গোপালগঞ্জের কোটালিপাড়ায় কিশােরী কীর্ত্তণ শিল্পীকে ধর্ষণ

0
816

গােপালগঞ্জ প্রতিনিধিঃ
গোপালগঞ্জের কােটালীপাড়ায় প্রেম প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় এক কিশােরী কীর্ত্তণ শিল্পীকে (১৫) ধর্ষণ করেছে দুই বখাটে। বৃহস্পতিবার রাতে কােটালীপাড়া উপজলার পীরারবাড়ি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর ওই কিশারীকে উদ্ধার করে প্রথমে কােটালীপাড়া উপজেলা স্বাস্থ কমপ্লেক্সে ও পরে গােপালগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। কিশােরী ও তার পরিবারের অভিযাগ, পীরারবাড়ি গ্রামের মত পরিক্ষিত মল্লিকের ছেলে পরিমল মল্লিক (২২) ও গুরুদাস মল্লিকের ছেলে কালু মল্লিক (১৯) এ ধর্ষণের ঘটনা ঘটিয়েছে।

কিশােরীর বাবা দুর্ঘটনায় পঙ্গু সবজি ব্যবসায়ী জানান, তার মেয়ে খুলনার লক্ষ্মী নারায়ণ সম্প্রদায় নামের একটি কীর্ত্তনের দলের শিল্পী। গত দুই দিন আগে ৩ দিনের ছুটিতে বাড়ি আসে এবং সন্ধ্যার পর গিয়ে পীরারবাড়ি বাজারের দােকানে বসে আমার ব্যবসায় সাহায্য করে। ঘটনার দিন রাত ৯টার দিকে দােকান থেকে বাড়ি ফেরার পথে পরিমল ও কালু আমার মেয়ের মুখ বেধে টেনে হিচড়ে পুকুর পাড়ে নির্জন স্থানে নিয়ে ধর্ষণ করে। সেখান থেকে কৌশলে আমার বড় মেয়েক ফােন দিয়ে ঘটনার কথা জানাতেই ওরা আমার ছােট মেয়ের ফােন কেড়ে নেয় ও তাকে মারপিট করে। আমার মেয়ে অজ্ঞান হয়ে গেলে তাকে ফেলে রেখে বখাটেরা পালিয়ে যায়। পরে আমরা গিয়ে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করি।

কীর্ত্তণ শিল্পীর মা অভিযাগ করে বলেন, আমার মেয়েকে পরিমল ও কালু ধর্ষণ করেছে। আমি তাদর দষ্টান্তমুলক শাস্তি চাই। যাতে ভবিষ্যতে আর কােন মেয়ে ধর্ষণের স্বীকার না হয়।
কীর্ত্তণ শিল্পী ওই কিশারী জানায়, বেশ কিছুদিন আগে থেকে পরিমল মল্লিক তার পরিচয় গােপন করে ফােনে আমাকে প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে আসছিল। কিন্তু আমি সাড়া দেইনি। পরে পরিমলের পরিচয় পাওয়ার পরও আমি তার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করি। তার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় প্রতিশােধ নিতে পরিমল ও তার সহযাগী কালু আমাকে ধর্ষণ করেছে।

গোপালগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডাঃ অসিত কুমার মল্লিক জানান, বৃহস্পতিবার রাতে ওই কিশারীকে হাসপাতাল ভর্তি করা হয়। আলামত সংগ্রহ করে তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। শারীরিক পরীক্ষা শেষেই বলা যাব সে ধর্ষিত হয়েছে কি না।
কোটালীপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মােহাম্মদ কামরুল ফারুক বলেন, বিষয়টি এখনও আমি জানিনা। কেউ অভিযােগ নিয়ে আসলে তদন্ত পূর্বক ব্যবস্থা নেয়া হবে।