খুলনা ৬নং ওয়ার্ডে উপ-নির্বাচন কালঃ প্রার্থী ৪ 

0
437
শেখ মোঃ নাসির উদ্দিন, নিজস্ব প্রতিবেদক, খুলনাটাইমসঃ
আগামীকাল ২৯ মার্চ খুলনা মহানগরের দৌলতপুরের ৬নং ওয়ার্ডের সাধারণ কাউন্সিলর পদে উপ-নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। সকাল ৮ থেকে বিকাল ৪ পর্যন্ত ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।  নির্বাচনে চারজন প্রার্থী কাগজে কলমে থাকলেও মূল প্রার্থী তিনজন নির্বাচনী মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন। এর মধ্যে একজন আ’লীগ (মিজানুর রহমান মিজা তরফদার), ২ জন বিএনপির (শেখ সামসুদ্দিন আহম্মেদ প্রিন্স, তার চাচা শেখ লুৎফর রহমান) ও একজন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী (তরিকুল ইসলাম কাবির)। এতে করে ওয়ার্ডের উপ-নির্বাচনে আ’লীগ ও ইসলামী আন্দোলনের একক প্রার্থী রইল। তবে নির্বাচনে লড়াই হবে আ’লীগের প্রার্থী মিজা, বিএনপির প্রার্থী প্রিন্স ও ইসলামী আন্দোলনের কাবির মধ্যে। ত্রী-মুখি লড়াইয়ে যে যার প্রার্থী জয়ী করতে মরিয়া হয়ে উঠেছে। শেষ মুহূর্তে এসে আ’লীগের একক প্রার্থীই তাদের বিজয়ের ক্ষেত্রে বড় অর্জন বলে তাদের দাবি, বিএনপি তাদের বিজয়ের ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে চায় এবং ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী নতুন মুখ হিসেবে ওয়ার্ডের সেবা করতে চান।
এ ওয়ার্ডে প্রথমে আ’লীগের তিনজন প্রার্থী ছিলেন। তারা হলেন- থানা আ’লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মিজানুর রহমান মিজা তরফদার, ৬নং ওয়ার্ড আ’লীগের সহ-সভাপতি হাবিবুর রহমান হাবীব, ৬নং ওয়ার্ড আ’লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক জাফর ইকবাল মিলন। দু’জন প্রত্যাহারের মাধ্যমে ওয়ার্ডে আ’লীগের একক প্রার্থী রইল। আ’লীগ প্রার্থীদের মধ্যে আলোচনা সাপেক্ষে দল মিজা তরফদারকে মনোনয়ন দেয়। অনুরূপ ৬নং ওয়ার্ডের উপ-নির্বাচনে মনোনয়নপত্র দাখিল করেন বিএনপির মনোনীত প্রার্থী শেখ সামসুদ্দিন আহম্মেদ প্রিন্স, শেখ লুৎফর রহমান, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মহানগর কমিটির প্রচার সম্পাদক তরিকুল ইসলাম কাবির। তবে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী শেখ সামসুদ্দিন আহম্মেদ প্রিন্সের চাচা শেখ লুৎফর রহমান মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার না করায় তাদের মধ্যে সমস্যা শুরু হয়েছে। যদিও প্রিন্স বলছেন ভিন্ন কথা, তিনি বলেন, তার চাচা লুৎফর রহমান তারই ডামি প্রার্থী। নির্বাচনী কেন্দ্রে তাদের পক্ষে বেশি সংখ্যক পোলিং এজেন্ট রাখার স্বার্থে তার চাচাকে প্রার্থী হিসেবে ধরে রেখেছেন। তবে অন্য সূত্র জানায়, ব্যালট পেপারে লুৎফর রহমানের প্রতীক থাকলে কিছু ভোটার তাকে ভোট দেবে। ওই ভোটগুলো প্রিন্সের ভোট ছিল। এতে করে প্রিন্সের লাভের চেয়ে ক্ষতি হতে পারে বলে অনেকে মনে করেন। এ ওয়ার্ডে সাতটি ভোট কেন্দ্র রয়েছে। কেন্দ্রগুলো হলো-বিএল কলেজ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ২টি, আফিল উদ্দীন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ২টি, কারিকরপাড়া প্রাইমারী স্কুল, সবুজ সংঘ বিদ্যাপীঠ ও শেরে বাংলা বিদ্যাপীঠ। তবে আফিল উদ্দীন, সবুজ সংঘ ও শেরে বাংলা এই তিনটি কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ বলে ভোটাররা দাবী করেন।
৬নং ওয়ার্ডে ভোটার ১৪১৫৬ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৭ হাজারের বেশি এবং মহিলা ভোটার প্রায় একই।
২০১৩ সালের ১৫ জুন অনুষ্ঠিত কেসিসি নির্বাচনে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী কাউন্সিলর শেখ শওকত আলী ৪৫০০ অধিক ভোট পেয়ে জয়ী হন। তখন ওয়ার্ডে ভোটার ছিল ১২ হাজার ৮শ’ ৬২ জন। দ্বিতীয় হন আ’লীগ মনোনীত প্রার্থী (দলীয় কোন পদ নেই) মনিরুজ্জামান শাহিন পান প্রায় ২৯শ’ ভোট। বিগত দু’টি নির্বাচনে জয়ী হন শেখ শওকত আলী। কিন্তু এ ওয়ার্ডটি আ’লীগের শক্ত ঘাঁটি হলেও বিএনপির প্রার্থী জয়ী হওয়ার কারণ হিসেবে নেতারা অভ্যন্তরীণ কোন্দলকে দায়ি করেছেন। তবে এবার সে অবস্থা থেকে আ’লীগ সরে এসেছে। এবার তারা সংগঠিত। এবার দল একক প্রার্থী দিয়েছে। এটাই তাদের জয়ের জন্য বড় সাফল্য বলে নেতা-কর্মীরা মনে করেন। গত ১৪ ডিসেম্বর’১৭ ওয়ার্ড কাউন্সিলর শেখ শওকত আলী মারা যাওয়ার পর ওই ওয়ার্ডটি শূন্য হয়ে পড়ে। অবশেষে নির্বাচন কমিশন ওই ওয়ার্ডে উপ-নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেন।
মরহুম কাউন্সিলর শেখ শওকত আলীর ছেলে শেখ সামসুদ্দিন আহম্মেদ প্রিন্স (ঠেলাগাড়ি)  বলেন, তিনি একাই বিএনপির মনোনীত প্রার্থী। তিনি তার বাবার অসমাপ্ত উন্নয়নমূলক কাজগুলো সমাপ্ত করতে কাউন্সিলর পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
আওয়ামীলীগ প্রার্থী মিজানুর রহমান মিজা তরফদার (ঘুড়ি)  জানান, বিগত দিনে প্রার্থী মনোনয়নের ক্ষেত্রে বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়। তবে এবার তা দেখা যাচ্ছে না। সবাই সুসংগঠিত। তিনি বিজয়ের ব্যাপারে আশাবাদী।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী মোঃ তরিকুল ইসলাম কাবির (কাটা চামচ)  বলেন তিনি এবার নতুন মুখ আশা করি যারা নতুন ভোটার আছেন তারা তাকে ভোট দিবেন, ভোট একটি আমানত আমি মনে করি সঠিক, যোগ্য, মাদক ও দূর্নীতি মুক্ত ওয়ার্ড গড়ার লক্ষ্যে আমি বিজয়ের আশাবাদী।
দৌলতপুর থানা নির্বাচনী অফিসার ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মোঃ মাহফুজুর রহমান জানান উপ নির্বাচনে পুলিশের পাচটি টিম ও চারটি ষ্ট্রাইকিং ফোর্সের টিম সহ মোট নয়টি এবং র্য্যাবের দুইটি মোবাইল টিম থাকবে। পুলিশ টিমের দায়িত্বে থাকবেন কেএমপি ‘র উপ পুলিশ কমিশনার (উত্তর) মোল্লা জাহাঙ্গীর হোসেন ও র্য্যাব টিমের দায়িত্বে থাকবেন সিপিসি স্পেশাল কমান্ডার মোঃ এনায়েত হোসেন। বিএল কলেজের দুটি কেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা থাকবে এটি নির্বাচন অফিসের কন্ট্রোল রুম থেকে নিয়ন্ত্রণ করা হবে। প্রতিটি কেন্দ্রে পুলিশ ও আনসার সদস্য সহ ২৯ থেকে ৩৫ সদস্যের একটি টিম থাকবে।