণার পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় মিশ্র মনোভাব ব্যক্ত করেছেন খুলনার বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও ব্যবসায়ী নেতারা। কেউ ঘোষিত বাজেটকে স্বাগত জানিয়েছেন। আবার কেউ বলছেন ঘোষিত বাজেট উচ্চাভিলাষী।

বাজেট প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন, কেন্দ্রিয় নেত্রী ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী বেগম মন্নুজান সুফিয়ান এমপি, খুলনা মহানগর আওয়ামী লীগ সভাপতি ও সিটি মেয়র আলহাজ্ব তালুকদার আব্দুল খালেক, জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি ও জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান শেখ হারুনুর রশীদ, খুলনা জেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক হুইপ এস এম মোস্তফা রশিদী সুজা এমপি, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ কেন্দ্রিয় কমিটির অন্যতম সদস্য ও সাবেক ছাত্রনেতা এস এম কামাল হোসেন, খুলনা মহানগর আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ও ১৪ দলের সমন্বয়ক আলহাজ্ব মিজানুর রহমান মিজান এমপি।
এক বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, এ বাজেট গরীব-দু:খী মানুষের ভাগ্যোন্নয়নের বাজেট। এ বাজেটের মধ্য দিয়ে শিক্ষিত বেকারদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা থাকবে, থাকবে কৃষি, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প প্রতিষ্ঠান স্থাপন, পদ্মা সেতুতে রেল লাইন স্থাপনসহ দেশের অসংখ্য উন্নয়ন। ২০৪১ সালে বাংলাদেশকে উন্নত বিশ্বের কাতারে দাড় করাতে এ বাজেটে শিক্ষাখাতের উপর অধিক গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। চাকুরীজীবীদের বেতন বৃদ্ধির ব্যাপারে প্রস্তাব রাখা হয়েছে এ বাজেটে। নেতৃবৃন্দ শেখ হাসিনার সরকারের পেশকৃত বাজেটকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, বাংলাদেশ ও জনগণের উন্নয়নে শেখ হাসিনার সরকারের দরকার। আর এ বাজেটের মধ্য দিয়েই শেখ হাসিনার সরকার জনগণের আশা আকাংখার প্রতিফলন ঘটাবে বলে নেতৃবৃন্দ মনে করেন।

খুলনা চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি কাজি আমিনুল হক ঘোষিত জাতীয় বাজেটকে জনহিতকর, বাস্তবসম্মত, উন্নয়নমূখী, ব্যবসাবান্ধব ও সময় উপযোগী বলে উল্লেখ করে বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য কন্যা প্রধানমন্ত্রী দেশরতœ শেখ হাসিনা ও মাননীয় অর্থমন্ত্রীকে আন্তরিক অভিনন্দন জানান। প্রস্তাবিত ৪ লাখ ৬৪ হাজার ৫৭৩ কোটি টাকার এ বাজেটে উন্নয়ন ও বিদ্যুৎ খাতে অধিক বরাদ্দ এবং দেশীয় ইলেকট্রনিক্স কাঁচামাল, লোহা, ইস্পাত, নির্মাণ খাতের মালামাল, ক্যান্সারের ঔষধ, কম্পিউটার যন্ত্রাংশ ও সফটওয়্যার এবং দেশের পোল্ট্রি খাতসহ শিশু খাদ্যকে অগ্রাধিকার দিয়ে বাজেট ঘোষণা করায় এ বাজেট সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা সহজীকরণ, দারিদ্র বিমোচন, ব্যবসা-বাণিজ্য ও শিল্পের প্রসার এবং উন্নয়নে অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে। এছাড়া ব্যাংক বীমা ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কর্পোরেট হার কমানোর ফলে ব্যবসায়ীরা ব্যাংক থেকে মূলধন আহরণের মাধ্যমে তাদের ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার ঘটাতে পারবে বলে খুলনা চেম্বারের সভাপতিসহ পরিচালনা পরিষদ আশা ব্যক্ত করেন।

প্রস্তাবিত বাজেটকে গণবিরোধী বাজেট বলে আখ্যা দিয়ে জেলা বিএনপির সভাপতি এস এম শফিকুল আলম মনা বলেন, উচ্চাভিলাষী এ বাজেটে জনগণের ওপর করের বোঝা বাড়বে। নির্বাচনকে সামনে রেখে এ সরকার একটি উচ্চাভিলাষী বাজেট করেছে। এতো বিশাল ঘাটতির বাজেট কখনই পূরণ করা সম্ভব নয়। যেসব পণ্যের ভ্যাট কমানো হয়েছে তা কিন্তু সাধারণ মানুষের ব্যবহার্য নয়। তাই আমি মনে করি জনগণের আশা-আকাঙ্খা পূরণে এ বাজেট কোনো কাজে আসবে না। এ বাজেটে গরিব আরো গরীব হবে আর কিছু মানুষ আরো বড় লোক হবে।

বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) খুলনা মহানগর কমিটির সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান বাবু বলেন, এটি বিগত বছরের ধারাবাহিকতায় একটি উচ্চাভিলাষী বাজেট। এটি অভিশপ্ত বাজেট। এ বাজেটে বড় লোকের সুযোগ-সুবিধা আরো প্রতিষ্ঠিত করা হয়েছে। শ্রমজীবী মানুষের কোনো স্বার্থের কথা বলা হয়নি। খেটে খাওয়া মানুষের কোনো উপকারে আসবে না। কোনোভাবেই এটাকে গণমুখী বাজেট বলা যাবে না।

খুলনা চেম্বারের সাবেক সভাপতি সাহারুজ্জামান মোর্ত্তজা বলেন, এটা একটি ঘাটতি বাজেট। বাজেটের আকার বড় হলে যে ভালো হয়, তার কোনো কথা নেই। এটা একটি উচ্চাভিলাষী নির্বাচনমুখী বাজেট। গত কয়েক বছর ধরে সরকার এ ধরনের বাজেট দিচ্ছে। নির্বাচনের বছর একটা ফাঁকা বুলি আওড়ানোর জন্য একটি বড় বাজেট দিয়েছে।