খুলনা বিএনএসবি চক্ষু হাসপাতাল পর্যবেক্ষনে উর্ধতন কর্তা ব্যক্তিরা

0
502

ফুলবাড়ীগেট(খুলনা)প্রতিনিধি:
খুলনার শিরোমণি বিএনএসবি চক্ষু হাসপাতালের এ্যাডমিনিস্ট্রেটর মাহমুদুল হাসান তারিফ গত ১০ জুন অভয়নগর থানা পুলিশের হাতে আটক হওয়ার পর বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশের পর হাসপাতালের সুনাম ক্ষুন্ন এবং প্রতিষ্ঠানকে মাদকমুক্ত করার দাবীতে আন্দোলনে নামে হাসপাতালের সর্বস্থরের ডাক্তার-কর্মকর্তা ও স্টাফরা। হাসপাতালের সেবা কার্যক্রম চালু রেখে পালন করেন বিভিন্ন কর্মসুচি। আন্দোলনের মুখে হাসপাতালে কর্তৃপক্ষ কৌশলী হয়ে মাহমুদুল হাসানকে হাসপাতালে অনুপস্থিতির জন্য সাময়িক সাসপেন্ড করেন। মাদক মামলায় জেলহাজতে থাকা মাহমুদুলের বিরুদ্ধে কর্তৃপক্ষের অফিস অর্ডার দেখে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করে মাহমুদুলের বিরুদ্ধে মাদকসেবন, নারী কেলেঙ্গারী, ক্ষমতার অপব্যবহার করে কয়েকজনকে চাকুরীচ্যুৎ সহ বিভিন্ন অভিযোগে তুলে হাসপাতালের চেয়ারম্যানের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন হাসপাতালের প্রায় সকল ডাক্তার-স্টাফ। দাবী উঠে মাদকের পক্ষ অবলম্বনকারী পরিচালক এবং মাহমুদুল হাসান তারিফকে অপসারনের। ভিতরে স্টাফ এবং প্রতিষ্ঠানের গেটের বাইরে এলাকাবাসী আন্দোলন শুরু করে। আন্দোলন ঠেকাতে সাইফুর রহমানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে এবং মাহমুদুলকে রক্ষায় গঠন করা হয় তদন্ত কমিটি। কমিটির সদস্যদের সাথে মাহমুদের ঘানিষ্ট সম্পর্ক থাকায তদন্ত কমিটি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
২৫জুন দুপুরে মতবিনিময় করে আন্দোলন কর্মসুচি ঘোষনা করা হবে এই খবরে জামিনে মুক্তি পেয়ে ঐদিন সকাল সাড়ে ১১টার দিকে মাহমুদুল হাসান তারিফ একটি প্রাইভেট কার এবং ৪/৫টি মোটরসাইকেল করে বহিরাগত নিয়ে হাসপাতালের মধ্যে প্রবেশ করে পরিচালকের কক্ষে অবস্থান নেয়। কিছু পরে হাসপাতালের মাইক্রোতে হাসপাতালের ম্যনিজিং কমিটি সদস্য (প্যানেল মেয়র-৩) মেমোরী সুফিয়া রহমান শুনু এবং হালিমা ইসলাম হাসপাতালে উপস্থিত হলে আন্দোলনকারীদের সাথে বাকবিতন্ডায় জড়িয়ে পড়ে। চরম উত্তেজনা খানজাহান আলী থানা পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনেন। আন্দোলনকারীদের নেতা ডাঃ বিএম সাইফুর রহমানের বিরুদ্ধে আটটি অভিযোগ তুলে তাকে শোকাজ করা হয়। তিনি আটটি অভিযোগের জবাব দেওয়ার পর কর্তৃপক্ষ জবাব সন্তোষজনক নয় বলে তার বিরুদ্ধে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। আন্দোলনকারীরা বলছে আন্দোলন ঠেকাতে সাইফুর রহমানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা এবং মাহমুদুলকে রক্ষায় গঠন করা হয়েছে প্রশ্নবৃদ্ধ তদন্ত কমিটি। তাদের দাবী আন্দেলন চলাকালে মাহমুদুলের পক্ষ নিয়ে কমিটির আহবায়ক শুনু এবং সদস্য হালিমা দুই দফা হাসপাতালে এসে আন্দোলনকারীদের সাথে অসৌজন্যমূলক আচারণ অনেকের চাকুরী খাওযার হুমকি প্রদান করে পরিস্থিতি উত্তপ্ত করে। তাছাড়া হাসপাতাল চেয়ারম্যান কর্তৃক গঠিত তদন্ত কমিটির ঐ দুই সদস্যের সাথে মাহমুদুল হাসানের পুর্বের থেকে ঘনিষ্ট সম্পর্কের প্রমান ও মিলেছে মাহমুদুলের ফেজবুক আইডিতে। একটি পোষ্টে মাহমুদুল এবং মেমোরী সুফিয়া রহমান শুনুর সাথের ছবির ক্যাপশনে মাহমুদুল লিখেছেন আমার প্রিয় আপনজন প্যানেল মেয়র শুনু আপা। এই শুনু আপাকে তদন্ত কমিটির আহবায়ক করা হয়েছে অপর সদস্য হালিমা সম্পর্কে তিনি তার ফেজবুক পেজে লিখেছেন শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার একজন মানুষ হালিমা আপা। তদন্ত কমিটির অপর সদস্য হাসপাতালের পরিচালক যাকে অপসারণের জন্য আন্দোলন চলছে। সাইফুর রহমান তদন্ত কমিটি প্রত্যাক্ষাণ করে নিরপেক্ষ ব্যক্তিদের মাধ্যমে তদন্ত করার জন্য আহবান জানিয়েছেন।
সর্বশেষ গতকাল শুক্রবার সকাল ১১টায় হাসপাতালের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষনে আসেন ডিসি নর্থ মোঃ জাহাঙ্গীর হোসেন, পরিচালনা পর্যদের সদস্য ফুলতলা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ্জ শেখ আকরাম হোসেন, হাসপাতালের ট্রেজারার সৈয়দা ড. লুৎফুন্নেছা, খানজাহান আলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ শফিকুল ইসলম. খানজাহান আলী থানা আওয়ামীলীগের সভাপতি শেখ আবিদ হোসেন। তারা হাসপাতালের পরিচালক এবং ডাক্তার-ষ্টাফদের সাথে কথা বলেন।