খুলনা মেডিকেল কলেজে শিক্ষক সংকট  চরমে : ব্যাহত হচ্ছে শিক্ষা কার্যক্রম 

0
1580

কামরুল হোসেন মনি : প্রয়োজনীয় সংখ্যক অধ্যাপক ও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ছাড়াই চলছে খুলনা মেডিকেল কলেজের ফরেনসিক বিভাগ। ওই বিভাগ ছাড়াও আরো ১৯ অধ্যাপক পদ খালি রয়েছে। অনুমোদিত ১৩৫টি পদের বিপরীতে ৫৮টি পদ শুণ্য রয়েছে। শিক্ষক সংকটে কলেজের শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।
খুলনা মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডাঃ মোঃ আব্দুল আহাদ বলেন, দীর্ঘ বছর ধরে ফরেনসিক বিভাগসহ অধিকাংশই বিভাগগুলোতে অধ্যাপকের পদটি শুন্য রয়েছে। সেক্ষেত্রে কলেজের শিক্ষার্থীদের তাদের শিক্ষা কার্যক্রমও ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি এই কলেজের শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে নিতে হিমশিম খেতে হয়। যেসব অধ্যাপক চাকুরি থেকে অবসর চলে গেছেন তাদেরকে চুক্তিভিত্তিক মাধ্যমে সরকার নিয়োগের উদ্যোগ নিলে অনেকটা সংকট দুর হয়ে যেতো। প্রতি মাসেই শিক্ষক সংকটের বিষয় উল্লেখ করে মন্ত্রানালয় চিঠি পাঠানো হয়। তিনি বলেন, ফরেনসিক বিভাগে অপমৃত্যু, হত্যা, ধর্ষণসহ স্পর্শকাতর নানা জটিল বিষয় নিয়ে কাজ করা হয়। যার ফলে অধিকাংশ মেডিকেল পড়ুয়া শিক্ষার্থীরা এখানে চিকিৎসাদানে খুব বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন না। আর শিক্ষার্থীদের অনাগ্রহের ফলেই অভিজ্ঞ শিক্ষক ও দক্ষ চিকিৎসক তৈরি হচ্ছে না। খুব শিগগিরই শিক্ষক সংকটের বিষয়ে মন্ত্রণালয়ের উদ্ধর্তন কর্তৃপক্ষ পদক্ষেপ নেবে বলে তিনি আশাবাদী।
স্বাচিপ ও বিএমএ খুলনা শাখার সাধারন সম্পাদক ও খুলনা মেডিকেল কলেজের উপাধ্যক্ষ ডাঃ মেহেদী নেওয়াজ এ প্রতিবেদককে বলেন, ফরেনসিক বিভাগের অধ্যাপক পদ দীর্ঘ বছর ধরে শুন্য রয়েছে। নেই সহযোগি অধ্যাপকও। সহকারি অধ্যাপক নিয়ে কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। এতে বিভিন্ন সময় অস্বাভাবিক মৃত ব্যক্তিদের পোস্ট মোর্টম ও ভিসারা রিপোর্ট সময়মতো দিতে বিলম্ব হচ্ছে। পোস্ট মোর্টম রিপোর্ট পেলেও ভিসারা রিপোর্ট না পাওয়ায় কোন মামলার আসামির পক্ষ লোকজন ওই রিপোর্ট হাতে না পাওয়া মামলার সংক্রান্ত জামিনের ক্ষেত্রে জটিলতায় সম্মুখিন হতে হচ্ছে। এছাড়া অন্যান্য আরও গুরুত্বপুর্ন বিভাগেও অধ্যাপকের পদ খালি রয়েছে।
খুলনা মেডিকেল কলেজ অফিস সূত্র জানা গেছে, ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগসহ মোট ৩০টি বিভাগে মধ্যে অধ্যাপক, সহযোগি অধ্যাপক, সহকারি অধ্যাপক, কিউরেটর, প্রভাষকসহ  অনুমোদিত পদের সংখ্যা রয়েছে ১৩৫টি। এর মধ্যে ফরেনসিক মেডিসিন, মেডিসিন, এনাটমি, ফিজিওলজী, বায়োকেমিষ্ট্রি, প্যাথলজি, মাইক্রোবায়োলজী, ফার্মাকোলজী, কমিউনিটি মেডিসিন, কার্ডিওলজী, নিউরোলজী, সাইকিয়াট্রি, ডার্মাটোলজী, পেডিয়াট্রিক্স, সার্জারি, অর্থোসার্জারি, চক্ষু, ইএনটি, এ্যানেস্থেসিওলজী, ব্লাড-ট্রান্সফিউশন, রেডিওলজি, ও গাইনি-অবস:। এই সব বিভাগের অধ্যাপকের পদের সংখ্যা রয়েছে মোট ২৩টি। এর মধ্যে শুধুমাত্র মিডিসিন ও গাইনী-অবসঃ বিভাগ মিলে ৩ জন অধ্যাপক রয়েছেন। বাকী বিভাগে কোন অধ্যাপক নেই। এছাড়া ওই সব বিভাগগুলোতে সহযোগি অধ্যাপক, সহকারি অধ্যাপক, প্রভাষক পদ মিলে মোট ১৩৫টি পদের বিপরীতে ৭৭টি পদে কর্মরত রয়েছেন। এর মধ্যে আবার ওএসডি হিসেবে সংযুক্তিতে কর্মরত রয়েছেন ৭ জন । গত ২০১২ সালে জুন মাসে ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগে অধ্যাপক ডাঃ মোঃ শাহজান আলী পিআএল এর যাওয়ার পর ওই পদে আজও পর্যন্ত শুণ্য রয়েছে। বর্তমানে এই বিভাগে সহকারি অধ্যাপক হিসেবে ডাঃ একেএম শফিউজ্জামান রয়েছেন। বিভিন্ন মামলার স্বাক্ষী কারনে তিনি বেশির ভাগ সময় বাইরে অবস্থান করেন। আবার এ বছরে তিনি অবসরে চলে যাবেন। এছাড়া অনেক বিভাগে অধ্যাপকের পাশাপাশি সহযোগি অধ্যাপক এর পদও খালি রয়েছে।
খুলনা মেডিকেল কলেজ ও সরকারি হাসাপাতালের চিকিৎসকরা জানান, ধর্ষণের আলামত পরীক্ষা, পিতৃত্ব নির্ণয়, ময়নাতদন্ত, হত্যা না আত্মহত্যা নিশ্চিত প্রমানের জন্য ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগ কাজ করে থাকে। ওই কলেজে গুরুত্বপূর্ণ এই বিভাগে সীমাহীন শিক্ষকের ঘাটতি রয়েছে। এমনকি নারী ফরেনসিক বিশেষজ্ঞের অভাবে গাইনি চিকিৎসকের সহায়তায় ধর্ষণের শিকার মেয়েদের আলামত পরীক্ষা করা হয়।
চিকিৎসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, একটি কলেজে ফরেনসিক বিভাগ চালাতে অন্তত ১ জন অধ্যাপক, ২ জন করে সহযোগী ও সহকারী অধ্যাপক এবং ২ জন প্রভাষকসহ প্রায় ৬ থেকে ৭ জনের শিক্ষকের দরকার হয়। কিন্তু এই কলেজে শুধুমাত্র একজন সহকারি অধ্যাপক ও ৩ প্রভাষক দিয়ে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। এতে শিক্ষার্থীদের শিক্ষা কার্য্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। ##