খুলনা বিভাগের ১১ জেলায় বিএনপির মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটির সম্মেলনের জোর তাগিদ হাই কমান্ডের

0
55

মফিজুল ইসলাম:
দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকার এবং নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন গঠনের আন্দোলন বেগবান করতে খুলনা বিভাগের ১১ সাংগঠনিক জেলায় মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি বিলুপ্ত হচ্ছে। আগামী ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহ থেকে পর্যায়ক্রমে এসব জেলার সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। সম্মেলন সম্পন্ন করার লক্ষে বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদকরা অক্টোবরের তৃতীয় সপ্তাহে জেলা সফর করবেন। জেলা নেতৃবৃন্দের সাথে দেড় ঘন্টা বৈঠকের পর সম্মেলনের দিনক্ষন চূড়ান্ত করবেন। এ বিষয়ে রোডম্যাপ এ মাসের শেষ দিকে হাই কমান্ডে পাঠানো নির্দেশনা রয়েছে।
দলের কেন্দ্রীয় সূত্র বলেছেন যশোর, ঝিনাইদহ, কুষ্টিয়া, চুয়াডাঙ্গা, মাগুরা, বাগেরহাট ও সাতক্ষীরায় আহবায়ক কমিটি গঠিত হয়েছে। দু’বছর আগে গঠিত আহবায়ক কমিটির মেয়াদ শেষ হয়েছে। নড়াইল, খুলনা নগর, খুলনা জেলা, মেহেরপুর ও বাগেরহাট জেলা কমিটির মেয়াদও অনেক আগেই শেষ হয়েছে। এসব কমিটি নিয়ে দলের অভ্যন্তরে মতবিরোধ সৃষ্টি হয়েছে। ছাত্রদলে প্রাক্তন নেতারা মুল দলে আসার জন্য উর্ধতন মহলে তদবির করছে।
গত ১২ অক্টোবর সন্ধ্যা ৬ টা থেকে রাত ১০ অবধি ঢাকায় কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক ও সহ-সাংগঠনিক সম্পাদকদের সাথে রুদ্ধদার বৈঠকে এর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তার আগে থানা ও ওয়ার্ড কমিটি গঠনের নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে। এ সভায় দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ভার্চুয়ালি এবং মহাসচিব ঢাকার কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে বসে সাংগঠনিক সম্পাদকদের বক্তব্য অবহিত হন। সাংগঠনিক সম্পাদকরা নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের ব্যাপারে এবং আন্দোলনমূখী কমিটি গঠনের ব্যাপারে একমত পোষণ করেন। তারা গনতন্ত্রমনা দলগুলোর বৃহত্তর ঐক্য কামনা করেন।
১০ বছর আগে যেসব কমিটি গঠিত হয়েছে সেসব কমিটির অনেকেই মারা গেছেন। নতুন নেতৃত্ব এবং আন্দোলমুখী নেতৃত্ব হাইকমান্ডের প্রত্যাশা। দলীয় প্রধান খালেদা জিয়া গ্রেফতারের পর তার মুক্তির আন্দোলন তীব্রতর না হওয়ায় তৃণমুলে তরুন নেতারা প্রবীণদের দোষারোপ করেছে। তরুণদের অভিযোগ প্রবীণরা দলে পদ আকড়ে ধরে রাথতে চায়। আন্দোলন বেগবান হোক এটা তাদের প্রত্যাশা নয়। তারা রুটিন ওয়ার্ক হিসেবে বিজয় দিবস, ¯া^ধীনতা দিবস, একুশে ফেব্রæয়ারী, দলের জন্ম বার্ষিকী, দলের প্রতিষ্ঠাতা জিয়ার মৃত্যু বার্ষিকী পালন করে নিজেদের দায়িত্ব শেষ করেন।
এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক নজরুল ইসলাম মঞ্জু খুলনা টাইমসকে বলেন, ওয়াডর্, ইউনিয়ন, পৌর, উপজেলা ও জেলা কমিটির সম্মেলন পর্যায়ক্রমে অনুষ্ঠিত হবে। ঢাকাতে জেলা নেতৃবৃন্দের সাথে পৃথক পৃথক বৈঠক করে সম্মেলনের দিনক্ষন ঠিক করা হবে। প্রতিটি ইউনিটের সাথে দেড় ঘন্টাকাল বৈঠক হবে। ক্লিন ইমেজের ব্যক্তিদের দলের নতুন নেতৃত্বে আনা হবে। পুলিশ প্রশাসন জাঁকজমক পূর্ন পরিবেশে সম্মেলন করার সুযোগ না দিলে কর্মী সভার মাধ্যমে কাউন্সিল ডেকে নতুন নেতৃত্ব নির্বাচন করা হবে। সরকার পতনের আন্দোলনে নতুন নেতৃত্বে আন্দোলনমূখী নেতৃত্ব হাই কমান্ডের প্রত্যাশা। এব্যাপারে কোনো আপোষ নেই। সামনের লড়াই নির্দলীয় সরকার ও নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন। এ নির্বাচন কমিশনের অধিনে ইউনিয়ন পরিষদ. পৌরসভা ও জাতীয় সংসদের উপ-নির্বাচন তামাশায় পরিণত হয়েছে। গনতন্ত্রমনা মানুষ নির্বাচনের দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে। দলীয় তলপিবাহক নির্বাচন কমিশনের উপর জনগনের আস্তা নেই।