খুলনা মহানগর ও রেঞ্জ পুলিশের যৌথ উদ্যোগে ‘পুলিশ মেমোরিয়াল ডে’ পালিত

0
113

নিজস্ব প্রতিবেদক
“কর্তব্যের তরে, করে গেল যাঁরা, আত্মবলিদান—প্রতিক্ষণে স্মরি, রাখিব ধরি, তোমাদের সম্মান।” এই স্লোগানকে ধারণ করে শনিবার (৯ই মার্চ) খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ এবং খুলনা রেঞ্জ সহ বাংলাদেশ পুলিশের সকল ইউনিটে “পুলিশ মেমোরিয়াল ডে—২০২৪” পালিত হচ্ছে।
শনিবার (৯ মার্চ) সকাল ৯টা ৩০ মিনিটে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ এবং খুলনা রেঞ্জ পুলিশের যৌথ উদ্যোগে কর্তব্যরত অবস্থায় নিহত পুলিশ সদস্যদের স্মরণে নগরীর বয়রা বাজার মোড় হতে এক বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা শুরু হয়ে বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে কেএমপি’র বয়রাস্থ পুলিশ লাইন্স মনুমেন্টে এসে শেষ হয়। অতঃপর র্যালি শেষে পুলিশ লাইন্সে স্থাপিত মনুমেন্টে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ এবং গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়। পরবর্তীতে মনুমেন্ট প্রাঙ্গণে কর্তব্যরত অবস্থায় আত্মত্যাগকারী পুলিশ সদস্যদের জন্য দোয়া করে মোনাজাত করা হয় এবং ১ মিনিট নিরবতা পালন করা হয়।
তৎপরে কেএমপি’র পুলিশ কমিশনার মোঃ মোজাম্মেল হক, বিপিএম (বার), পিপিএম—সেবা সভাপতিত্বে পুলিশ মেমোরিয়াল ডে ২০২৪ এর আলোচনা সভা শুরু হয়। উক্ত আলোচনা সভার শেষার্ধে কর্তব্যরত অবস্থায় আত্মত্যাগকারী খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের ১৩ জন এবং খুলনা রেঞ্জ পুলিশের ২৩ জন সহ সর্বমোট ৩৬ জন পুলিশ সদস্য পরিবারেকে সম্মাননা স্মারক, সনদপত্র ও উপহার সামগ্রী প্রদান করা হয়।
কেএমপি’র পুলিশ কমিশনার বক্তব্যের শুরুতে হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙ্গালি ইতিহাসের মহানায়ক ও স্বাধীনতা যুদ্ধের মহান স্থপতি বাঙ্গালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট স্বাধীনতার শত্রু কতিপয় ঘাতকের নির্মম বুলেটের আঘাতে শহীদ বঙ্গবন্ধু পরিবারের সকল শহীদের আত্মার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করে রুহের মাগফিরাত কামনা করেন। একই সাথে ১৯৭১ সালের ২৫ শে মার্চ স্বাধীনতার প্রথম প্রহরে মুক্তিযুদ্ধের প্রথম সশস্ত্র প্রতিরোধ যুদ্ধে শহীদ সকল পুলিশ সদস্য এবং কর্তব্যরত অবস্থায় আত্মত্যাগকারী সকল পুলিশ সদস্যসহ ত্রিশ লক্ষ শহীদ মুক্তিযোদ্ধার আত্মত্যাগের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করে আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং মহান মুক্তিযুদ্ধে সম্ভ্রম হারানো দুই লক্ষ মা—বোনের আত্মত্যাগকে গভীর শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন।
তিনি বক্তব্যে বলেন, “আমরা এমন এক মাসের কথা বলছি যে মাসে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন এবং এই স্বাধীনতার ঘোষণার পরেই বাংলাদেশ পুলিশ উজ্জীবিত হয়ে পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিলেন এবং অকাতরে জীবন বিসর্জন দিয়েছিলেন। আমি এই মহুর্তে সেই সকল আত্মত্যাগকারী মহান বীরদের বিজয়গাঁথা শ্রদ্ধাভরে স্মারণ করছি। বাংলাদেশ পুলিশ জাতির প্রয়োজনে সর্বদা আত্মোৎসর্গ করে হলেও জনগণের স্বার্থে এবং জনগণের পক্ষেই কাজ করে যান। সেই ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময়কালীন শুধুমাত্র রাজারবাগ পুলিশ লাইন্সেই নয় বাংলাদেশের বিভিন্ন পুলিশ লাইন্সের থানায় মহান যুদ্ধের জন্য যারা উদ্বুদ্ধ হয়েছিল তাদেরকে বাংলাদেশ পুলিশ অস্ত্র ও প্রশিক্ষণ দিয়ে সহায়তা করেছেন। আমরা জানি ২০১২ সাল থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত যখন এদেশের রাজাকার, আল—বদরদের মানবতা বিরোধী অপরাধের জন্য ফাঁসির আদেশ প্রদান করা হলো তখন মানবতা বিরোধীরা আগুন—সন্ত্রাসে উজ্জীবিত হয়েছিল। সে সময় আগুন—সন্ত্রাস মোকাবেলা করার জন্য অনেক পুলিশ সদস্য তাঁদের জীবন উৎসর্গ করেছিল। এছাড়াও, করোনাকালীন সময়ে যখন আত্মীয়—স্বজন, পরিবার, পরিজন সবাই করোনা আক্রান্ত মানুষকে পরিত্যাগ করেছিল। ঠিক তখনই পুলিশ সদস্যরাই তাদেরকে আপন মনে করে হাসপাতালে ভর্তি করেছিল এবং যারা করোনায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেছিল তাদের সৎকারের যে ব্যবস্থা সেটিও আমাদের পুলিশ সদস্যরাই করেছে। এটিই আমাদের গর্ব যে আমারা বাংলাদেশ পুলিশের সদস্য। এই সেবা করতে গিয়ে অসংখ্য পুলিশ সদস্য করোনা আক্রান্ত হয়ে জীবন উৎসর্গ করেছেন। আমরা সকলেই জানি আমাদের এক ভাই ২৮শে অক্টোবর ২০২৩ এ এদেশের গণতান্ত্রিক চেতনা এবং উন্নয়নের ধারা অব্যহত রাখতে এবং ষড়যন্ত্র রুখে দিতে জীবন দিয়েছেন। আজকে যারা জনগণের স্বার্থে জীবন উৎসর্গ করেছে এবং তাদের পরিবারের পাশে বাংলাদেশ পুলিশ সদা—সর্বদা থাকবে। পুলিশ মেমোরিয়াল ডে’র দিনে সেই আশ্বাস প্রদান করছি। বর্তমানে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু কন্যা সফল রাষ্ট্রনায়ক দেশরত্ন জননেত্রী শেখ হাসিনা সর্বদা সুখে—দুঃখে আপনাদের পাশে থাকবে। ইতোমধ্যেই তিনি ২০২০ সালে পুলিশ বাহিনী থেকে যারা অবসরে গিয়েছেন তাদের আজীবন ০২ সদস্য’র রেশনের ব্যবস্থা করেছেন। একই সাথে আপনাদের পরিবার—পরিজনের চিকিৎসা সেবা দেওয়ার চেষ্টা করছে। ৭ই মার্চে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সেই ঐতিহাসিক ভাষণ “এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম” এই মন্ত্রে দীক্ষিত হয়ে জয়লাভ হয়েছি। তাই আমরা স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র পেয়েছি এবং এদেশের শিক্ষা, বিদ্যুৎ, স্বাস্থ্য ও অবকাঠামো ক্ষেত্রে অভূতপূর্ব উন্নয়ন সাধিত হয়েছে। এই উন্নয়নের যে গতিধারা তা অব্যহত রেখে জাতির পিতার সেই সোনার বাংলা আমরা গড়তে চাই এই আশাবাদ ব্যক্ত করে এবং বিভিন্ন সময়ে যে সকল পুলিশ সদস্য দেশের স্বার্থে জনগণের স্বার্থে জীবন উৎসর্গ করেছে তাঁদেরকে প্রতি শ্রদ্ধা এবং ভালোবাসা জানিয়ে বক্তব্য শেষ করছি।”
উক্ত পুলিশ মেমোরিয়াল ডে’র র্যালী, পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ, মোনাজাত, সম্মাননা স্মারক ও সনদপত্র প্রদানে ৩য় এপিবিএন, খুলনার কমান্ডিং অফিসার মো: মাসুদ করিম; আরআরএফ, খুলনার অতিরিক্ত ডিআইজি (কমান্ড্যান্ট) নওরোজ হাসান তালুকদার; খুলনা রেঞ্জের অ্যাডিশনাল ডিআইজি (অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অ্যান্ড ফিন্যান্স) মোঃ নিজামুল হক মোল্যা; অতিরিক্ত ডিআইজি (ক্রাইম ম্যানেজমেন্ট) জয়দেব চৌধুরী, বিপিএম—সেবা; অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক এন্ড প্রটোকল) মোছাঃ তাসলিমা খাতুন; ডেপুটি পুলিশ কমিশনার (সদর) অতিরিক্ত ডিআইজি পদে পদোন্নতি প্রাপ্ত মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন; পুলিশ সুপার, নৌ পুলিশ, খুলনা অতিরিক্ত ডিআইজি পদে পদোন্নতি প্রাপ্ত মোহাম্মদ শরিফুল রহমান; খুলনা জেলার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সাঈদুর রহমান, পিপিএম (বার); ডেপুটি পুলিশ কমিশনার (প্রসিকিউশন) রিয়াজ উদ্দিন আহম্মেদ, পিপিএম; ডেপুটি পুলিশ কমিশনার (দক্ষিণ) মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম; ডেপুটি পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) মনিরা সুলতানা; ডেপুটি পুলিশ কমিশনার (আরসিডি) শাহরিয়ার মোহাম্মদ মিয়াজী; খুলনা রেলওয়ে পুলিশ সুপার মোঃ রবিউল হাসান; ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশ—৬, খুলনার পুলিশ সুপার কানাই লাল সরকার; ট্যুরিস্ট পুলিশ, খুলনার পুলিশ সুপার মো: আসাদুজ্জামান; খুলনা মহানগর মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক মোঃ আলমগীর কবির; খুলনা জেলা মুক্তিযোদ্ধ সংসদের সাবেক কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা সরদার মাহবুবার রহমান; খুলনা মহানগর কমিউনিটি পুলিশিং ফোরাম, খুলনার সভাপতি ডাঃ এ.কে.এম কামরুল ইসলাম এবং খুলনা প্রেস ক্লাবের সভাপতি এস.এম নজরুল ইসলাম—সহ খুলনাস্থ পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটের প্রতিনিধিবৃন্দ এবং কর্তব্যরত অবস্থায় আত্মত্যাগকারী পুলিশ পরিবারের সদস্যবৃন্দ এবং প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।