গৃহায়ন খাতে ১ হাজার কোটি টাকা ঋণ দিচ্ছে ইসলামী উন্নয়ন ব্যাংক (আইডিবি)

0
481

টাইমস রিপোর্ট :

বাংলাদেশের গৃহায়ন খাতের উন্নয়নে ৯ কোটি ৪৭ লাখ ইউরো ঋণ দিচ্ছে ইসলামী উন্নয়ন ব্যাংক (আইডিবি)। বাংলাদেশি মুদ্রায় যার পরিমাণ প্রায় ১ হাজার কোটি টাকা।
মঙ্গলবার তিউনিসিয়ায় এ সংক্রান্ত একটি চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছে বলে অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে।
বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত এবং আইডিবির প্রেসিডেন্ট বন্দর এম এইচ হাজ্জা চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। এ সময় ইআরডি সচিব শফিকুল ইসলামসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। অর্থমন্ত্রী বর্তমানে আইডিবির বার্ষিক সম্মেলনে যোগ দিতে তিউনিসিয়ায় অবস্থান করছেন।
জেদ্দাভিত্তিক ব্যাংকটি বাংলাদেশ হাউস বিল্ডিং ফাইন্যান্স করপোরেশনকে (বিএইচবিএফসি) এ ঋণ দেবে। গত বছর জুলাই মাসে জেদ্দায় বোর্ডের নির্বাহী পরিচালকদের সভায় এ ঋণ অনুমোদন করা হয়। বাংলাদেশের শহর ও গ্রামীণ এলাকার আবাসস্থল উন্নয়নে এ অর্থ ব্যয় হবে।


এদিকে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, দেশের গৃহায়ন খাতে একমাত্র সরকারি মালিকানাধীন বিএইচবিএফসিকে ঋণ দেওয়ার ক্ষেত্রে একটি শর্ত আরোপ করেছে আইডিবি। শর্তটি হচ্ছে- এই ঋণের বিপরীতে সরকারকে গ্যারান্টি দিতে হবে। বিএইচবিএফসির পক্ষ থেকে শহর ও গ্রামীণ এলাকায় বহুতল ভবন নির্মাণের জন্য ‘রুরাল অ্যান্ড আরবান হাউজিং প্রজেক্ট ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক একটি প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। এই প্রকল্পের আওতায় আইডিবির কাছ থেকে এই অর্থ ঋণ হিসেবে নেওয়া হচ্ছে।
বিএইচবিএফসি সূত্রে জানা গেছে, এই প্রকল্পটির মোট আকার নির্ধারণ করা হয়েছে ১২ কোটি ৫৬ লাখ ৪০ হাজার ডলার। এর মধ্যে প্রায় ১০ কোটি ডলার আইডিবির কাছ থেকে পাওয়া যাবে। বাকি অর্থ বিএইচবিএফসির নিজস্ব তহবিল থেকে সংকুলান করা হবে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে শহর ও পল্লী এলাকায় আগামী ৫ বছরে বহুতল ভবন নির্মাণের জন্য গ্রাহকদের মাঝে ঋণ বিতরণ করা হবে।
আইডিবির ১০ কোটি ডলার ঋণ ১৫ বছরে পরিশোধ করতে হবে। তবে এর মধ্যে গ্রেস পিরিওড থাকবে ৫ বছর। এই গ্রেস পিরিওডের জন্য সুদ দিতে হবে। ঋণের সুদের হারের ক্ষেত্রে বলা হয়েছে, ‘গ্রেস পিরিওড মার্ক-আপ ১.৫৫% + ছয় মাসিক লাইবর (লন্ডন ইন্টার ব্যাংক লেন্ডিং রেট) এবং গ্রেস পিরিওড পরবর্তী সময় জন্য সুদের হার হবে মার্ক-আপ ১.৫৫% + সোয়াপ(এসডব্লিউপি) রেট-(যা বর্তমানে ১.৭% রয়েছে)। সর্বসাকুল্য এই ঋণের সুদের হার হবে ২ দশমিক ২৭ শতাংশ।
বিএইচবিএফসি এই ঋণ গ্রাহকদের কাছে ১০ শতাংশ সুদে দেবে এবং তা ৫ বছরের মধ্যে গ্রাহককে পরিশোধ করতে হবে।
এদিকে, বিএইচবিএফসির এই ঋণ নেওয়ার সক্ষমতা রয়েছে কি না তা বিশ্লেষণ করে অর্থ বিভাগের ট্রেজারি বিভাগ থেকে প্রতিষ্ঠানটির ওপর একটি বিশ্লেষণ করেছে। এতে বলা হয়েছে, ২০১৪-২০১৫ অর্থবছর পর্যন্ত এই প্রতিষ্ঠানের দেওয়া ঋণের স্থিতির পরিমাণ ছিল প্রায় ২ হাজার ৭৩৮ কোটি টাকা। যার মধ্যে শ্রেণিবিন্যাসিত ঋণের পরিমাণ ছিল প্রায় ২০৫ কোটি ৭৮ লাখ টাকা। যা প্রদত্ত ঋণের প্রায় ৭ দশমিক ৫২ ভাগ। ২০১৪-২০১৫ অর্থবছর পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটির মূলধন ও সঞ্চিতির পরিমাণ ছিল প্রায় ১ হাজার ৭৯৪ কোটি টাকা। এ হিসেবে প্রদত্ত ঋণের স্থিতি এবং মূলধন ও সঞ্চিতির অনুপাত প্রায় ১:১.৫৩। অন্যদিকে, একই সময়ে প্রতিষ্ঠানটির অন্যান্য দায়ের পরিমাণ ছিল ৮১৪ কোটি টাকা। তবে এ পর্যন্ত বিএইচবিএফসির দায়ের মধ্যে বৈদেশিক ঋণের কোনো দায় নেই।