খুলনা মহানগরীর জলাবদ্ধতা নিরসনে নতুন মেয়রের ২৫০ কোটি টাকার প্রকল্প 

0
578

বিমল সাহা : প্রথমেই নগরীর জলবদ্ধতা নিরসনে কাজ করতে চান নব নির্বাচিত খুলনা সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আলহাজ্ব তালুকদার আব্দুল খালেক। এজন্য আড়াই’শ কোটি টাকার একটি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। এছাড়াও নতুন মেয়র নগরীর পরিচ্ছন্নতা, সড়ক সংস্কার ও নির্মাণের জন্য আলাদা প্রকল্প বাস্তায়ন করবেন বলে আশা প্রকাশ করেছেন। আগামী সেপ্টেম্বর মাসে কেসিসির বর্তমান মেয়র মনিরুজ্জামান মনি নতুন মেয়রের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করবেন। তাই আগামী অর্থ বছরের জন্য প্রস্তুতকৃত বাজেটে নতুন মেয়রের ইচ্ছা প্রাধান্য পাচ্ছে।

কেসিসি সূত্র জানায়, ২০১৮-২০১৯ অর্থ বছরের জন্য প্রায় ৫শ’ কোটি টাকার বাজেট আসছে। বাজেটে মহানগরীর জলাবদ্ধতাকে প্রধান সমস্যা হিসাবে চিহ্নিত করা হয়েছে। নতুন মেয়র সরকার দলীয় হওয়ায় আগামী বাজেটের আকারও বাড়ছে। যা বিগত সময়ের চেয়ে সবচেয়ে বড় বাজেট হতে চলেছে। এছাড়াও বাজেটে নতুন নতুন প্রকল্প অর্ন্তভুক্ত হতে পারে। যা নির্ভর করছে নব নির্বাচিত মেয়র তালুকদার আব্দুর খালেকের ওপর। ইতোমধ্যে মন্ত্রনালয় থেকে নগরীর বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে নতুন প্রকল্প অনুমোদনের চেয়ে পাঠানো হয়েছে। খুলনার মানুষের চাহিদা পূরণে বিশেষ নজর দিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশ মত সকল প্রকল্পে অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হবে। এজন্য কেসিসির প্রস্তুতকৃত আরও ৬শ কোটি টাকার মেগা প্রকল্প নুতন বাজেটে যোগ হতে পারে।

কেসিসি’র নব নির্বাচিত মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেক বলেন, নির্বাচনের আগে নগরীর প্রধান সমস্যা জলবদ্ধতা নিরসনের ঘোষণা দিয়েছিলাম। সেই লক্ষ্যে নতুন প্রকল্প তৈরী করা হয়েছে। এতে প্রায় আড়াই’শ কোটি টাকা ব্যয় হবে। ইতোমধ্যে মন্ত্রনালয় থেকে প্রকল্প পাঠাতে বলা হয়েছে। সেপ্টেম্বর মাসে মেয়রের আসনে বসার সাথে সাথে এই প্রকল্প বাস্তবায়নে কাজ করা হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
তিনি আরও বলেন, মেয়র নির্বাচনের প্রথম বছরে নগরীকে একটি পরিচ্ছন্ন নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে আলাদা প্রকল্প হাতে নেওয়া হবে। সেই সাথে নগরীর ভাঙ্গা সড়ক সংস্কারের পাশাপাশি নতুন রাস্তা নির্মাণ করা হবে।
বাজেট প্রসঙ্গে নতুন মেয়র বলেন, বর্তমান মেয়র আগামী বাজেট পেশ করবেন। এবিষয়ে বর্তমান পরিষদই সকল সিদ্ধান্ত নিবেন। তারা যে বাজেটই দেক তাতে অসুবিধা হবে না। বাজেট ছাড়াও আলাদা প্রকল্প হাতে নিয়ে তা বাস্তবায়ন করা হবে। নগরবাসীকে দেওয়া সকল প্রতিশ্রুতিই বাস্তবায়ন করা হবে বলে তিনি প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন।
কেসিসি’র কর্মকর্তাদের সাথে একটি বৈঠকের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, কিছু কর্মকর্তা আমার সাথে দেখা করেছে। তারা বিভিন্ন পাওনা পরিশোধের ব্যাপারে পরামর্শ চেয়েছে। যেসকল কাজ সঠিকভাবে সম্পন্ন করা হয়েছে আমি শুধুমাত্র সেসব বিলই পরিশোধের ব্যাপারে মতামত দিয়েছি। কাজে ত্রুটি থাকলে ঠিকাদারের সেই বিল নিতে অসুবিধা হবে বলে আমি তাদের জানিয়ে দিয়েছি।
কেসিসি’র একটি বিশেষ সূত্র জানায়, নগরী জলাবদ্ধতা নিরসনে ৬০.৬৭ কিলোমিটার ড্রেন, নগরীর ৫টি আবাসিক এলাকায় ৩১.১৩ কিলোমিটার টারশিয়ারী ড্রেন, সাড়ে ৮ কিলোমিটার খাল খনন ও পাড় বাধাই, ৭টি স্লুইচ গেট, ১টি পাম্প হাউজ নির্মাণ করা হবে। এছাড়াও ময়ূর নদীর ওপর ৩টি ব্রীজ নির্মাণ করা হবে। নতুন নর্দমা ও ড্রেন তৈরীর জন্য প্রায় ০.৬৪ একর ভূমি অধিগ্রহণ করা হবে। ১০টি পৃথক স্থানে আউটলেট খনন ও বাধাই করা হবে। এসকল কাজ সমাপ্ত হলে নগরীর জলাবদ্ধতা অনেকাংশে কমে আসবে বলে মনে করছেন সিটি কর্পোরেশন সংশ্লিষ্ট প্রকল্প কর্মকর্তাবৃন্দ।
সূত্রটি আরও জানায়, এছাড়াও নগরীর প্রায় আড়ইশ কোটি টাকা ব্যয়ে শহরে নতুন রাস্তা নির্মাণ ও পূরাতন সড়ক নির্মাণ করা হবে।