খোলা পরিবেশে পাঠদান চলছে দেবহাটার গুচ্ছগ্রাম বিদ্যালয়ে

0
508

মীর খায়রুল আলম, দেবহাটা (সাতক্ষীরা) প্রতিনিধি:
দেবহাটার গুচ্ছগ্রাম সরকারি প্রথমিক বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষ সংকট হওয়ায় কোমলমতি শিক্ষার্থীদের পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে। সরেজমিনে গিয়ে এ চিত্র দেখা গেছে।
জানা যায়, পারুলিয়া ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডে পিছিয়ে পড়া জনগোষ্টি ভূমিহীদের মাঝে শিক্ষার আলো ছড়াতে ১৯৯৫ সালে বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়। বর্তমানে বিদ্যালয়ে শিক্ষক ৫ জন, শিক্ষার্থী ১৭৮জন।
কয়েক বছর আগে পুরাতন জরাজীর্ণ ভবনের পাঁকা অংশে ফাটল দেখা যায়। বিভিন্ন স্থান ধ্বসে পড়ে শিক্ষার্থীদের মারাত্বক ক্ষতি হতে পারে এমন আশংকা দানা সংশ্লিষ্টদেও মাঝে। ফলে ২০০৬ সালে ভূমিহীন পল্লীর জনসাধারণের জন্য নির্মিত আশ্রয়কেন্দ্রে শুরু হয় বিদ্যালয়ের পাঠদান কার্যক্রম।
সেই রুমে কোন রকম ভাবে শুরু হওয়া পাঠদান বর্তমানে নানা সংকটের মুখে পড়েছে। কেননা প্রতিটা বিদ্যালয়ের একটি কক্ষ শুধুমাত্র শিশু শ্রেণির জন্য বরাদ্ধ। যেখানে শিক্ষা উপকরণ রাখা হয়েছে ৪টির ১টিতে, একটি রুম অফিস কক্ষ হিসাবে, অপর দুটি কক্ষে পাঠদান করা হলেও তা পর্যাপ্ত নয়।
এতে করে খোলা পরিবেশে কতিপয় শিক্ষার্থীদের পাঠদান চলছে। তবে অনেক শিক্ষার্থী পাঠদান থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। বিদ্যালয়ে নেই ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য আধুনিক মানসম্মত কমন রুম, নেই সীমানা প্রাচীর, ওয়াশ রুম, নেই ভালো টয়লেট। ঝড়-বৃষ্টি হলে বই পুস্তক বৃষ্টির পানিতে ভিজে যায়। আর রোদের সময় ধুলাবালিতে ভরে যায়। সব মিলিয়ে ভোগান্তির শেষ নেই।
১৯৯৫ সালের বিদ্যালয় ভবনটি সেই থেকে এখনও সম্পূর্ণ অকেজো হয়ে পড়ে আছে। বিদ্যালয়ের সমস্যাগুলো বার বার প্রশাসনকে জানানো হলেও ফল পাওয়া যায়নি। স্থানীয় ভূমিহীন ছিন্নমূলের মানুষের সহযোগীতায় পরিত্যাক্ত ভবনে ঝুঁকির মধ্যে পাঠদান করা হলেও সেটি এখন পুরোপুরি বন্ধ।
শিশুদের জন্য নেই সুপেয় পানির ব্যবস্থা। নেই আধুনিক পাঠদানের উপকরণ ব্যবস্থা। নেই পর্যাপ্ত আধুনিক বেঞ্চ-টেবিল। নেই সীমানা প্রাচীর। বিদ্যালয়টিতে পিছিয়ে পড়া জনগোষ্টির ছেলে-মেয়েরা লেখাপড়া করতে আসে। আর এ কারনে দীর্ঘদিন ধরে সুবিধাবঞ্চিত মানুষেরা সরকারি সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়ে আসছে। যেখানে বর্তমান সরকার শিক্ষার বিষয়টি অতিগুরুত্বপূর্ণ ভাবে দেখলেও এই বিদ্যালয়টি অবহেলায় পড়ে আছে।
প্রধান শিক্ষক মুজিবর রহমান বলেন, যাত্রা শুরু থেকে এখানে প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করছি। বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন দপ্তরে ভবনের আবেদন করেও কোন সাড়া পাচ্ছি না। উদ্ধর্তন কর্তৃপক্ষ বিদ্যালয়টির দিকে সু-দৃষ্টি দেয় তাহলে আমরা খুবই উপকৃত হব।
বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও ইউপি সদস্য মোকারম হোসেন বলেন, আমি নতুন করে কমিটিতে এসেছি। শিক্ষকদের থেকে জানতে পারলাম বিভিন্ন দপ্তরে ভবনের জন্য আবেদন করে এখনো কোন সুফল মেলেনি। নিজ অর্থায়নে এবং পারুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা দিয়ে বিদ্যালয়ের পরিবেশকে শিক্ষাবান্ধব করে তুলছি। সরকারি ভাবে একটা নতুন ভবন তৈরী করে দিলে আমাদের এলাকার ছাত্র-ছাত্রীরা নির্বিঘিœ পড়ালেখা করতে পারবে। তাছাড়া আগের অকেজো ভবনটি প্রতিনিয়ত ভেঙ্গে দূর্ঘটনা ঘটছে। তাই অকেজো ভবনটি ভেঙ্গে ওই স্থানটিতে নতুন ভবন তৈরী করতে কর্তৃপক্ষের সহযোগীতা কামনা করছি।
অনতি বিলম্ভে পাঁকা নতুন ভবন নির্মাণ করে কোমলমতি শিক্ষার্থীদেরকে প্রাথমিক শিক্ষার সুযোগ করে দেয়ার জন্য দাবী করেন শিক্ষক, অভিভাবক ও এলাকার সচেতন মহল।