খুলনা বিএনপি : এবার বকুলের ডেরাতেই হানা মঞ্জু সমর্থিত গ্রæপের

0
64
খুলনা বিএনপি : বকুলের ডেরাতেই এবার হানা মঞ্জু সমর্থিত গ্রæপের

নিজস্ব প্রতিবেদক:
খুলনায় বিএনপি নেতা রফিকুল ইসলাম বকুলের ডেরাতেই এবার হানা দিয়েছে নজরুল ইসলাম মঞ্জু সমর্থিত গ্রæপ। বকুল ঘাঁটি বলে সমাদৃত খালিশপুর থানা বিএনপি ও অন্তর্গত ৯টি ওয়ার্ড এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠন থেকে মঞ্জুপন্থী ৩ শতাধীক নেতাকর্মী পদত্যাগ করেছেন। কেন্দ্রীয় বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদকের পদ থেকে নজরুল ইসলাম মঞ্জুকে অব্যহতি দেওয়ার প্রতিবাদে সোমবার (২৭ ডিসেম্বর) সন্ধ্যা ৬টায় খালিশপুর থানা শাখার সভাপতি এড. ফজলে হালিম লিটনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জরুরী সমন্বয় সভায় তাৎক্ষণিক পদত্যাগ করেন উপস্থিত নেতাকর্মীরা।
একইদিন খুলনা সদর ও সোনাডাঙ্গা থানার ১৬টি ওয়ার্ড ও অঙ্গ সংগঠনের ৫৬১ নেতা-কর্মি এবং ৩০নং ওয়ার্ডের ১৬ জন পদত্যাগ করেন। মঞ্জুকে অব্যহতি দেওয়ার প্রতিবাদে সবমিলিয়ে সহ¯্রাধিক নেতাকর্মী এনিয়ে পদত্যাগ করলেন। যদি কেন্দ্রের হস্তক্ষেপে কখনো ত্যাগী ও যোগ্য নেতৃত্বের সঠিক মূল্যায়ন হয়, তবেই পূর্বের ন্যয় দলের দায়িত্ব নিয়ে কাজ করবেন বলে পদত্যাগকারী নেতাকর্মীরা জানান।
সূত্রমতে, খালিশপুর থানা বিএনপি ও অন্তর্গত ৯টি ওয়ার্ড এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের জরুরী সমন্বয় সভায় খুলনা মহানগর বিএনপি’র বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে বিষদ আলোচনায় হয়। সভায় জানানো হয় যে, গত ৯ ডিসেম্বর কেন্দ্র থেকে খুলনা মহানগর ও জেলা বিএনপির অপূর্ণাঙ্গ আহবায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে, তাতে খালিশপুর থানা বিএনপি ও তার অন্তর্গত ৯টি ওয়ার্ড বিএনপি, অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের শত শত নেতাকর্মী হতবাক, বিস্মিত ও ক্ষুব্দ হয়েছে। খুলনা মহানগরীতে সরকার বিরোধী আন্দোলনে শত শত নেতাকর্মী মার খেয়েছে, গুলিবিদ্ধ হয়েছে, মাসের পর মাস জেল খেটেছে। অথচ মহানগর, থানা ও ওয়ার্ড বিএনপি’র নেতৃত্বে থাকাসেই পরীক্ষিত, পরিচ্ছন্ন ইমেজের অধিকারী, ত্যাগী, সংগ্রামী ও সর্বস্তরের গ্রহণযোগ্য নেতৃত্বকে বাদ দিয়ে, বছরের পর বছর দলের সাথে ছিলেন না, মহানগর বিএনপি’র পূর্বের কমিটিকে চ্যালেঞ্জ করে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্তির আন্দোলনকে বাধাগ্রস্থ করেছিল, দল তাদের বিরুদ্ধে দলীয় শৃংখলা পরিপন্থি কার্যকলাপের জন্য শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি, উপরুন্তু তাদেরকে পুরুষ্কৃত করে দলীয় শৃংখলা ভঙ্গ করার জন্য উৎসাহিত করা হয়েছে। এবং বর্তমা অপূর্ণাঙ্গ আহবায়ক বাতিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, যা কোন অবস্থাতেই তারা করতে পারেন না এবং তাদের এমন কর্মখান্ডের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ অতীব জরুরী।
খুলনা মহানগর বিএনপির সাবেক সভাপতি, কেন্দ্রীয় বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক, সাবেক সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম মঞ্জু ৪৪ বছরের পরীক্ষীত এক জননেতা যিনি দলীয় নেতাকর্শীকে বিপদে-আপদে, সুখে-দু:খে আগলে রেখে একজন নির্ভরযোগ্য অভিভাবকের আসনে সমহিত হয়েছেন। শুধু খুলনায় নয়, সমগ্র দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল-সহ জাতীয় পর্যায়ে তার একটি গ্রহণযোগ্যতা ও ইতিবাচক ভাবমূর্তি তৈরী হয়েছে। এই বিশ^স্ত নেতার প্রতি দল যে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে তাতে আমরা ভীষণ মর্মাহত হয়েছি। তাই যোগ্য নেতৃত্বেও অবমূল্যায়নের কারণে আমরা খালিশপুর থানা বিএনপি ও তার অন্তর্গত ৯টি ওয়ার্ড এবং সকল অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ দলের পদ-পদবী থেকে পদত্যাগ করছি। সাথে সাথে আমরা কেন্দ্র ঘোষিত খুলনা মহানগর বিএনপির অপূর্ণাঙ্গ আহবায়ক কমিটির সকল কর্মখান্ড থেকে নিজেদেও বিরত রাখছি।
আমরা নানা চড়াই-উৎরাই পেরিয়ে দীর্ঘদিন রাজনীতি করছি। বিএনপির আদর্শে ছিলাম, আছি এবং থাকবো। যদি কেন্দ্রের হস্তক্ষেপে কখনো ত্যাগী যোগ্য নেতৃত্বের সঠিক মূল্যায়ন হয়, তাহলে পূর্বের ন্যয় দলের দায়িত্ব নিয়ে কাজ করবো।
সভায় বক্তৃতা করেন খালিশপুর থানা বিএনপি’র সহ-সভাপতি ও খুলনা নিউজপ্রিন্ট মিলস এমপ্লয়ীজ ইউনিয়নের (রেজি:নং-৮১২) সাবেক সভাপতি মো: নিজাম-উর-রহমান লালু, খালিশপুর থানা বিএনপি’র উপদেষ্টা ও খুলনা মহানগর জাসাস’র যুগ্ন-আহবায়ক মো: শামসুর রহমান, খালিশপুর থানা বিএনপি’র যুগ্ম-সম্পাদক কাজি শফিকুল ইসলাম শফি, থানা বিএনপি’র সহ-সভাপতি ও ১২নং ওয়ার্ড বিএনপি সভাপতি এইচএম আবু সালেক, ১১নং ওয়ার্ড বিএনপি সভাপতি ও থানা বিএনপির সহ-সভাপতি আশরাফ হোসেন, ৮নং ওয়ার্ড বিএনপি সভাপতি ও থানা শাখার সহ-সভাপতি কাজী মাহবুবুল হক, ১৫নং ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সভাপতি ও থানার সহ-সভাপতি আলমগীর হোসেন বাদশা, খালিশপুর থানা বিএনপি’র সাবেক সদস্য সচিব সজ্জাদ আলী, থানা বিএনপি’র উপদেষ্টা মো: আলী ফকির, ১৩নং ওয়ার্ড বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক ও থানা বিএনপির কোষাধ্যক্ষ ইমতিয়াজ আলম বাবু, ১০নং ওয়ার্ড বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক ও থানা বিএনপির তথ্য সম্পাদক মিজানুর রহমান খোকন, ১৪নং ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও থানা বিএনপিরযুগ্ম-সম্পাদক মনিরুজ্জামান মনি, খুলনা মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম-আহবায়ক কাজী ফজলুল করিম টিটু, খুলনা মহানগর জাসাস’র যুগ্ম-আহবায়ক শাহনাজ পারভীন, খুলনা মহানগর জাসাস’র যুগ্ম-আহবায়ক ও থানা বিএনপির প্রচার সম্পাদক এসএম জসীম উদ্দিন, থানা বিএনপির সিনিয়র সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ও ১৫নং ওয়ার্ড বিএনপির যুগ্ম-সম্পাদক কাজী ইকরাম মিন্টু, ৯নং ওয়ার্ড বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক কাজী শামীম, ১৫নং ওয়ার্ড বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক বাবুল মুন্সি, ১৪নং ওয়ার্ড বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শহিদুল ইসলাম, ১২নং ওয়ার্ড বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক নূর-এ আব্দুল্লাহ, ১৩নং ওয়ার্ডের সাংগঠনিক সম্পাদক বারেক হাওলাদার, ১৪নং ওয়ার্ড বিএনপির যুগ্ম-সম্পাদক ও থানা বিএনপির যোগাযোগ সম্পাদক কালাম হোসেন, ১৪নং ওয়ার্ড বিএনপির যুগ্ম-সম্পাদক আবু হোসেন আবু, খালিশপুর থানা শ্রমিক দলের সহ-সম্পাদক জাফর হাওলাদার, খালিশপুর থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক যুগ্ম-আহবায়ক কাজী সেলিম, খালিশপুর থানা শ্রমিক দলের সহ-সম্পাদক আব্দুল মালেক, বিএনপি নেতা কাজী মিজানুর রহমান তারা, জাহিদুল ইসলাম মল্লিক, শেখ আব্দুল খালেক, মো: ইউসুপ আলী, হেমায়েত উদ্দিন, মঞ্জুরুল ইসলাম টিটু, আলতাফ হোসেন, শহীদ মহিউদ্দিন বাবু, দেলোয়ার হোসেন, নজরুল ইসলাম, করিম বাবু, ইসমাইল হোসেন, মজিবর রহমান, আশিকুর রহমান আশিক, হাফিজার শেখ, আব্বাস ফকির, সাবেক ছাত্রনেতা মনিরুল ইসলাম মনির, শহিদুল ইসলাম বাবু, গোলাম রাব্বি, আবুল কালাম, আব্দুল হালিম, মোকলেসুর রহমান, মনির হোসেন, আসাদুজ্জামান আসাদ, জামাল হোসেন ভুট্টো, রফিকুল ইসলাম সুমন, শাহীন পাটোয়ারী প্রমুখ।

এর আগে কেন্দ্রীয় বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদকের পদ থেকে নজরুল ইসলাম মঞ্জুকে অব্যহতি দেওয়ার প্রতিবাদে খুলনা সদর ও সোনাডাঙ্গা থানার ১৬টি ওয়ার্ড ও অঙ্গ সংগঠনের ৫৬১ নেতা-কর্মি পদত্যাগ করেন। রবিবার (২৬ ডিসেম্বর) গণমাধ্যমে প্রেরিত খবর বিজ্ঞপ্তিতে আরিফুজ্জামান অপু ও আসাদুজ্জামান মুরাদ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। পদত্যাগকারী নেতারা হলেন মহানগর যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও সোনাডাঙ্গা থানা বিএনপির উপদেষ্টা ইস্তিয়াক উদ্দিন লাভলু, জাসাস আহবায়ক মেহেদী হাসান দিপু, মহানগর বিএনপির দপ্তর সম্পাদক মহিবুজ্জামান কচি, শিল্প বিষয়ক সম্পাদক সাবেক কাউন্সিলর গিয়াস উদ্দিন বনি, সদর থানা বিএনপির যোগাযোগ সম্পাদক সেলিম বড় মিয়া, সোনাডাঙ্গা থানা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ইকবাল হোসেন খোকন, এস এম শাহজাহান, সাদিকুর রহমান সবুজ, শেখ শওকত হোসেন, সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান মুরাদ, ১৬নং ওয়ার্ডের সভাপতি শেখ জামিরুল ইসলাম জামিল, সাধারণ সম্পাদক শেখ মোস্তফা কামাল, ১৭নং ওয়ার্ডের সভাপতি শেখ ফারুক হোসেন, সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান সোহাগ, আব্দুল হাকিম, ১৮নং ওয়ার্ডের সাধারণ সম্পাদক শেখ আব্দুল আলিম, ১৯নং ওয়ার্ডের সভাপতি এস আকরাম হোসেন খোকন, সাধারণ সম্পাদক সরদার রবিউল ইসলাম রবি, ২০নং ওয়ার্ডের সাধারণ সম্পাদক মহিউদ্দিন টারজান, ২৫নং ওয়ার্ডের সভাপতি নজরুল ইসলাম বাবু, সাধারণ সম্পাদক আনিচুর রহমান আরজু, ২৬নং ওয়ার্ডের সিনিয়র সভাপতি শেখ মনিরুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ বদরুল আলম বাচ্চু, হেদায়েত হোসেন হেদু, কাজী নজরুল ইসলাম, মীর মোসলেহ উদ্দিন বাবর, সাংগঠনিক সম্পাদকদ্বয় ওহেদুজ্জামান অহিদ, লিটু পাটোয়ারী, তুষার আলম, শেখ মারিফ, মোস্তফা জামাল মিন্টু, মো. হুমায়ুন কবিরসহ ২৫০ নেতাকর্মি। খুলনা সদর থানা বিএনপির সভাপতি আব্দুল জলিল খান কালাম, সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক আরিফুজ্জামান অপু, সাংগঠনিক সম্পাদক ইউসুফ হারুন মজনু, ২১নং ওয়ার্ডের সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ কামাল উদ্দিন, ২৪নং ওয়ার্ডের সভাপতি কাউন্সিলর শমসের আলী মিন্টু, সহ সভাপতি ওমর ফারুক ও ডা. আব্দুস সালাম, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মতিন, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. হুমায়ুন কবির, ২৭নং ওয়ার্ডের সভাপতি হাসান মেহেদী রিজভী, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল জব্বার, সাংগঠনিক সম্পাদক জাকারিয়া লিটন, ২৮নং ওয়ার্ডের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ইশহাক তালুকদার,সহসভাপতি মাসুদ খান বাদল, যুগ্ম-সম্পাদক শাহীন গাজী, ২৯নং ওয়ার্ডের সাধারণ সম্পাদক মেজবাহ উদ্দিন মিজু, সিনিয়র সহসভাপতি খান শহিদুল ইসলাম, সহসভাপতি মোহাম্মদ আলী মিঠু, সাংগঠনিক সম্পাদক জাহাঙ্গীর হোসেন, ৩০নং ওয়ার্ডের সাধারণ সম্পাদক তৌহিদুল ইসলাম খোকন, সহসভাপতি গাজী শাহাদাৎ হোসেন, যুগ্ম-সম্পাদক মতিয়ার রহমান বুলেটসহ ৩১১ নেতাকর্মি।
উল্লেখ্য, কেন্দ্রীয় বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদকের পদ থেকে নজরুল ইসলাম মঞ্জুকে অব্যহতি দেওয়ার প্রতিবাদে খুলনা সদর থানার ৩০নং ওয়ার্ড বিএনপির ১৬ নেতা-কর্মি পদত্যাগ করেছেন। সোমবার (২৭ ডিসেম্বর) গণমাধ্যমে প্রেরিত খবর বিজ্ঞপ্তিতে সদর থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক আরিফুজ্জামান অপু এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। পদত্যাগকারী নেতারা হলেন ৩০নং ওয়ার্ড বিএনপির সহসভাপতি নুরুল ইসলাম লিটন, কাজী সেলিম, আব্দুল করিম, মহিউদ্দিন মঈন, মো. ফারুক হোসেন, ইয়াকুব আলী বাহার, মেজবাউল আক্তার পিন্টু, এস এম মাসুম তানভীর প্রিন্স, আবু তালেব হোসেন, মো. আল আমিন, পারভেজ আহমেদ খান, মো. শাহআলম, মো. মামুন রেজা, আবু বক্কর সিদ্দিক, মো. বাদল আকন ও দেলোয়ার হোসেন।

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here