খুলনা-১ আসনে নৌকার মাঝি হতে চান গ্লোরিয়া ঝর্ণা

0
2210

নিজস্ব প্রতিবেদক,খুলনাটাইমস :

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে খুলনা-১ আসনে নৌকার মাঝি হতে চান আওয়ামী লীগের আইন বিষয়ক উপকমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট গ্লোরিয়া ঝর্ণা সরকার। এ লক্ষ্যে গত শুক্রবার প্রথম দিনই তিনি আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয় থেকে দলীয় মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেন। এ সময় তার সঙ্গে কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্যসহ নির্বাচনী এলাকার নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।

 

অ্যাড. গ্লোরিয়া ঝর্ণা সরকার খুলনাটাইমসকে  জানান, বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে বুকে লালন করে জননেত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে কাজ করছি। আমি মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছি। দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে নির্বাচনী মাঠে কাজ করছি, আশা করি জননেত্রী আমাকে দলীয় মনোনয়ন দেবেন। তিনি আরও বলেন, আমি ইতোমধ্যে এলাকার উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছি। নির্বাচিত হতে পারলে এলাকার যুবসমাজের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থাসহ উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখব।

গ্লোরিয়া ঝর্ণা ব্রিটিশ আমলের ইতিহাস তুলে ধরে বলেন, পূর্ব পুরুষেরা আ’লীগের রাজনীতি করায় স্কুল জীবন থেকে অনেক প্রতিভাধর ছিলেন। তার দাদি যুদ্ধের সময় দাকোপ উপজেলার লাউডোব ও বানিশান্তা ইউনিয়নে নিজস্ব ক্যাম্পে মুক্তিযোদ্ধাদের প্রশিক্ষণ প্রদান করতেন। গ্লোরিয়া ঝর্ণা ফাদার মারিনো রিগনের মুখে তার দাদির যুদ্ধকালিন ইতিহাস শুনে আরো বেশি আ’লীগের রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েন। এমনকি মাধ্যমিক শিক্ষা জীবনে মা-বাবার সঙ্গে একটি হত্যা মামলায় আসামী হয়ে কাঠগড়ায় দাড়িয়েছিল। তারপর ১৯৯৬ সালে আ’লীগ সরকারের সময়ে যশোরের সরকারি মহিলা কলেজ ছাত্রলীগের ধর্ম বিষয়ক সম্পাদীকার দায়িত্ব পালন করেন তিনি। এরপর ২০০৪ সালে আইন বিভাগে উত্তীর্ণ হয়ে ঢাকা আইনজীবি পরিষদে শিক্ষানবিশ ছিলেন। তখন আ’লীগ আইনজীবি পরিষদের সদস্য অ্যাড. শাহানাজ পারভীনের সাথে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সমাবেশে যোগদান করলে গ্রেনেড হামলার শিকারে মারাত্মক আহত হন। সেখান থেকে শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে জীবনযাবন করেন কৃষকলীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য অ্যাড. গ্লোরিয়া ঝর্ণা সরকার।

 

নির্বাচনী আসনটি দাকোপ উপজেলার একটি পৌরসভা ও নয়টি ইউনিয়ন এবং বটিয়াঘাটা উপজেলার সাতটি ইউনিয়ন নিয়ে খুলনা-১ গঠিত। এলাকাটি হিন্দু সম্প্রদায়ের-অধ্যুষিত থাকায় বরাবরই ওই আসন থেকে জয় পেয়েছে আ’লীগ। ১৯৯৬ সালে এই আসন থেকে নির্বাচন করেছিলেন বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তারমধ্যে এই আসনটিতে উপনির্বাচনও হয়েছিল। এখন এ আসনে হিন্দু-মুসলিম ভোটের ফারাক তেমন না থাকায় মনোনয়ন প্রত্যাশী হয়েছেন অনেকেই। এছাড়া ১৯৯১ সালে বর্তমান জেলা আ’লীগের সভাপতি শেখ হারুনুর রশিদকে দলীয় মনোনয়ন দেওয়া হয়েছিল। বাকি তিনবার এই আসন থেকে আ’লীগের মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে হিন্দুধর্মাবলম্বী কোনো না কোনো নেতাকে। সেই থেকে খুলনা-১ নিরাপদ আ’লীগের জন্য। গত পাঁচটি জাতীয় সংসদ নির্বাচনেই এই আসনে দলের মনোনীত প্রার্থীর জয় হয়। ফলে দলীয় মনোনয়ন পেতে এবারও কয়েক জন নেতা ফরম সংগ্রহ করেছে। তারমধ্যে এবারই সর্বপ্রথম নারী প্রার্থী হিসেবে খ্রীষ্টান ধর্মাবলম্বীর অ্যাড. গ্লোরিয়া ঝর্ণা সরকার আ’লীগের মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন।

 

ইতোমধ্যে তিনি এলাকাটিতে প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের মাধম্যে দুঃস্থদের জন্য ঘর নির্মাণ, বস্ত্র বিতরণ, এলাকার রাস্তঘাটসহ বিভিন্ন অবকাঠামোগত উন্নয়নে তার ভূমিকা স্মরণীয়। সব মিলিয়ে আসন্ন নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ এ আসনে গ্লোরিয়া ঝর্ণাকে নৌকা প্রতীকের মনোনয়ন দেওয়া হলে তিনি বিজয়ী হবেন বলে আশাবাদী দাকোপ-বটিয়াঘাটার সাধারণ মানুষ।

 

আ’লীগের আইন বিষয়ক উপকমিটির সদস্য অ্যাড. গ্লোরিয়া ঝর্ণা সরকার মুঠোফোনে খুলনাটাইমসকে  বলেন, ব্যক্তিগত চেষ্টায় সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের মাধ্যমে স্থানীয় সংসদ সদস্যের বরাদ্দের বাইরে তিনি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ভবন নির্মাণ, কালভার্ট তৈরিসহ সড়ক পাকাকরণ করার জন্য তিন কোটি টাকার বরাদ্দ এনে দিয়েছেন। তিনি আরও বলেন, জাতির জনক বঙ্গন্ধুর সুযোগ্যকন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশ আজ উন্নয়নের মহাসড়কে। শেখ হাসিনা দেশের ভঙগুর অর্থনীতিকে চাঙ্গা করেছেন। দেশকে উন্নয়নের রোল মডেলে পরিণত করেছেন। অথচ আমাদের এলাকার মানুষের ভাগ্যের কোনো পরিবর্তন হয়নি। হাইব্রিড লুটেরারা শেখ হাসিনার আকাশুম্বী উন্নয়নকে ভূলুণ্ঠিত করেছে। এ থেকে এলাকাটিকে মুক্ত করার জন্য প্রার্থী হতে চাই।

গ্লোরিয়া ঝর্ণা বলেন, নৌকার মূল মাঝি শেখ হাসিনা কখনও নৌকা ভুল পথে চালান না। শেখ হাসিনা নৌকার মাঝি নির্বাচনে কখনও ভুল করেননি। আমি মনোনয়ন পেলে বিজয় ছিনিয়ে আনতে পারব বলে আশাবাদী। মনোনয়ন না পেলেও যাকেই দলীয় মনোনয়ন দেওয়া হবে, তার পক্ষে কাজ করে নৌকাকে বিজয়ী করবো।