খুলনা-৬ আসনে আ’লীগ-বিএনপি’র প্রার্থী মনোনয়নে জটিল সমীকরণ

0
979

এম জে ফরাজী : একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে শরিকদের সঙ্গে আসন বণ্টন নিয়ে চাপে রয়েছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও বিএনপি। দলীয় মনোনয়নের পাশাপাশি জোট শরিকদের দাবি পূরণে দুই জোটেই চলছে নানা হিসাব-নিকাশ। নতুন রাজনৈতিক মেরুকরণ হওয়ায় জোটের ছোট শরিকরা বড় আবদার করছেন আসন নিয়ে। আবার ওইসব এলাকায় রয়েছে বড় দুই রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ-বিএনপির হেভিওয়েট প্রার্থীরা।
খুলনা-৬ (কয়রা ও পাইকগাছা) আসনে এবার আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোট থেকে প্রার্থী দাবি করছে জাতীয় পার্টি (জাপা)। যদিও সেখানে আওয়ামী লীগের বর্তমান ও সাবেক সংসদ সদস্যের সাথে রয়েছে হেভিওয়েট প্রার্থীর মনোনয়ন দাবি। তেমনি চাপে রয়েছে বিএনপিও। এ আসনে দলের হেভিওয়েট প্রার্থীকে বাদ দিয়ে ২০ দলীয় জোটের শরিক জামায়াতে ইসলামীকে আসনটি ছেড়ে দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
আওয়ামী লীগ সূত্র জানায়, পাইকগাছা-কয়রা থেকে প্রার্থী হতে দলের মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন ১৪ জন। এদের মধ্যে আলোচনায় রয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিক বিষয়ক উপদেষ্টা ড. মসিউর রহমান, বর্তমান সংসদ সদস্য আলহাজ্ব এ্যাডঃ শেখ মোঃ নূরুল হক, সাবেক সংসদ সদস্য এ্যাডঃ সোহরাব আলী সানা ও জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আকতারুজ্জামান বাবু।
দলের মধ্যে গুঞ্জন রয়েছে এবার আওয়ামী লীগ রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় এলে ড. মসিউর রহমানকে অর্থমন্ত্রী করা হতে পারে। সেক্ষেত্রে তাকে অবশ্যই যেকোনো এক আসনে মনোনয়ন দেওয়া হবে। তার নিজ এলাকা খুলনা-৪ আসনে সে সম্ভাবনা ক্ষীণ বললেই চলে। তাইতো তিনি এ আসন থেকে লড়তে দলীয় মনোনয়ন দাবি করছেন। যদিও সেখানে বর্তমান ও সাবেক সংসদ সদস্য এবং জেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদকও মনোনয়নের জোর দাবিদার। ধারণা করা হচ্ছিল এদের মধ্য থেকেই আওয়ামী লীগের প্রার্থী চূড়ান্ত করা হবে।
কিন্তু বিএনপি’র নেতৃত্বাধীন জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নির্বাচনে আসায় ২০০৮ সালের মতো এবারও মহাজোটে থেকেই নির্বাচন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে এইচ এম এরশাদের জাতীয় পার্টি। তাদের দাবি করা খুলনার দুটি আসনের মধ্যে এটিও অন্যতম। জোটভিত্তিক নির্বাচনের কথা চিন্তা করে হয়ত জাতীয় পার্টির যে কেউ এ আসনে মহাজোটের প্রার্থী হতে পারেন বলে ধারণা অনেকের। জাতীয় পার্টি এ আসনে লড়তে ইতোমধ্যে মনোনয়ন সংগ্রহ করেছেন জেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি শফিকুল ইসলাম মধু ও পাইকগাছা উপজেলা জাতীয় পার্টির আহবায়ক মোস্তফা কামাল জাহাঙ্গীর। যার ফলে মহাজোটের প্রার্থী মনোনয়নের ক্ষেত্রে জটিল সমীকরণের মধ্যে রয়েছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ।
এদিকে বিএনপি সূত্র জানায়, খুলনা-৬ আসনে এর আগে জোটের শরিক জামায়াতে ইসলামীকে ছেড়ে দিয়েছিলো বিএনপি। তবে এবারের প্রেক্ষাপট অনেকটা ভিন্ন। উপকূলীয় এই আসন থেকে লড়তে দলের মনোনয়ন দাবি করেছেন জেলা বিএনপি’র সভাপতি এ্যাড. শফিকুল আলম মনা। তিনি ছাড়াও কয়রা উপজেলা বিএনপি’র সভাপতি এ্যাড, মোমরেজুল ইসলাম ও ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি রফিকুল ইসলাম রফিক মনোনয়ন দাবি করছেন।
তবে আওয়ামী লীগের মতো বিএনপিতেও জোট-মহাজোটের কারণে হয়ত দলের হেভিওয়েট প্রার্থী এ্যাড. শফিকুল আলম মনাকে বাদ রেখে জামায়াতকে ছেড়ে দেওয়া হতে পারে এ আসননি- এমন গুঞ্জন এখন সর্বত্র। সেক্ষেত্রে এ আসনে ধানের শীষ কিংবা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে খুলনা মহানগরী জামায়াতের আমির আবুল কালাম আজাদকে দেখা যেতে পারে।