ঘুষ ও দুর্নীতির নিরব হোতা অবসরপ্রাপ্ত সিএ কাম ইউডিএ, চালিয়ে যাচ্ছে অফিসের কার্যক্রম

0
1048

নিজস্ব প্রতিবেদক, খুলনাটাইমস :

খুলনার দাকোপ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে অবসরপ্রাপ্ত সিএ কাম ইউডিএ শংকর প্রসাদ গোলদার বহাল তবিয়তে চালিয়ে যাচ্ছে প্রশাসনিক ভবনের সকল দাপ্তরিক কার্যক্রম। তার বিরুদ্ধে রয়েছে একাধিক অনিয়ম, ঘুষ ও দুর্নীতির অভিযোগ।

সুত্রে জানা যায়, শংকর প্রসাদ গোলদারের চাকুরির মেয়াদ শেষ হয়েছে ২০১৬ সালের ১১ এপ্রিলে। মেয়াদান্তে ২০১৬ সালের ১২ এপ্রিল থেকে ২০১৭ সালের ১১ এপ্রিল অর্থাৎ (এক বছর) পর্যন্ত পিআরএল ভোগ করে। ইতোমধ্যে সে খেয়াঘাট, হাট-বাজার, জলমহল ইজারাসহ বিভিন্ন খাত থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা ঘুষ গ্রহন করেছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক ভুক্তভোগি জানান, তার কাছে কোনো কাজ নিয়ে গেলে টাকা ছাড়া সম্ভব হয় না। উপজেলা কোয়াটার সংস্কারের নামে সে একাধিকবার সরকারি অর্থ আত্মসাৎ করে। অফিসের একটি গোপন সুত্রে জানা যায়, শংকর একজন অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী হয়েও সে উপজেলার পিয়ন বুক, অফিসের ব্যাংকের চেকে রিতিমত স্বাক্ষর করে চলেছে। অনেক এনজিও কর্মকর্তা, বালু ব্যবসায়ি, করাতকল, অভিযোগকারির নোটিশ প্রদানসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সে ঘুষ বানিজ্য করে থাকে।

দীর্ঘ বছর ধরে সরকারি কোয়াটার ব্যবহার করলেও নিজে কোনো দিন বরাদ্দকৃত ভাড়ার টাকা পরিশোধ করেনি অথচ অন্য কর্মকর্তা কর্মচারিদের ভাড়ার টাকা যথাসময়ে আদায় করেছে। এছাড়া উপজেলার বিভিন্ন সম্পদ নিজের সম্পদের মত অবাধে ব্যবহার করছে। আরও জানা যায়, নির্বাহী কর্মকর্তাকে ম্যানেজ করে সে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতি চালাচ্ছে। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ হওয়ার পরে খুলনা বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয় থেকে সরকারি অফিসের কোনো কাজ না করার নোটিশ পাওয়া সত্বেও উক্ত কর্মচারি আজও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার অফিসে তার সহি-স্বাক্ষর দিয়ে কোন অদৃশ্য শক্তির বলে অফিসের গুরুত্বপূর্ণ কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।
এলাকাবাসির দাবি উক্ত অসাধু কর্মকর্তাকে অচিরে অপসারণ করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়কে ঘুষ ও দুর্নীতিমুক্ত করা হোক।

এ বিষয়ে সিএ কাম ইউডিএ শংকর প্রসাদ গোলদার খুলনাটাইমসকে বলেন, আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ হয়েছে সেটি আমি জানি এবং অভিযোগের তদন্ত রিপোর্টের প্রেক্ষিতে আমাকে কর্মস্থলে না আসতে বলা হয়েছে। তারপরও অফিসে জনবলের অভাব থাকায় নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশে কাজ করছি।

বিষয়টি নিয়ে কথা হয় নবাগত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আব্দুল ওয়াদুদের সাথে। তিনি খুলনাটাইমসকে জানান, আমি সবেমাত্র দু’দিন কাজে যোগদান করেছি। বিষয়টি আমি দেখব এবং আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করব।